• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    একজন এ কে এম মোহসীন এবং স্বার্থান্বেষী বাংলাদেশীদের কূপমুন্ডকতা

    রাশেদুল হক | ৩০ নভেম্বর ২০১৮ | ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

    একজন এ কে এম মোহসীন এবং স্বার্থান্বেষী বাংলাদেশীদের কূপমুন্ডকতা

    সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত বাংলার কণ্ঠর সম্পাদক এ কে এম মোহসীন

    ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশ, দক্ষিণ এশিয়ার বিস্ময় সিঙ্গাপুর। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে, একটি জেলে পল্লী থেকে বর্তমান বিশ্বের উন্নত দেশের তালিকায় স্থান করে নেওয়ার যে গৌরব সিঙ্গাপুরবাসী অর্জন করেছে, তার পেছনে রয়েছে একজন সুদক্ষ কারিগরের দূরদর্শিতা, ত্যাগ-তিতীক্ষা, স্বদেশপ্রেম, সততা আর নিজ দেশের জনগনের প্রতি মমত্ববোধ ও নিখাঁদ ভালোবাসা।

    মিঃ লি কুয়ান ইউ তার প্রজ্ঞা আর মেধা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে গিয়েছেন বলেই সিঙ্গাপুর আজ ব্যবসা-বাণিজ্য, নিরাপত্তা, জীবনযাপনের মানদন্ডে বিশ্বের অনেক দেশকেই পিছু ফেলে এগিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল একটি দেশের বিপুল সংখ্যক জনগন জীবন-জীবিকার তাগিদে, সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়ে দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে করে তুলেছে সমৃদ্ধশালী।

    কেউ কেউ উন্নত চিকিৎসাসেবা , শিক্ষা কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সিঙ্গাপুরকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন সর্বাগ্রে। সিঙ্গাপুরে কাজের সন্ধানে যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমজীবীদের অসহায়ত্বকে পূঁজি করে, সেদেশের নামী-দামী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের, সিন্ডকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে, মিনিষ্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার (এমওএম) সিঙ্গাপুরে কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমজীবীদের করা ন্যায়সঙ্গত মামলার ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে (আইনজীবীর সহায়তাকারী দালাল হিসেবে) বড়মাপের কমিশন নিয়ে, ক্ষেত্র বিশেষে মামলার ক্ষতিপূরণের পুরো টাকা মেরে দিয়ে, দেশের সন্মান জলাঞ্জলি দিয়ে হুন্ডিব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালানী, বিনোদন ভিসায় বাংলাদেশী নারীদেরকে সিঙ্গাপুর নিয়ে গিয়ে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করার, কিংবা মানব পাঁচারের মতো ঘৃণিত ব্যবসার আড়ালে চোরাচালানের মাধ্যমে অনেকেই অতি অল্প সময়েই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেলেও, কেউ কেউ বিদেশ-বিভূঁইয়ে বাংলাদেশের মান সমুন্নত রাখতে, কোন প্রতিদান পাবার আশা না করেই, নিরলসভাবে নিরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তেমনই একজন মানুষের সাথে সৌভাগ্যক্রমে আমার পরিচয় হয়েছিলো সিঙ্গাপুর কাজ করতে যাবার সুবাদে। সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা কাগজ “বাংলার কন্ঠ’ পত্রিকার সম্মানিত সম্পাদক জনাব এ কে এম মোহসীন ভাইকে আজ গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর গর্বের সাথে স্মরন করছি। চিরসবুজ প্রাণোন্মাদনা আর শিশুসুলভ সরলতায় কিভাবে নিজ দেশের মানুষের জন্য রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি, তা তাঁকে যারা কাছ থেকে দেখেনি তারা কোনদিন বুঝতে পারবেনা।

    সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় নিজের দেশের পতাকার মান ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে ‘ ওয়ান ম্যান আর্মি’র ব্রত নিয়ে শ্রমজীবী প্রবাসী বাংলাদেশীদের দুর্দিনের বন্ধু হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। দালালের মিথ্যা প্রলোভনে কাঙ্খিত কাজ, বেতন কিংবা কোম্পানী না পেয়ে, কর্মক্ষেত্রে আহত হয়ে ক্ষতিপূরণ পাবার সঠিক দিক নির্দেশনা, নয়তো দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়া, সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা না পেয়ে ভগ্নমনোরথ, হতাশ শ্রমজীবীদের কি পরম মমতায় কাছে টেনে নিয়ে, তাদের দুঃখের করুণ কাহিনী হৃদয়ঙ্গম করে ‘বাংলার কন্ঠ’ পত্রিকার মাধ্যমে তা সিঙ্গাপুর সরকার, তথা সারা বিশ্বকে অবহিত করে, তাদের দুঃখ-দুর্দশায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি, তা আমাকে সত্যিই মোহিত করে তুলে। নিজের ব্যক্তিগত জীবন বলতে তার যেনো কিছুই নেই। না স্ত্রী, না কণ্যা কিংবা আত্মীয়-স্বজন; কোন কিছুই যেনো তাকে বেধে রাখতে পারেনা। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত জেগে পত্রিকাটিকে নিজের সন্তানসম ভালোবেসে, কি এক আত্মতৃপ্তিতে ভুগেন তিনি, তা শুধু তিনি নিজেই জানেন। সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত এ কে এম মোহসীন ভাইকে যতটুকু কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো, তার পুরোটা সময়টুকুতে দেখেছি সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী, ব্যবসায়ী নিজেদেরকে তথাকথিত ‘‘হোয়াইট কলার’’ বলে মনে করা নিজ দেশের মানুষগুলো, কিভাবে তার অবদানকে খাটো করা যায় তেমন নোংরা, অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকতে। ‘বাংলার কন্ঠ’কে ব্যবহার করে কত অখ্যাত, অপরিচিত কবি-লেখক সিঙ্গাপুরসহ বাংলাদেশে খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, তাদের তারকা বনে যাবার পেছনে যে মানুষটির ভালোবাসা, দেশপ্রেম, প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর সে মহান কারিগরের নামটি, তারা কোথাও উচ্চারণ করে না!

    ‘বাংলার কন্ঠ রাইটার্স ফোরাম‘ গঠন করে তিনি প্রবাসে থাকা বাংলাদেশী শ্রমজীবী লেখকদের মেধা বিকাশের যে ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়েছেন, তার কথা বেমালুম ভুলে থাকে তারাই বেশি, যারা একসময় তাদের লেখা গল্প-কবিতা-উপন্যাস,ম্মৃতিকথা, আত্মজীবনী পত্রিকায় ছাপানোর জন্য হাহুতাশ করেছে।

    ‘বাংলার কন্ঠ’ পত্রিকা অফিসে এসে ভিনদেশী সাংবাদিক কিংবা সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ লাভ করা অকৃতজ্ঞ কতিপয় বাংলাদেশী নাগরিককে দেখেছি, কিভাবে তারা এ কে এম মোহসীন ভাইয়ের অবদানকে এড়িয়ে গিয়েছে। পঞ্চাশোর্ধ একজন মানুষ শুধুমাত্র নিজ দেশের মানুষকে ভালোবেসে, নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে সত্য ও ন্যায়কে আঁকড়ে ধরার কারণেই, দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হবার পরও থেমে থাকেন নি।

    জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রতিনিয়ত কলম চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্বার গতিতে। সিঙ্গাপুর সরকার তাকে ঠিকই যথাযোগ্য মর্যাদায় ভূষিত করলেও, তার পত্রিকার স্বীকৃতি প্রদান করলেও, আমরা বাংলাদেশীরা কেনো তাকে পেছনে ঠেলে রাখতে চাই, তা সত্যিই আমাকে ব্যথিত করে তোলে! নিজে কখনোও তি‌নি ক্ষমতা কিংবা অর্থ-প্রতিপত্তির মোহে পড়েননি, নৈতিকতা বিসর্জন দেননি বলেই হয়তো সৃষ্টিকর্তা আজোও তাকে সম্মানজনক অবস্থানে রেখেছেন। না হলে, সিঙ্গাপুরের মতো একটি ব্যয়বহুল শহরে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি যেভাবে জীবন যাপন করেন, তা দেখে খুবই খারাপ লাগে।

    বাংলাদেশের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজেকে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিতে দেখিনি কখনোও তাঁকে। পরিমিত জীবনবোধ আর পরিশীলিত আচড়ন উত্তরাধিকার সূত্রে পরিবার থেকে পেয়েছেন বলেই হয়তো, শত অনাচারেও মুখ বুজে সব সহ্য করে যান ধরিত্রীর মতো। সিঙ্গাপুরে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশী কিংবা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা, তাঁর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে তাকে সহযোগিতা করাতো দূরের কথা ‘বাংলার কন্ঠ’ পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলেই যেনো তারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে, তেমিনটিই মনে হয়েছে আমার কাছে! সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন কর্তৃৃক‘বাংলার কন্ঠ’র সাথে ‘বিমাতাসুলভ আচড়ন’ আমার কাছে অসহনীয় যন্ত্রণাদায়ক মনে হয়েছে! এতো কিছুর পরও যে মানুষটি আপন চলার পথে আজও অটল রয়েছে, তাঁর প্রতি ভালোবাসা না জন্মে পারে, কেবলমাত্র অকৃতজ্ঞ আর হীন মন-মানসিকতার লোকদেরই। সিঙ্গাপুরে তিনি কতিপয় বাংলাদেশীর (যারা অবৈধপথে অর্জিত অর্থ দিয়ে সিঙ্গাপুরে দামী গাড়ী-বাড়ীর মালিক হয়েছে) মুখোশ উন্মোচন করে দেবার ফলেই, তারা তাঁর কুৎসা রটিয়ে বেড়াতেও কার্পণ্য করে না।

    সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবস, যেমনঃ শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, ঈদ, পূজা-পার্বণ উদযাপনেও এ কে এম মোহসীন ভাইকে দেখেছি নিবেদিত প্রাণ। নিজ কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে সহায়-সম্বলহীন বাংলাদেশীদের পাশে তাঁকে যেভাবে দাঁড়াতে দেখেছি, তা আমি কোনও দিনই ভুলতে পারবো না। তাঁর সাথে আত্মার বাধনে বাধা পড়ে গেছি কখন নিজেই জানিনা! মানুষের জীবনটা আর কতটুকু? যতদিন বেঁচে থাকবো সাদামনের এই মানুষটির জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করে যাবো। ‘বাংলার কন্ঠ’ যেনো নির্যাতিত, নিপীড়িত, খেটে খাওয়া মানুষের কথাই বলে তেমনটিই আশা করবো। কোন ঝড়-ঝাপটাই যেনো বাংলার কন্ঠ’র চলার পথকে রুখতে না পারে সেই শুভ কামনাই করি! ঘৃণা করি বর্ণচোরা, পরশ্রীকাতর, অর্থলোভী, ভন্ড-প্রতারকদের!

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী