• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    একজন গানের ‘মিতালী’

    হাবিব মোস্তফা | ১৪ মার্চ ২০১৯ | ১:১১ অপরাহ্ণ

    একজন গানের ‘মিতালী’

    মিতালী মুখার্জীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে। গানের সাথে মিতালী’র মিতালী হয়েছিল নিতান্ত শৈশবেই। তাঁর পুরো পরিবারই ছিল গান পাগল। সব ভাইবোনই গানের চর্চা করত। পরিবেশটা তাঁর বাবা মা-ই তৈরি করে দিয়েছিল। মিতালী মুখার্জীর গানে হাতে খড়ি ওস্তাদ নারায়ণ দাসের কাছে। উচ্চাঙ্গ সংগীতে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ওস্তাদ মিথুন দে’র তত্ত্বাবধানে। ছোটবেলায় প্রচন্ড তেঁতুল খেতে পছন্দ করতেন মিতালী মুখার্জী। গান রেওয়াজের সময় এই নিয়ে রয়েছে তার অনেক মজার ঘটনা। পরবর্তীতে সংগীতে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন ভারতের বরোদার মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    মিতালী মুখার্জী ১৯৮২ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ভুপিন্দর সিং-এর সঙ্গে। পারিবারিক কারণে ভারতে চলে যাওয়ায় বাংলাদেশি সিনেমা ও আধুনিক গানে নিয়মিত হতে পারেননি ।
    মূলত ভারতে যাওয়া আসার মধ্য দিয়েই চলেছে মিতালী মুখার্জীর সংগীত জীবনÑ বাংলা ও হিন্দি দুই ভাষাতেই। সংগীত জগতে বিশেষ করে চলচ্চিত্রের গানে মিতালী মুখার্জীর উত্থান ও প্রতিষ্ঠায় সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলীর একটি বড় ভূমিকা আছে। চলচ্চিত্রের গানে তাঁর অভিষেক ঘটে আমজাদ হোসেন পরিচালিত আলাউদ্দীন আলীর সংগীত পরিচালনায় দুই পয়সার আলতা (১৯৮২) ছবিতে। এ সিনেমায় ‘এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই’ গেয়ে লাভ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার। বাংলাদেশের সিনেমায় তাঁর কিন্নরী কণ্ঠে গীত হয়েছে অবিস্মরণীয় কিছু গান:
    *এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই- কথা-সুর: আলাউদ্দীন আলী (চলচ্চিত্র: দুই পয়সার আলতা)
    *তুমি চোখের আড়াল হইলে আমার- কথা : আবদুল হাই আল-হাদী, সুর: আলাউদ্দীন আলী (চলচ্চিত্র: সুখের সংসার)
    *আমায় আর ডেকো না- কথা: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুর: সত্য সাহা (চলচ্চিত্র: সুখে থাকো)
    * জীবনের এই যে রঙিন দিন- নজরুল ইসলাম বাবু, সুর: আলাউদ্দীন আলী (চলচ্চিত্র: সাক্ষী) [সহশিল্পী রফিকুল আলম]
    * ও কেন এত নিঠুর হলো- কথা : শেখ নজরুল ইসলাম, সুর: আলাউদ্দীন আলী (চলচ্চিত্র: আশা)
    * ভালোবাসা যত বড়- কথা: মোহাম্মদ রফিক-উজ-জামান, সুর : আলাউদ্দীন আলী (চলচ্চিত্র: চরম আঘাত)। [সহশিল্পী কুমার শানু]

    বাংলাদেশের বিষয়ে তার অনুভূতির জায়গা খুবই প্রবল। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় অভিভূত মিতালীর কখনো মনে হয়না তিনি বাংলাদেশে স্বশরীরে বাস করেন না। নিজের প্রিয় দেশ ছেড়ে আরেক দেশে বসবাসের কারণে কখনো কী নিজেকে প্রবাসী বলে মনে হয়নি তার। কারণ ওখানে তার প্রচুর বন্ধু আছে,বিয়ে করে ঘর সংসারও করছেন ওখানে। এ বিষয়ে তার সহজ সরলোক্তি: ‘বাংলাদেশী শ্রোতাদের জন্যেই আজকের আমি হয়ে ওঠা। আমি অনেক ভাষায় গান গেয়েছি তবে বাংলা গানের শিল্পী হিসেবেই বিশ্ব আমাকে চিনেছে। আত্মার কাছাকাছি দুই দেশকেই অনেক ভালোবাসি’।

    মিতালী মুখার্জীর কণ্ঠে কিছু স্মরণীয় আধুনিক বাংলা গান:
    *আকাশটা তো নীল চিঠি নয়- কথা : মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর : খোন্দকার নূরুল আলম
    *হারানো দিনের মতো হারিয়ে গেছো- কথা-সুর : আলাউদ্দীন আলী
    *কেন আশা বেঁধে রাখি- কথা: প্রদীপ মুখার্জী, সুর : মিতালী মুখার্জী
    *তোমার চন্দনা মরে গেছে- কথা : মুনশী ওয়াদুদ, সুর : শেখ সাদী খান
    *যে টুকু সময় তুমি থাকো পাশে- কথা : প্রদীপ গোস্বামী, সুর : আলাউদ্দীন আলী [সহশিল্পী ভুপিন্দর সিং]
    *আকাশের সব তারা ঝরে যাবে- কথা : মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর : আলাউদ্দীন আলী
    *দিন কি রাতে সাঁঝ প্রভাতে- কথা : মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর : আলাউদ্দীন আলী [সহশিল্পী তপন চৌধুরী]
    *জীবন নামের রেল গাড়িটা- কথা: মোহাম্মদ রফিক-উজ-জামান, সুর: রাজেশ
    *প্রতিদিন ভোর হয় সূর্য ওঠে : কথা: দেলোয়ার আরজুদা শরফ, সুর-মান্নান মোহাম্মদ
    *আমার মরণ হলে, কথা: আহমেদ রিজভী, সুর-আলাউদ্দীন আলী

    মিতালী মুখার্জী মনে করেন- একটা গান সৃষ্টির পেছনে গীতিকার ও সুরকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তার মতে- শিল্পীসত্তার কোন দেশ, কাল নেই, শিল্পী সবার।
    এই মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা-ভালবাসা।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী