• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    আওয়ামী লীগের চমক সর্বত্রই নতুন নেতৃত্ব

    ডেস্ক | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৮:০১ পূর্বাহ্ণ

    আওয়ামী লীগের চমক সর্বত্রই নতুন নেতৃত্ব

    সব ক্ষেত্রেই চমকের ছড়াছড়ি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান মিলেছে নতুন ৩১ জনের। শুধু তাই নয়, একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন দলটির অর্ধশত নতুন মুখ।

    পাশাপাশি সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪৩টির মধ্যে ৪১টিতেই যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, তাদের সবাই একেবারেই নতুন। এছাড়া আসন্ন উপজেলা পরিষদের প্রথম দু’ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২০৯টির মধ্যে ১২৮টিতে নতুনদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

    সব মিলিয়ে নতুনদের নেতৃত্বের অগ্রাধিকার দিয়ে সবার কাছে জনপ্রিয় ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের তুলে আনছেন টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    দলটির নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক বিশ্লষকদের অভিমত, তারুণ্য নির্ভরতা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সুদূর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মূলত নেয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ। এটিই খুবই ইতিবাচক। এতে সমাজে নতুন শক্তির সঞ্চার করবে। দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনে এ নতুন প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    ‘নতুন নেতৃত্ব দেশ ও সমাজে নতুন শক্তির সঞ্চার ঘটাবে’-এমন মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটি সরকারের একটি ইতিবাচক দিক।

    সমাজে বৈপ্লবিক উন্নয়নের শক্তি। তিনি বলেন, পুরনোদের অনেকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। দলে ও সরকারে দুর্নাম আছে। এ থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। নতুনদের ক্ষমতায়নে দেশ ও সমাজের সব পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করি।

    ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর নতুন মন্ত্রিসভায় বিশাল চমক দেখান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৭ জানুয়ারি গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার ৪৭ জনের মধ্যে ৩১ জনই নতুন। আওয়ামী লীগ, মহাজোট ও ১৪ দলের প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ পুরনোদের ৩৬ জন নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন।

    আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, উদ্যমী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কারণেই নতুনরা মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। মন্ত্রিসভা গঠনে শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।

    উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মেধাবী, উদ্যমী, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং পরিশ্রমী এক ঝাঁক তরুণকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে এবং হেভিওয়েটদের বাদ দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

    নির্মোহভাবে গঠন করা হয়েছে মন্ত্রিসভা। একইভাবে সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের ৪৩টি আসনের ৪১টিতেই নতুন মুখকে স্থান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাদ পড়েছে দলটির পুরনো ৪২ সংরক্ষিত এমপির মধ্যে ৪০ জনই।

    এই চ্যালেঞ্জে আরও যোগ হলো উপজেলা নির্বাচনেও একঝাঁক নতুন মুখ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নতুনদের বিকল্প নেই বলেও জানান তারা।

    অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেন এমন পরিবর্তন-এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, তারুণ্য এবং মহিলাদের সবসময় বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ।

    এরই অংশ হিসেবে এবার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভায় নতুনদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। একই কারণে সংরক্ষিত মহিলা আসন ও উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে নতুনরাই প্রাধান্য পেয়েছে।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সর্বদা তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচিত করে। ১. এলাকায় জনপ্রিয়তা, ২. দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও দলের জন্য ত্যাগ এবং ৩. যে কাজের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হচ্ছে সে কাজে তার সক্ষমতা। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন, মন্ত্রিসভা গঠন, সংরক্ষিত মহিলা এমপি মনোনয়ন ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন এ তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

    নতুন মুখ অর্থ অনভিজ্ঞ নয়-এমন মন্তব্য করে ফারুক খান বলেন, নতুন যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের সবাই অভিজ্ঞ। দলে অনেক শ্রম দিয়েছেন। অনেকের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অনেক পুরনো। তারা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ করেই আজকের এই জায়গায় এসেছে। তবে যেসব আসনে স্থান দেয়া হচ্ছে, হয়তো সেই নেতৃত্বের জায়গায় সে নতুন মুখ।

    আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলনেও দলীয় নেতৃত্বে অনেক নতুন মুখ আসবে- এমন তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি সম্মেলনেই গড়ে ৩০ ভাগ নতুনরা আসছেন। আগামী সম্মেলনেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

    আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, তরুণরা নতুন করে অনেক কিছু ভাবতে পারে। তাদের চিন্তা-চেতনা অনেক তীক্ষ্ণ। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে স্থান দেয়া হচ্ছে।

    পুরনোদের বাদ দেয়া হয়নি বরং দায়িত্বে রদবদল হয়েছে- এমন মন্তব্য করে ফারুক খান বলেন, যারা এমপি, মন্ত্রী, মহিলা এমপি এবং উপজেলা জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে নেই, এখন তারা দলের দায়িত্ব পালন করবেন।

    দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবেন। আমরা দল এবং সরকারকে এভাবেই পরিচালনা করতে চাই। দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিতেই আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মহৎ উদ্যোগ।

    প্রথম দুই পর্বের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেয়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ২০৯ জন দলীয় প্রার্থীর মধ্যে ১২৮ জনই নতুন মুখ। এর মধ্যে প্রথম পর্বের ৮৭ জনের মধ্যে ৫৩ জন এবং দ্বিতীয় পর্বে ১২২ জনের মধ্যে ৭৫ জন।

    পাঁচ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে আগামী ১০ মার্র্চ। দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ৪৮০টিতে এবার ভোট হচ্ছে। প্রথম ধাপে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের ৮৭ উপজেলায় ভোট হবে।

    প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় আজ সোমবার। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে পরদিন মঙ্গলবার। প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৬ ফেব্রুয়ারি। মার্চ মাসেই পরবর্তী চারটি ধাপের ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ হবে ভোট। পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে ১৮ জুন।

    নতুনদের মনোনয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, দলে যারা দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতি করছেন তারাই বিভিন্ন নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন।

    জনপ্রিয়তা, দলের জন্য ত্যাগ, বিভিন্ন জরিপ রিপোর্ট দেখে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ আছে, পারফরম্যান্স ভালো না কেবল তাদেরই বাদ দেয়া হয়েছে।

    গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম পারভেজ সেলিম। তিনি জানান, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে নির্যাতন, নিপীড়ন, হামলা, মামলা ও কারাবরণ করেছি।

    দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারই পুরস্কার হিসেবে আমাকে নৌকা মার্কা উপহার দিয়েছেন। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার নদী ভাঙা, চর এলাকা থেকে শুরু করে ফুলছড়ির আপামর জনতা নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়া করবে বলে আশা করি।

    একই জেলার পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান (২০০৯-২০১৪ সাল) একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ জানান, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও পলাশবাড়ির জনগণের চাহিদা ছিল তাকে মনোনয়ন দেয়ার।

    দলীয় সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের সেই চাহিদা পূরণ করেছেন। এজন্য তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে নেত্রী যে ভূমিকা রাখছেন আমার এলাকায় সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করতে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তা এগিয়ে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখব।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    গৃহবধূ থেকে শিল্পপতি

    ২২ এপ্রিল ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী