• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় রাজাকার পুত্র

    ডেস্ক | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

    উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় রাজাকার পুত্র

    আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে সিলেটের ১১টি উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগ যে ৫২ জনের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তালিকায় চিহ্নিত রাজাকারপুত্রসহ পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের নামও রয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান পদের এই তালিকা নিয়ে সিলেটে মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বাছাই করতে বর্ধিত সভা করে জেলা আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রে জমা দেয়া এ তালিকার মধ্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী ও জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান উদ্দিন আহমদকে একক প্রার্থী করা হয়েছে।

    এছাড়া সদর উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ এবং অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, অধ্যক্ষ শাসুলল ইসলাম, প্রকৌশলী এজাজ আহমদ এজাজ, অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিরাজী ও নিজাম উদ্দিনের নাম রয়েছে।

    বালাগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর ও আনহার মিয়া, বিশ্বনাথ উপজেলার এসএম নুনু মিয়া ও অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আবু জাহেদ এবং মঈনুল ইসলাম, সাইফুল আলম, বদরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শামীম আহমদ, শামীম ইকবাল, কানাইঘাট উপজেলায় মোস্তাক আহমদ পলাশ, আব্দুল মুমিন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম রানা, আবুল খায়ের চৌধুরী, শামীম আহমদ ও তারেব হাসান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মোহাম্মদ আলী দুলাল, আফতাব আলী কালা মিয়া, ইয়াকুব আলী, জাহাঙ্গীর আলম, শামীম আহমদ ও মজির উদ্দিন, গোয়াইনঘাট উপজেলায় গোলাম কিবরিয়া হেলাল, ফারুক আহমদ, গোলাপ মিয়া ও লুৎফুর রহমান লেবু, জৈন্তাপুর উপজেলায় লিয়াকত আলী, কামাল আহমদ, অ্যাডভোকেট মুহিবুর রহমান ও আলতাফ মিয়ার নাম রয়েছে।

    বিয়ানীবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চাচ্ছেন ১১ জন। তারা হলেন-আব্দুল হাসিব মনিয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান এবং জাকির হোসেন, দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, শামীম আহমদ, আব্দুল বারি, আবুল কাসেম পল্লব, মাহমুদ আলী, জামাল হোসেন, আলী হোসেন ও ময়েজ আহমদ।

    এদের মধ্যে জৈন্তাপুরে লিয়াকত আলী, কোম্পানীগঞ্জে শামীম আহমদ ও কানাইঘাটে মোস্তাক আহমদ পলাশের নাম থাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে সিলেটে। স্থানীয় নেতারা জানান, লিয়াকত আলী গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন, হুট করেই তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। দৌলা হত্যাকাণ্ডের পর জৈন্তাপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদকের পদটিও বাগিয়ে নেন তিনি।

    দৌলা হত্যাকাণ্ডে লিয়াকত আলীকেই সন্দেহ করছে নিহতের পরিবার। লিয়াকত সাধারণ সম্পাদক হয়েই লুটপাটে নামেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে জাফলংয়ে পরিবেশ ধ্বংসকারী বোমা মেশিন চালিয়ে ধ্বংস করা হয় পিয়াইন ও ডাউকি নদী।

    অন্যদিকে লিয়াকত আলীর বাবা জৈন্তাপুরের চিহ্নিত রাজাকার ওয়াজিদ আলী টেনাই বলে জানা গেছে। এ কারণে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা দির্ঘদিন ধরেই তাকে দলে না রাখার দাবি জানাচ্ছিলেন।

    তার বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর পাথর কোয়ারিতে খুন এবং সাংবাদিক নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের আরেক চিহ্নিত পরিবেশ ধ্বংসকারী শামীম আহমদকেও রাখা হয়েছে তালিকায়।

    তার বিরুদ্ধে নদী ধ্বংস করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, সরকারি সম্পদ লুটসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি অভিযোগপত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। রয়েছে জননিরাপত্তা ভঙ্গের মামলাসহ বহু মামলা।

    অন্যদিকে কানাইঘাটে লোভাছড়া কোয়ারী ইজারা নিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে মোস্তাক আহমদ পলাশের বিরুদ্ধে। লিয়াকতের মনোনয়ন নিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চৌধুরী জুয়েল বলেছেন, খবরটি তিনি শুনেছেন। দ্রুতই একটি নিন্দা প্রস্তাব দেব আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, যাতে করে রাজাকারের সন্তানরা কোনো ভাবেই দলীয় মনোনয়ন না পায়।

    সিলেটের সিনিয়র আইনজীবী বেদানন্দ ভট্টাচার্য বলেন, ভোটের হিসাব মেলাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ বরাবরই ভাবাদর্শগত অবস্থান থেকে সরে যায়। ১৯৭১ সালের পরে তারা রাজাকারদের সাধারণ ক্ষমা করে মুক্তি দেয়।

    সেখানেও ছিল ভোটের হিসাব। বর্তমানে রাস্তার আর রাজনৈতিক মাফিয়া দিয়ে চলছে দল। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা’র সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম চৌধুরী কীম বলেন. সম্প্রতি হাইকোর্ট নদী দখলদার আর দূষণকারীদের বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। বলা হয়েছে নদী দখল ও নদী ধ্বংসকারীরা নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। সেই হিসেবে শামীম, লিয়াকত, মোস্তাক আহমদ পলাশকে তালিকায় রাখা লজ্জাকর।

    সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনা একটি দলের রাজনৈতিক দেওলিয়াত্বের প্রমাণ। এসব উপজেলায় ভালো ভালো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা প্রার্থীও হতে চান। জানতে চাইলে সিলেট জেলা

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, জেলা নেতৃবৃন্দ প্রতিটি উপজেলায় গিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলেই এটি করেছেন। যেসব উপজেলায় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ঐকমত্যে আসা যায়নি সেখানে একাধিক ব্যক্তির নাম পাঠানো হয়েছে।

    দক্ষতা, যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নির্ভর করছে দলীয় সভানেত্রীর ওপর। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন দল তা-ই মেনে নেবে।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী