• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এক নজরে দেখেনিন সারাদেশে যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ

    এক নজরে দেখেনিন সারাদেশে যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। রোববার যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এ ঘোষণা দেন। এতে তিনশ’ সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ২৭৯ জন। বাতিলের তালিকায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলটির কমপক্ষে শতাধিক প্রার্থী আছেন।

    পাশাপাশি প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় চারটি আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। বিভিন্ন মামলায় আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া, ঋণ ও বিল খেলাপি, মামলাসংক্রান্ত সার্টিফায়েড কপি ও আয়কর সনদ না থাকা, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা এবং অসম্পূর্ণ হলফনামাসহ অন্তত ১০ কারণে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে।

    তবে নিয়মানুযায়ী, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা ৩ দিনের মধ্যে ইসিতে এ ব্যাপারে আপিল করতে পারবেন। আজ আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। শুনানি চলবে ৬ ডিসেম্বর থেকে টানা ৩ দিন। আপিলে যদি মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, সেক্ষেত্রে প্রার্থীরা আদালতে আপিল করতে পারবেন বলে জানান (ইসির) উপসচিব আতিয়ার রহমান।

    যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও এমপিসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী আছেন। বাতিলের তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত দেখিয়ে তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও সরকারপন্থী অনেকের প্রার্থিতা বহাল আছে।

    এ প্রক্রিয়ায় সরকারি দলের জয়লাভ এগিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ২০ দলীয় জোটের নেতা ও এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ।

    ইসির নিয়মানুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কাজে উপস্থিত ছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ পুলিশ বিভাগ, ইসির কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংক, আয়কর বিভাগ, বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রার্থী বা প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা।

    রোববার দেশের তিনশ’ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ নির্বাচনে অংশ নিতে ৩ হাজার ৬৫ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এতে ৭৮৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ২৭৯ জন। সেই হিসাবে ২৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেল। তিনশ’ আসনের মধ্যে ঢাকা-১, বগুড়া-৭, জামালপুর-৪ এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এছাড়া ৩৫টি আসনে দাখিল করা সবার মনোনয়নপত্র টিকে গেছে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সর্বোচ্চ ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা।

    এ আসনে আরও ১০ প্রার্থী আছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ঢাকা-১৭ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। এ দুটি আসনে ১১ জন করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর পরও এখন পর্যন্ত ১৬ জন করে প্রার্থী রয়েছেন ওই দুই আসনে। বাছাই শেষে এখন দেশে সর্বাধিক প্রার্থী কুমিল্লা-৩ আসনে ১৭ জন। ওই আসনেও ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    রোববার রাতে ইসি সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর বা কোন দলের কতজন প্রার্থী বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন সেই তথ্য পাওয়া যায়নি। ২৮ নভেম্বর ৩৯টি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ২ হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থিতা দাখিল করেছিলেন। বাকি ৪৯৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

    ইসির কর্মকর্তারা জানান, সারা দেশে যেসব মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তার বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের সার্টিফায়েড কপিসহ আজ থেকে ৩ দিন আপিল করার সুযোগ পাবেন। কমিশন ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর শুনানি করে ওইসব আবেদন নিষ্পত্তি করবে।

    ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। এর ৪ দিন পর পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হয়। পুনঃঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৮ নভেম্বর। রোববার একই দিনে ৬৬ জন রিটার্নিং সারা দেশের জমা হওয়া সবক’টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন। ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের পর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবেন রিটার্নিং অফিসাররা। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে প্রচার। ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    ইসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার ২০টি আসনে ২৬৫ প্রার্থীর মধ্যে ৭১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও ঢাকা জেলা প্রশাসক। তারা দু’জন এসব আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা। মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে ৮ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

    এতে প্রার্থী সংখ্যা ২৫ থেকে কমে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজীপুরের পাঁচটি আসনে ৪৯ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন ওই জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা। নরসিংদীর ৫টি আসনের ৪৭ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের মনোনয়নপত্র, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে ৬১ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার ৮টি আসনে ৮৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৬৬ জন।

    আরও জানা গেছে, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে ৯১টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ আসনের বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ২৬২ জন। এসব আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৩৫৩ জন। রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩৫৫ প্রার্থীর মধ্যে ৯৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রার্থী সংখ্যা ২৫৯ জন।

    খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনে ৯০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে বর্তমানে প্রার্থী রয়েছেন ২৬১ জন। এসব আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৩৫১ জন। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১টি আসনে বাতিল হয়েছে ৩৮ জনের মনোনয়নপত্র। বর্তমানে ১৪৫ বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনে ২৩১ প্রার্থীর মধ্যে ৬২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ বিভাগে প্রার্থী রয়েছেন ১৬৯ জন। ঢাকা বিভাগের ৭০টি আসনে ৭৩১ প্রার্থীর মধ্যে ১৯২ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রার্থী রয়েছেন ৫৩৯ জন।

    সিলেট বিভাগের চারটি জেলার ১৯টি আসনে ১৮৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ৪৪টি বাতিল হয়ে বর্তমানে প্রার্থী রয়েছেন ১৪০ জন। সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৮টি আসনে ৬৭৭টি আসনের মধ্যে ১৭৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ বিভাগের বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫০৪ জনে।

    যে ৩৫টি আসনে একটিও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি : ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, জয়পুরহাট-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, নওগাঁ-৩, নাটোর-৩, পাবনা-২ ও ৪, কুষ্টিয়া-৩, বাগেরহাট-৩, খুলনা-১, ৩, ৪ ও ৫, সাতক্ষীরা-৩, পটুয়াখালী-৪, ভোলা-৩, বরিশাল-৪ ও ৫, পিরোজপুর-২, টাঙ্গাইল-২ ও ৫, জামালপুর-২, নেত্রকোনা-৩, ঢাকা-১২ ও ১৩, নরসিংদী-৪, গোপালগঞ্জ-২, মৌলভীবাজার-৪, কুমিল্লা-৭, চাঁদপুর-৩, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫, লক্ষ্মীপুর-৩ ও কক্সবাজার-১।

    ঢাকার ২০ আসন : ঢাকা-১, ২, ৩, ১৯ ও ২০ এ পাঁচটি আসনে ৫২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাদের মধ্যে সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপিসহ ৩৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান এবং কফিল উদ্দিনসহ ১৯ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। রোববার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দিনভর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।

    এ সময় ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য, নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, আয়কর বিভাগ, বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রার্থী বা প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বিকালে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা-১ আসনে ১২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এদের মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ৭ জনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা-২ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ১০ জনের মধ্য থেকে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    ঢাকা-৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ৮ জনের মধ্য থেকে ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ঢাকা ১৯ আসনে ১২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এদের মধ্যে বাতিল হয়েছে ২ জনের মনোনয়ন। ঢাকা ২০ আসনে ১০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাদের মধ্যে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে আগামী ৩ দিনের মধ্যে তারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কারও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। বিএনপি ও অন্যান্য দল, এমনকি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

    ঢাকা-১ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীর কারও মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়নি। তারা হলেন- খন্দকার আবু আশফাক (বিএনপি), ফাহিমা হোসেন জুবলী (বিএনপি)। এ আসনে অন্য যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন- আনোয়ার হোসেন, আইয়ুব খান এবং শামসুদ্দিন আহমেদ। ঢাকা-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে আমানউল্লাহ আমান, মারুফ খান, সুকান্ত সফি চৌধুরী এবং মহিউদ্দিন চৌধুরী রিপনের।

    ঢাকা-৩ আসনে মনির সরকার, সুলতান আহমেদ খান এবং মোস্তফা মহসিন মন্টুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১৯ আসনে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে কফিল উদ্দিন এবং শরিফুল ইসলামের। ঢাকা-২০ আসনে যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা হলেন- নূরুল ইসলাম, তমিজ উদ্দিন, সুলতান আহমেদ, মো. আবদুল মান্নান এবং জামাল উদ্দিন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-১ আসনে যাদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন- সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, সালমান এফ রহমান, কামাল হোসেন, করম আলী, জালাল উদ্দিন, আবিদ হোসেন এবং সেকান্দার হোসেন।

    ঢাকা-২ আসনে যাদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন- অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ইরফান ইবনে আমান, জহিরুল ইসলাম, আতাউল্লাহ, শাকিল আহমেদ এবং মোস্তফা মহসিন মন্টু। ঢাকা-৩ আসনে যাদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন- নসরুল হামিদ বিপু, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মজিবর হাওলাদার, আরিফুর রহমান লিটন এবং আলী রেজা।

    ঢাকা-১৯ আসনে যাদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন- ডা. এনামুর রহমান, দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, আয়নল হক, ফারুক খান, নুরুল ইসলাম, আবু ইউসুফ খান, সারোয়ার হোসেন, ইদ্রিস আলী, সৌমিত্র কুমার দাস এবং আবুল কালাম আজাদ। এ আসনে দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় পুলিশের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়।

    এ সময় ঢাকা জেলা পুলিশের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসপি গোলাম আজাদ খান অভিযোগ করেন, সালাহ উদ্দিনের নামে ১৫টি মামলা আছে। কিছু মামলায় তিনি জামিনে এবং কিছু মামলায় পলাতক আছেন। তখন সালাহ উদ্দিন বলেন, আমি কোনো মামলাতেই পলাতক নই। সব মামলাতেই জামিনে আছি। এরপর জেলা প্রশাসক তার মনোনয়ন গ্রহণ করেন। জামানতের রসিদের মূল কপি জমা না দেয়ার কারণে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) প্রার্থী সারোয়ার হোসেনের প্রার্থিতা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। পরে তা জমা দেয়ার আশ্বাস দিলে তার মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়।

    ঢাকা-২০ আসনে যাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন- বেনজীর আহমেদ, ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, আবদুুল মান্নান, এমএ মান্নান এবং খান মো. ইস্রাফিল। এ আসনে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমানের মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় ২০১৩ সালে ১ হাজার ৮৮১ টাকা আয়কর বকেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

    এ সময় ব্যারিস্টার জিয়া বলেন, নীতিমালায় সবশেষ অর্থবছরের আয়কর পরিশোধ থাকার কথা বলা হয়েছে। আমি নিয়মিত কর পরিশোধ করি। ২০১৩ সালে আমার যে কর বকেয়া ছিল সেটা আমাকে অবগত করা হয়নি। এটা আমি জানার পর তা পরি

    শোধ করেছি। ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমানের এ বক্তব্যের পরও আওয়ামী লীগ প্রার্থী বেনজীর আহমেদ তার (ব্যারিস্টার জিয়া) মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান। তবে শেষ পর্যন্ত তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়নি।

    ঢাকা-২ আসনে আমানউল্লাহ আমানের মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে তার ছেলে ইরফান ইবনে আমান বলেন, মামলাসংক্রান্ত কারণে বাবার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। শেষ পর্যন্ত যদি বাবা নির্বাচন করতে না পারেন তাহলে তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে আমি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকব।

    জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবকারী এবং সমর্থনকারী ব্যক্তির ভোটার আইডি নম্বর সঠিক না হওয়ায় ঢাকা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মনির হোসেন সরকারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। মনোনয়ন ফরমে প্রস্তাবক হিসেবে মনির হোসেন সরকার নিজের নাম উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া ফরমের ২০ নম্বর এবং ২১ নম্বর কলাম তিনি পূরণ করেননি। এ আসনে ঋণ খেলাপি হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান আহমেদ খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    একই আসনে মনোনয়ন ফরমের ২০ এবং ২১ নম্বর কলাম পূরণ না করার কারণে গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টুর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপি প্রার্থী কফিল উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয় অক্টোবরের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করার কারণে। এক-তৃতীয়াংশ ভোটারের স্বাক্ষর প্রমাণিত না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

    আয়কর রিটার্ন দাখিল না করার কারণে ঢাকা-২০ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী তমিজ উদ্দিনের মনোনয়ন ফরম যাচাইয়ের সময় প্রথমে পুলিশের পক্ষ থেকে অপত্তি জানানো হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম আজাদ খান বলেন, তমিজ উদ্দিনের নামে ধামরাইয়ে তিনটি মামলা আছে। এসব মামলায় তিনি পলাতক।

    এর জবাবে তমিজ উদ্দিন বলেন, সব মামলাতেই আমি জামিনে আছি। পরে জেলা প্রশাসক তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি কী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’ স্থানীয় সরকার বিভাগ ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। জেলা প্রশাসকের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তমিজ উদ্দিন বলেন, কুষ্টিয়া এবং নাটোরসহ বিভিন্ন এলাকায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে অনেকে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু আমাকে এ সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। তাছাড়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার দায়িত্ব তো আমার নয়। এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না। ঋণ খেলাপি হওয়া এবং আয়কর বকেয়া থাকার কারণে এ আসনে সুলতান আহমেদ ও জামাল উদ্দিন আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

    ঢাকার অপর ১৫টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৬২ জনের মনোনয়ন প্রস্তাবের বৈধতা দেয়া হয়েছে। প্রার্থীর ছোটখাটো ভুল ছাড়া ইসির মৌলিক চাওয়া পূরণে সক্ষম হওয়ায় এসব প্রার্থীর প্রার্থিতা গ্রহণ করেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়। একই ভাবে ঋণখেলাপি, করখেলাপি, বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিসের বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়া, হলফনামায় ভুল তথ্য প্রদানসহ বিভিন্ন কারণে বাতিল করা হয়েছে ৫২ জনের প্রার্থিতা। এর আগে ২১৪ জন এ নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য তাদের মনোনয়ন জমা দেন।

    রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন সংসদীয় আসন ভিত্তিক প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলে। বিভাগীয় কমিশনার কেএম আলী আজম এ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন। এতে দেখা গেছে, বিএনপির ৬ জন এবং আওয়ামী লীগের ২ প্রার্থীর প্রার্র্থিতা বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ঋণখেলাপি ও ঢাকা টেলিফোনের ইউটিলিটি বকেয়া থাকার কারণে ঢাকা-৯ এর বিএনপি প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের মনোনয়ন বাতিল করেছে বিভাগীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা।

    এছাড়া ঋণ খেলাপির অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, মনোনয়ন ফরমে নিজ দলের নাম বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনোটিই উল্লেখ না করায় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, বিএনপির সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (ঋণ খেলাপি) এবং জাকের পার্টির সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদের (ঋণ খেলাপি) মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    তবে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের মামলায় ১৩ বছরের সাজা হওয়া সত্ত্বে¡ও হাইকোর্ট তা বাতিল করায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাজী সেলিমের মনোনয়নের বৈধতা দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে কেএম আলী আজম জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তা আইনানুগ না হওয়ায় তা করা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি প্রার্থীর প্রার্থিতা যথাসম্ভব বহাল রাখতে। এ

    জন্য অনেককে সময়ও দেয়া হয়েছে। এতে অনেকে টিকেও গেছেন। হাজী সেলিম প্রসঙ্গে বলেন, এখানে মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

    বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা অবহিত হয়েছি কার কত মামলা এবং সাজা হয়েছে কিনা? কিন্তু উপস্থিত কেউ এখানে এ বিষয়ে আমাদের অবহিত করেননি। প্রার্থীও তার হলফনামায় উল্লেখ করেননি।

    এদিকে ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সর্বাধিক ২৭ জন মনোনয়ন জমা দিলেও গ্রহণ করা হয়েছে ১৬টি এবং ১১টি বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (চেয়ারম্যান- জাতীয় পার্টি), আবদুল কাদের খান এবং আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক) আওয়ামী লীগ। মাহী বি. চৌধুরী (বিকল্পধারা), আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি), একেএম সাইফুর রশীদ (বিকল্পধারা), ফরহাদ হালিম (বিএনপি), ওয়াখিল উদ্দিন (স্বতন্ত্র), আবুল কালাম আজাদ (বিএনএফ), রুহুল আলম চৌধুরী (বিএনপি) প্রমুখ। আর বাতিল হয়েছে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা (মনোনয়ন ফরমে নিজ দলের নাম বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনোটিই উল্লেখ নেই), শওকত আজীজ (বিএনপি-লংকাবাংলা ও জনতা ব্যাংকের কাছে ঋণখেলাপি) এবং রুবেল আজীজ (আওয়ামী লীগ) ঋণখেলাপি।

    ঢাকা-৭ আসনে ১৯ প্রার্থী তাদের মনোনয়ন জমা দেন। তবে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা এর থেকে ১৫ প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ বলে জানান। বাকি ৪ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এ আসনে আওয়ামী লীগের হাজী সেলিম ও হাজী আবুল হাসনাত এবং মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটানির্ং কর্মকর্তা। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল হয়েছে বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনার মনোনয়ন। অন্যদিকে এ আসনে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী নাজমুল হোসেনের।

    ঢাকা-৬ আসনেও মনোনয়ন জমাদানকারী ১৩ প্রার্থী থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পর বৈধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে ১১টি এবং বাতিল হয়েছে ২টি। এ আসনে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন চৌধুরীর মনোনয়ন করসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২ ঘণ্টা স্থগিত করা হলেও পরে এ সময়ের মধ্যে জটিলতা কাটিয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

    ঢাকা-৮ আসনে দ্বিতীয় সর্বাধিক ২২টি মনোনয়ন জমা পড়ে। এদের থেকে ১৫টি বৈধ এবং আইনানুগ না হওয়ায় ৭টি অবৈধ বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মধ্যে যেসব মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে তাদের উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন- আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

    ঢাকা-৯ আসনে ১০টি মনোনয়ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭টি গৃহীত এবং ৩টি বাতিল বলে গণ্য করা হয়। আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরীর মনোনয়ন গৃহীত হলেও বিভাগীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পুরনোটির পরিবর্তে নতুন অ্যাকাউন্ট নাম্বার জমা দিতে বলেন। অপরদিকে এ আসনে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও বিএনপি প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

    ঢাকা-১৫ আসনে ১৬টি প্রস্তাবের বিপরীতে ১৩টি গৃহীত হয় এবং ৩টি বাতিল হয়। এ আসনে ভোটের মাঠে লড়ার বৈধতা পেয়েছেন নিবন্ধন বাতিল হওয়া রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্রের বৈধতা পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার ও ১৬৪টি মামলা নিয়ে বৈধতা পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মামুন হাসান।

    ঋণ খেলাপির অভিযোগ জাতীয় পার্টির মো. মুকুল আমিন ও ভোটারের ভুয়া স্বাক্ষরের অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সলিমুদ্দিন, আবদুর রহিমের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ঢাকা-১০ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৯ প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার বিবেচনায় টিকে যায় এবং ১ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং বিএনপির তিন প্রার্থী আবদুল মান্নান, শেখ রবিউল আলম ও ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।

    এতে ঢাকা-১২ আসনে দাখিল করা ৮ প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিএনপির সাইফুল ইসলাম নীরব ও আনোয়ারুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জোনায়েদ সাকি ও জাপার প্রার্থী এম নাসিরুদ্দিন সরকার প্রমুখ।

    একইভাবে ঢাকা-১৩ আসনেও সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ১২ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সাদেক খান, সিপিবির খান আহসান হাবিব, বিএনপির আতাউর রহমান ঢালি, আবদুস সালাম ও আতিকুল ইসলাম মতিন, জাপার শফিকুল ইসলাম, এনপিপির দুলাল কান্তি, বিকল্পধারার মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

    ঢাকা-১১ আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে ঢাকা বিভাগীয় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। বহাল প্রার্থীরা হলেন- একেএম রহমতউল্লাহ (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ), শামীম আরা বেগম (বিএনপি), মোজাম্মেল হক বীরপ্রতীক (গণফোরাম), এসএম ফয়সাল চিশতী (জাতীয় পার্টি), আবদুল বাতেন (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি) ও এজিএম শামসুল হক (বিএনপি)। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    ঢাকা-১৪ আসনে ১৩ মনোনয়নের মধ্যে ৮টি বৈধ এবং ৫টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বৈধ ঘোষণা করা প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের এমপি আসলামুল হক, সিপিবির রিয়াজউদ্দিন, বিএনপির সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক ও মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু এবং জাপার মুস্তাকুর রহমান প্রমুখ। আর বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন- বিএনপির সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (ঋণখেলাপি) এবং জাকের পার্টির সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ (ঋণখেলাপি)।

    ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন জমা পড়েছে ১৫টি। এর মধ্যে প্রার্থীর ছোটখাটো ভুল ছাড়া নির্বাচন কমিশনের মৌলিক চাওয়া পূরণে সক্ষম হওয়ায় ৯ প্রার্থীর প্রার্থিতা গ্রহণ করা হয়েছে। আর চাওয়া পূরণ করতে না পারায় বাতিল করা হয়েছে ৬ জনের প্রার্থিতা।

    এছাড়া ঢাকা-৫ আসনে ১৩ প্রার্থীর মধ্যে প্রার্থিতা গৃহীত হয়েছে ১১টি। বাতিল হয়েছে ২টি। ঢাকা-১৬ আসনে ১০ আবেদনের মধ্যে ৪টি বাতিল ও ৬টি গ্রহণ করা হয়। ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়নপত্রের সংখ্যা ছিল ১৫টি। এর থেকে গৃহীত হয়েছে ১২টি এবং বাতিল হয়েছে ৩টি।

    নরসিংদী : জেলার ৫ আসনের মধ্যে তিনটিতে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- নরসিংদী-১ ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা মো. ইসহাক, নরসিংদী-২ জাসদের প্রার্থী জায়েদুল কবির, স্বতন্ত্র প্রার্থী আলতামাশ কবির, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মহসিন আলী ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন এবং নরসিংদী-৩ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দুলাল মিয়া।

    খাগড়াছড়ি : আদালতে দণ্ডিত হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া, দলীয় মনোনয়ন না থাকায় আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সমীর দত্ত চাকমা এবং ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির কারণে ইউপিডিএফ সমর্থিত দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী সচিব চাকমা ও নতুন কুমার চাকমার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    নওগাঁ : বিভিন্ন কারণে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া একজন প্রার্থী তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। যাদের বাতিল হয়েছে- নওগাঁ-১ আসনে আবু হেনা মোস্তফা কামাল (এলডিপি/বিকল্পধারা), নওগাঁ-২ আসনে ড. ইঞ্জিনিয়ার আখতারুল আলম (আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র), আবদুর রউফ মান্নান (বিকল্পধারা), মতিবুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), নওগাঁ-৪ আসনে আবদুর রাকিব (স্বতন্ত্র) ও আফজাল হোসেন (স্বতন্ত্র), নওগাঁ-৫ আসনে নজমুল হক সনি (বিএনপি) ও ইফতারুল আলম বকুল (জাপা) এবং নওগাঁ-৬ আসনে আনোয়ার হোসেন হেলাল (স্বতন্ত্র)। এছাড়া নওগাঁ-৪ আসন থেকে অ্যাডভোকেট আবদুল বাকী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

    গোপালগঞ্জ : বিএনপি প্রার্থীসহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এসএম জিলানী ও জাতীয় পার্টির এজেডএম অপু শেখের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যথাযথ কাগজপত্র ও স্বাক্ষর না থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গোপালগঞ্জ-১ আসনে ভোটারদের স্বাক্ষর ঠিক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুল আলম খান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    পঞ্চগড় : পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. তৌহিদুল ইসলাম ও পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    বগুড়া : বগুড়ার ৭ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আলোচিত আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরু আলমসহ ২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বগুড়া-৭ আসন বিএনপি প্রার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে। খালেদা জিয়াসহ বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় নেতাকর্মীরা সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

    বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপু সুলতান ও আবদুল মান্নান মিয়া, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে আবুল কাশেম ফকির ও মোস্তাফিজার রহমান, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে বিএনপির আবদুল মহিত তালুকদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাজউদ্দিন মণ্ডল ও আবদুল মজিদ, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে কামাল উদ্দিন কবিরাজ, এএনএম আহছানুল হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা তায়েব আলী, অধ্যাপক জাহিদুর রহমান এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় আলোচিত আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম ও ইউনুস আলী মণ্ডলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা দবিবর রহমান, বিকল্পধারার মাহবুব আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেত্রী তাহমিনা জামান হিমিকা, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে দুটি মামলায় ১০ ও সাত বছর সাজা হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান ও জাকের পার্টির ফয়সাল বিন শফিকের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। একই কারণে বগুড়া-৭ আসনেও খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়। অপর বিএনপি প্রার্থী দাবিদার শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদলের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। ফলে এ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকল না। এছাড়া এ আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মোস্তফা আলম নান্নু, জাসদের আবদুর রাজ্জাক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌস আরা খান ও রেজাউল করিম বাবলুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    ফেনী : ফেনী-১ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আদালতে দণ্ডিত হওয়ায় খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া বিএনপির অপর প্রার্থী ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর আহম্মদ মজুমদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বশিরের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে।

    হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে সাড়ে ৫ হাজার টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগে গণফোরামের প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আমি বিদেশে অবস্থান করায় এটি পরিশোধ করতে পারিনি।

    এটি কোনো ব্যাপার না। এরই মধ্যে আমি তা পরিশোধ করে দিয়েছি। এছাড়া জেলার ৪ আসনে আরও ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- হবিগঞ্জ-১ আসনে বর্তমান সংরক্ষিত এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (স্বতন্ত্র), আবু হানিফ আহমদ হোসেন (ইসলামী আন্দোলন), বদরুর রেজা সেলিম (ইসলামিক ফ্রন্ট) ও জুবায়ের আহমদ (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট) এবং আবদুল হান্নান (স্বতন্ত্র)। হবিগঞ্জ-২ আসনে মো. জাকির হোসেন (বিএনপি)। হবিগঞ্জ-৩ আসনে মাওলানা আতাউর রহমান (ইসলামী ঐক্যজোট), মো. আবদুল কাদির (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)। হবিগঞ্জ-৪ আসনে মো. আনছারুল হক (জাকের পার্টি), মো. আবদুল মমিন (ইসলামিক ফ্রন্ট) ও মাওলানা মো. সুলায়মান খান রাব্বানী (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট)।

    সুনামগঞ্জ : বিএনপির ৪ প্রার্থীসহ ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (বিএনপি), রাজু আহমদ (স্বতন্ত্র), সুনামগঞ্জ-৩ আসনে রফিকুল ইসলাম খসরু (স্বতন্ত্র), আবদুছ সাত্তার (বিএনপি), আশরাফুল হক সুমন (বিএনপি), সৈয়দ শাহ মুবশ্বির আলী (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), সুনামগঞ্জ-২ আসনে রুহুল আমিন (জাপা), সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুল (বিএনপি), একেএম ওহিদুল ইসলাম কবির (জাসদ) ও আমান উল্লাহ আমান (জাকের পার্টি)।

    খুলনা : ছয়টি আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- খুলনা-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম এরশাদুর জামান ডলার, খুলনা-৬ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী এসএম শফিকুল আলম মনা, সতন্ত্র প্রার্থী সুব্রত কুমার বাইন ও মো. আবদুল কাদের।

    রাজশাহী : ছয়টি আসনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও নাদিম মোস্তফাসহ ২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হকসহ ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। রাজশাহী-২ (সদর) আসনে দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তারা হলেন- এনপিপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা।

    রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তারা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু, রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি শাহবুদ্দিন বাচ্চু, স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা মাজিদুর রহমান এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান।

    রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- জেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক আবদুল গফুর ও সিরাজুল করিম। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিম মোস্তফা, যুবলীগ নেতা ওবাইদুর রহমান, বিএনপি নেতা আবু বকর সিদ্দিক ও ইসলামী আন্দোলনের রুহুল আমিন। রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ ও আবদুর রাজ্জাক নামে আরেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    সিলেট : ৬টি আসনে ১৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। সিলেট-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক সর্দার, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রব ও মুহিবুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। সিলেট-৩ আসনে অ্যাডভোকেট আবদুল ওদুদ, জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ও বিএনপির আবদুল কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। সিলেট-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের এমএ মতিন চৌধুরী, স্বতন্ত্র ফয়জুল মুনীর চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল আমিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ আল ওয়ালী এবং জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া সিলেট-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া ও সেলিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    গাইবান্ধা : ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আবদুর রাজ্জাক সরকার (জেএসডি), এবিএম মিজানুর রহমান (স্বতন্ত্র), জয়নাল আবেদিন সাদা (স্বতন্ত্র), মো. আবদুর রহমান (স্বতন্ত্র), আফরুজা বারী (স্বতন্ত্র) ও এমদাদুল হক নাদিমের (স্বতন্ত্র) মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম রেজাউল কবীর, মো. মকদুবর রহমান সরকার ও মো. ওয়াহেদ মুরাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে জাপা (এ) প্রার্থী মনজুরুল হক সাচ্চা, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌফিকুল আমিন মণ্ডল টিটু, আমিনুল ইসলাম দুদু ও আবু জাফর মো. জাহিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতের ডা. আবদুর রহিম সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম প্রধানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    নাটোর : ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মামলায় সাজা হওয়ার কারণে নাটোর-২ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-১ আসনে সাম্যবাদী দলের বীরেন্দ্রনাথ সাহা, নাটোর-৪ মুসলিম লীগের শান্তি রিবেরু, জাসদের (ইনু) রনি পারভেজ, জাতীয় পার্টির আলাউদ্দিন মৃধা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. দোলেয়ার হোসেন খান।

    নীলফামারী : ৪৫ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- নীলফামারী-১ এ আহমেদ বাকের বিল্লাহ মুন (বিএনপি), আমিনুল হোসেন সরকার (আওয়ামী লীগ), আবদুস সাত্তার (২৩ দলীয় জোট) ও শাহ মখদুম আজম মাশরাফী (স্বতন্ত্র), নীলফামারী-২ এজানুর রহমান (স্বতন্ত্র), নীলফামারী-৩ আসনে আনসার আলী মিন্টু (আওয়ামী লীগ-স্বতন্ত্র), আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর (আওয়ামী লীগ-স্বতন্ত্র), ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট (বিএনপি), মোজাম্মেল হক (গণফ্রন্ট), ডা. বাদশা আলমগীর (জাতীয় পার্টি স্বতন্ত্র) ও গোলাম পাশা এলিচ (জাসদ)।

    নীলফামারী-৪ আখতার হোসেন বাদল (আওয়ামী লীগ), ইঞ্জিনিয়ার সেকেন্দার আলী (আওয়ামী লীগ), ফরহাদ হোসেন সম্রাট (স্বতন্ত্র), আমেনা কহিনূর (আওয়ামী লীগ), বসুন্ধরা কিংসের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ (স্বতন্ত্র), রশিদুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), আমজাদ হোসেন সরকার ভজে (বিএনপি) ও আমিনুল ইসলাম সরকার (আওয়ামী লীগ)।

    ফরিদপুর : ২১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল। এরা হলেন- ফরিদপুর-১ মো. লিটন মৃধা (স্বতন্ত্র) ও মোছা কামরুন্নাহার (স্বতন্ত্র), মো. কামরুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), আকতারুজ্জামান (জাতীয় পার্টি) ও হারুন-অর-রশীদ (জাসদ)। ফরিদপুর-২ হাফিজুর রহমান হাফিজ (সিপিবি)। ফরিদপুর-৩ আরিফ খান (স্বতন্ত্র), মো. রুহুল আমিন তালুকদার (স্বতন্ত্র), মো. ওবায়দুর রহমান (স্বতন্ত্র), মো. বনি আমিন (স্বতন্ত্র) ও নিজাম আলী (স্বতন্ত্র)। ফরিদপুর-৪ আবদুল হামিদ (ইসলামী আন্দোলন), আতাউর রহমান কালু (সিপিবি), কাজী হেদায়েতউল্লাহ সাকলাইন (স্বতন্ত্র), মসিউর রহমান যাদু মিয়া (জাকের পার্টি), আবদুল লতিফ মিয়া (পিপলস পার্টি), এমদাদুল হক অপু (স্বতন্ত্র), ফিরোজ কবির চৌধুরী (স্বতন্ত্র), শাহ মো. আবুল কালাম আজাদ (স্বতন্ত্র), মো. ইছাহাক মিয়া (স্বতন্ত্র), কাজী জাফর (স্বতন্ত্র)।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ৪০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. মঞ্জু মিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিছুর রহমান, সৈয়দ তানভীর হোসেন, শাহজাহান আলম সাজু, মো. সফিউল্লাহ, আশরাফ উদ্দিন, মোখলেছুর রহমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, বিএনপির আবু আসিফ আহমেদ, বিএনপির আখতার হোসেন, ইসলামী ফ্রন্টের মো. মহিউদ্দিন মোল্লা ও গণফোরামের শাহ্ মফিজ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জাতীয় পার্টির আবদুল্লাহ আল হেলাল, স্বতন্ত্র জামাল রানা, আবু হানিফ, বশির উল্লাহ জুরু, ওমর ইউসুফ খান, মাঈন উদ্দিন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের সৈয়দ মাহমুদুল হক আক্কাছ, খেলাফত আন্দোলনের মুজিবুর রহমান হামিদী, ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ আনোয়ার আহম্মদ লিটন, গণফোরামের তারিকুল রৌফ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপির মুশফিকুর রহমান, বিএনপির মুসলিম উদ্দিন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির দেলোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র ফেরদুছ আক্তার ও আহমেদ শাহ মোর্শেদ শাহীন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মমিনুল হক সাঈদ, বিএনপির কাজী নাজমুল হোসেন, জাতীয় পার্টির কাজী মামুনুর রশিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, সায়েদুল হক সাঈদ ইসলামী ঐক্যজোটের মেহেদী হাসান।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে বিএনপির আবদুল খালেক, বিএনপির মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, বিএনপির রফিকুল ইসলাম সিকদার, জাতীয় পার্টির জেসমিন নূর বেবী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কেএম জাবির ও স্বতন্ত্র কবির হোসেন।

    রংপুর : ১৪টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- রংপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র আসাদুজ্জামান বাবলু, স্বতন্ত্র সিএম সাদিক ও শাহ মো. আলমগীর। রংপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র বিশ্বনাথ সরকার বিটু ও জাসদের কুমারেশ চন্দ্র রায়। রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র হাবিবুল সরকার (ফুলু সরকার) ও নাজমুল হক। রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল ও বিএনপির আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা। রংপুর-৫ বিএনপির ড. মমতাজ হোসেন ও বিএনপির শাহ সোলায়মান ফকির, স্বতন্ত্র আলিম মণ্ডল, মুসলিম লীগের মওদুদা আক্তার। রংপুর-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলনের বেলাল হোসেন।

    যশোর : ৬৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- যশোর-১ আসনে স্বতন্ত্র (জামায়াত) আজিজুর রহমান, জাকের পার্টির সাজেদুর রহমান ডাবলু। যশোর-২ আসনে বিএনপির সাবিরা সুলতানা, স্বতন্ত্র এবিএম আহসানুল হক, জাতীয় পার্টির মুফতি ফিরোজ শাহ, জাকের পার্টির মহিদুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মুহাদ্দিস শহিদুল ইসলাম ইনসাফী, বিএনএফের আবদুল্লাহ আল মাসউদ, গণফোরামের এম আছাদুজ্জামান। যশোর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের শাহীন চাকলাদার, ইসলামী আন্দোলনের মফিজুল আলম, বিএনএফের প্রশান্ত বিশ্বাস, জেএসডির সৈয়দ বিপ্লব আজাদ, বিকল্পধারার মারুফ হাসান কাজল।

    যশোর-৪ আসনে বিকল্পধারার এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আলী জিন্নাহ, জাকের পার্টির লিটন মোল্লা। যশোর-৫ আসনে স্বতন্ত্র কামরুল ইসলাম বারী, বিএনপির মোহাম্মদ মুসা, জাকের পার্টির রবিউল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের ইবাদুল ইসলাম খালাসী, জাগপার নিজাম উদ্দিন অমিত। যশোর-৬ আসনে জাকের পার্টির সাইদুজ্জামান, আওয়ামী লীগের শাহীন চাকলাদার, স্বতন্ত্র নুরুল ইসলাম ও বিএনএফের প্রশান্ত বিশ্বাস।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ : পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র নবাব মো. শামসুল হুদা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র তৈয়ব আলী, ইয়াহিয়া খালিদ, স্বতন্ত্র গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস ও খুরশিদ আলম বাচ্চু।

    শরীয়তপুর : পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপির সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু, জাকের পার্টির আলমগীর হোসেন, শরীয়তপুর-২ আসনে জাকের পার্টির বাবুল কাজী ও স্বতন্ত্র সফি উদ্দিন মানিক।

    বান্দরবান : ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- বিএনপির মাম্যাচিং, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম লীনা, ইসলামী ঐক্যের বাবুল হোসেন, স্বতন্ত্র লক্ষ্মী পদ দাশ, স্বতন্ত্র রাজকন্যা ডনাই প্রু নেলী ও স্বতন্ত্র নাথানা লনচে।

    চুয়াডাঙ্গা : চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জাকের পার্টির আলমাছ হোসেন ও মুসলিম লীগের মেরিনা আক্তার। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতের স্বতন্ত্র রুহুল আমিন ও স্বতন্ত্র নুর হাকিম।

    কুড়িগ্রাম : ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- কুড়িগ্রাম-১ আসনে স্বতন্ত্র ওসমান গনি। কুড়িগ্রাম-২ আসনে স্বতন্ত্র চৌধুরী সফিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র আবু সুফিয়ান, জাসদের সলিমুল্লাহ ছলি ও সমাধান ঐক্য পার্টি বীরপ্রতীক আবদুল হাই সরকার। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপির আবদুল খালেক। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন, জাকের পার্টির শাহ আলম, গণফোরামের মাহফুজার রহমান, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, স্বতন্ত্র ফজলুল হক মণ্ডল, জাহাঙ্গীর আলম, ঈমান আলী, শামসুল হক মৌলভী, অধ্যক্ষ ইউনুছ আলী, আবুল হাসেম, মোস্তাফিজুর রহমান, বাবুল খান ও আবিদ আলভী জ্যাপ।

    কুষ্টিয়া : নয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- কুষ্টিয়া-১ আসনে আওয়ামী লীগের আফাজ উদ্দিন আহমেদ, জাসদের (বাদল গ্রুপ) রেজাউল হক ও মুসলীম লীগের আবদুল খালেক সরকার। কুষ্টিয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র আবদুল গফুর ও বশির আহমেদ। কুষ্টিয়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আবদুর রউফ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মেহেদী হাসান, জাকের পার্টির তসির উদ্দিন ও জাসদের রোকনুজ্জামান রোকন।

    বাগেরহাট : তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাগেরহাট-১ আসনে জাতীয় পার্টির আহমেদ জোবায়ের। বাগেরহাট-২ আসনের জাতীয় পার্টির শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। বাগেরহাট-৪ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম খান (এনপিপি)।

    পাবনা ও সাঁথিয়া : চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- পাবনা-১ আসনে বিএনপির সালাউদ্দিন খান, পাবনা-৩ আসনে স্বতন্ত্র হাসানুল ইসলাম, বিএনপির হাসাদুল ইসলাম। পাবনা-৫ আসনে খেলাফত অন্দোলনের ডা. ইসমাইল হোসেন।

    নেত্রকোনা : ১২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- নেত্রকোনা-১ আসনে এলডিপির এমএ করিম আব্বাসী, এরশাদুর রহমান (স্বতন্ত্র), নজরুল ইসলাম (মুসলিম লীগ), আবদুল কাইয়ূম খান (খেলাফত মজলিশ), শাহ কুতুব উদ্দিন তালুকদার রুয়েল (স্বতন্ত্র), মোস্তফা জামান আব্বাস (জাকের পার্টি)। নেত্রকোনা-২ আসনে রহিমা আক্তার ওরফে আসমা সুলতানা (জাতীয় পার্টি), এজাজুল হক (স্বতন্ত্র)। নেত্রকোনা-৪ আসনে শফি আহমেদ (স্বতন্ত্র)। নেত্রকোনা-৫ আসনে রাবেয়া খাতুন (বিএনপি), আবু তাহের তালুকদার (বিএনপি), জাকির হোসেন তালুকদার (স্বতন্ত্র)।

    খুলনা : চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- খুলনা-২ আসনে জাতীয় পা?র্টির এরশাদুর জামান ডলার। খুলনা-৬ আসনে বিএনপির শফিকুল আলম মনা, স্বতন্ত্র সুব্রত কুমার বাইন ও স্বতন্ত্র আবদুল কাদের।

    ঝিনাইদহ : ১৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির এমপি আবদুল ওহাব, স্বতন্ত্র আবু বক্কর। ঝিনাইদহ-২ বিএনপির আসনে মসিউর রহমান, বিএনপির এমএ মজিদ, জাতীয় পার্টির আবু তালেব সেলিম, মীর রবিউল ইসলাম লাবলু। ঝিনাইদহ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মো. কামারুজ্জামান ও বিএনএফের ইসমাইল হোসেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কামরুল হাসান, কমিউনিস্ট পার্টির ওয়াদুদুর রহমান, স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম।

    মৌলভীবাজার : পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির এবাদুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র আমিনুল ইসলাম। মৌলভীবাজার-২ আসনে স্বতন্ত্র মহিবুল কাদির চৌধুরী। মৌলভীবাজার-৩ আসনে বিএনএফের আশা বিশ্বাস ও স্বতন্ত্র মোহাম্মদ মুসাব্বির।

    মাগুরা : চারজনের মনোনয়পত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- মাগুরা-১ আসনে স্বতন্ত্র কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি, স্বতন্ত্র কাজী রেজাউল ইসলাম ও গণফোরামের ডা. মিজানুর রহমান। মাগুরা-২ আসনে বিএনপির মেহদি আল মাসুদ।

    মুন্সীগঞ্জ : পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মো. আবদুল্লাহ, স্বতন্ত্র আমিনুল ইসলাম রতন ও মো. সাহাবুদ্দিন। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির নোমান মিয়া। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র চৌধুরী ফাহরিয়া আফরিন।

    জয়পুরহাট : দু’জনের মনোনয়পত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন- জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির ফজলুর রহমান ও স্বতন্ত্র আলেয়া বেগম।

    ময়মনসিংহ : ৩৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বিএনপির প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের মনোনয়ন সাজার কারণে বাতিল করা হয়। এছাড়াও বাতিলকৃতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি’র ৪ জন উপজেলা চেয়ারম্যান রয়েছেন। বাতিল ঘোষিতরা হলেন- ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন (আ’লীগ বিদ্রোহী), ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে আবুল বাসার আকন্দ (বিএনপি), এমদাদুল হক (জাপা) ও আবু বকর (স্বতন্ত্র), ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ডা. মতিউর রহমান (আ’লীগ বিদ্রোহী), একেএম আবদুর রফিক (আ’লীগ বিদ্রোহী), আলী আহম্মদ খান পাঠান সেলভী (আ’লীগ বিদ্রোহী), নাজনীন আলম (আ’লীগ বিদ্রোহী), শরীফ হাসান অনু (আ’লীগ বিদ্রোহী), ড. সামিউল আলম লিটন (আ’লীগ বিদ্রোহী), মোর্শেদুজ্জামান সেলিম (আ’লীগ বিদ্রোহী), আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ (বিএনপি) আবদুল মতিন মাস্টার (ন্যাপ) ও গোলাম মোস্তফা বাবুল (স্বতন্ত্র-কৃষক লীগ)। ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন (বিএনপি), কামরুল ইসলাম মো. ওয়ালিদ (বিএনপি) ও আবু সায়িদ মহিউদ্দিন আহমদ (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স-এনডিএ), ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে জহিরুল ইসলাম (জাকের পার্টি), সোহেল মিয়া (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ) ও আমজাদ হোসেন খেলাফত মজলিস), ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে চৌধুরী মোহাম্মদ ইসহাক (জেএসডি), ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে জয়নাল আবেদীন (বিএনপি) ও আবদুর রাজ্জাক রাজ (স্বতন্ত্র), ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে রুহুল আমিন মাস্টার (বিএনপি-বিদ্রোহী), মাহমুদ হাসান সুমন (আ’লীগ বিদ্রোহী), মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) ও আবুল বাসার (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি), ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে মো. আলমগীর কবির উজ্জ্বল খান (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), মো. আবদুল কাদির (স্বতন্ত্র) ও মো. শহীদুল্লাহ (স্বতন্ত্র), ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে মো. ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল (আ’লীগ বিদ্রোহী), ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী (জাতীয় পার্টি) ও মজিবর রহমান (জাতীয় পার্টি) এবং ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে আশরাফুল হক জর্জ (আ’লীগ বিদ্রোহী) ও অ্যাডভোকেট আমানউল্লাহ সরকার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।

    সিরাজগঞ্জ : সাবেক দুই মন্ত্রীসহ ১৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাকি ৩৩ জনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের, রায়গঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ভিপি আইনুল হক ও চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুনসহ দলটির ৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

    রাজবাড়ী : রাজবাড়ী-১ আসনে ন্যাশনালিস্ট পিপলস পার্টির (এনপিপি) কেএইচএম নাজমুল হক এবং রাজবাড়ী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নূরুদ্দিন মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    মেহেরপুর : ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মেহেরপুর-১ আসনে প্রফেসর আবদুল মান্নান, অ্যাড. মিয়াজান আলী, অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মেহেরপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা এমএ খালেক, মখলেছুর রহমান মুকুল, গাংনীর সাবেক মেয়র আহম্মেদ আলী, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা নূরজাহান বেগমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    লালমনিরহাট : ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে জামায়াত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন সাজু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবীব মো. ফারুক, লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনে বিএনপির জাহাঙ্গীর হোসেন এবং লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুল আলম প্রামাণিক মিঠু ও শামীম আহম্মেদ চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল।

    টাঙ্গাইল : ব্যাংকে ঋণখেলাপির অভিযোগে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে আরও ১২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, টাঙ্গাইল-৬ (নারগপুর-দেলদুয়ার) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী নুর মোহাম্মদ খান রয়েছে। ঋণখেলাপির কারণে এ দু’জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। মনোনয়ন বাতিল হওয়া অন্যরা হলেন- টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. চান মিয়া, বিএনএফের আতাউর রহমান, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বাকির হোসেন ও আবুল কাশেম, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম আশরাফুল ইসলাম ও বিএনএফের প্রার্থী সুলতান মাহমুদ, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সৈয়দ মজিবুর রহমান, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে জাতীয় পার্টির কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, খেলাফত মজলিসের আব্দুল লতিফ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শহিদুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ : ১৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪(ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাউসার আহমেদ পলাশ, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন, বিএনপির অধ্যাপক মামুন মাহামুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিএম কায়সার ও জাতীয় পার্টির সালাউদ্দিন খোকা মোল্লার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে শফিকুল ইসলাম, অনন্যা হুসেইন মৌসুমী, গণফ্রন্টের প্রার্থী মো. সিরাজুল হক, শাহাবুদ্দিন, মোশারফ হোসেনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে জাকের পার্টির মাহফুজুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেহেনা আফজাল এবং নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু হানিফ হৃদয়ের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    কক্সবাজার : ৪টি আসনে ৩৪ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন- কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর ছিদ্দিক। কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে এম গফুর উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল।

    জামালপুর : জামালপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুর-৪ আসনে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির মামুনুর রশিদ জোয়াদ্দার, একই আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমসহ জেলার বিভিন্ন আসনে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আল মামুন (জাকের পার্টি), ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে এসএম খলিলুর রহমান (বিকল্পধারা -জ্বাল স্বাক্ষর), রাজেন্দ্র নাথ রায় (স্বতন্ত্র -জ্বাল স্বাক্ষর) অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র রায় (স্বতন্ত্র- জ্বাল স্বাক্ষর) ও আব্দুল জলিলের (স্বতন্ত্র-স্বাক্ষর জ্বাল) মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

    কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সাংসদ ড. মিজানুল হকসহ বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের ২১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে ঋণখেলাপির কারণে মেজর আখতারের ও হলফনামায় ভুল তথ্যের কারণে ড. মিজানুল হকের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

    সাতক্ষীরা : সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। সাতক্ষীরা-১ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য বিএম নজরুল ইসলাম, বিশ্বজিত সাধু, ন্যাপের হায়দার আলী শান্ত, শেখ নুরুল ইসলাম ও এসএম মুজিবর রহমানের মনোনয়নপত্র বাদ পড়ে। এ ছাড়া সাতক্ষীরা ২ আসনে জেএসডির মো. আফসার আলী ও সাতক্ষীরা-৪ আসনে খলিলুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    রাঙ্গামাটি : দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- অমর কুমার দে এবং আশীষ দাশগুপ্ত। ত্রুটিপূর্ণ ও অসঙ্গতি তথ্যের কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    মাদারীপুর : বিএনপির প্রার্থীসহ ৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির নাদিরা মিঠু, জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম মিন্টু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ আবু জাফর ও জাকের পার্টির শাহ নেওয়াজের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। মাদারীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আল-আমীন মোল্লা ও এমএ কাদের মোল্লা এবং মাদারীপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির এমএ খালেকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

    মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর ফলে এই আসনে আপাতত বিএনপির কোনো প্রার্থীই নেই। বিএনপি মহাসচিবের স্বাক্ষর না মেলায় মানিকগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম শান্ত’র মনোনয়ন অবৈধ করা হয়েছে। এছাড়া একই আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী আবিদুর রহমান খান রোমান তিনি যথাসময়ে তার উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

    এদিকে জেলার তিনটি আসনে বিএনপির আরও ২ প্রার্থীসহ ৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির তোজাম্মেল হক, জাকের পার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ আতোয়ার রহমান, মানিকগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির এসএম আব্দুল মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। মানিকগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ হোসেন ও মাসুম মিয়া, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আতাউর রহমান আতার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

    পটুয়াখালী : মনোনয়ন বাণিজ্যে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রাজধানীর গুলশান সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক শাখার ঋণখেলাপির দায়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসার। এছাড়া জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের আরও ১০ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী-১ আসনে ৪ জন, পটুয়াখালী-২ আসনে ৪ জন এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়।

    লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য লায়ন এমএ আওয়ালসহ ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা মাহবুুব আলম, লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবু ফয়েজ ভূঁইয়া টিটু, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী ইউপি চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ ও কাগজপত্রে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী তাঁতী দল নেতা আবদুল মতিন চৌধুরী।

    বরিশাল : জেলার ৬টি আসনে ৫২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে ১১ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    নোয়াখালী : নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) আসনে মোজাহেদ হোসেন (স্বতন্ত্র), নোয়াখালী-২ (সেনবাগ) আসনে মো. আতাউর রহমান ভুঁইয়া (স্বতন্ত্র) নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে আফতাপ উদ্দিন (স্বতন্ত্র), আক্তার হোসেন (আওয়ামী লীগ), শামীমা বরকত (স্বতন্ত্র), আবু বকর সিদ্দিক (স্বতন্ত্র), এইচ আর এম সাইফুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনে জান্নাতুল ফেরদৌস (স্বতন্ত্র), মোসাম্মৎ শাহিনুর বেগম (বিএনপি), নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মো. ইবকাল উদ্দিন (স্বতন্ত্র), সাইফ উদ্দিন আহাম্মদের (স্বতন্ত্র) মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

    চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ৮টি আসনে বিএনপির ৯ হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নসহ ৪২টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম ও মো. মোশাররফ হোসেন; চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জাকের পার্টির প্রার্থী আবদুল হাই; চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশা ও জাসদ (ইনু) আবুল কাশেম; চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি প্রার্থী কারাবন্দি লায়ন আসলাম চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া ও শামসুল আলম হাসেম; চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল, তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম এবং নাছির উদ্দিন; চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে বিএনপি প্রার্থী সামির কাদের চৌধুরী; চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, আবদুল আলিম ও আবু আহমেদ; চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে বিএনপি প্রার্থী এম মোরশেদ খান; চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী সামশুল আলম; চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ইসলামী আন্দোলনের লোকমান সওদাগর, এনপিপির খোশাল খান, জাসদের জসিম উদ্দিন ও রশিদুল হক; চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এলডিপি প্রার্থী এম ইয়াকুব আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু তালেব বেলালী; চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ জামাল আহমেদ ও বিএনএফ প্রার্থী নারায়ণ রক্ষিত; চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে মনিরুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), শাহজাহান (স্বতন্ত্র) ও জাসদের সূর্যময় চৌধুরী; চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতের দক্ষিণ জেলা আমীর জাফর সাদেক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জব্বার।

    কুমিল্লা : কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) ছাড়া ১০টি আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে আলতাফ হোসাইন (ইসলামী ঐক্যজোট), বাশির আহমেদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), সৈয়দ ইফতেকার আহসান (জাতীয় পার্টি); কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে আবদুল মজিদ (স্বতন্ত্র), মনোয়ার হোসেন (স্বতন্ত্র), রবিউল ইসলাম (স্বতন্ত্র), বড়–য়া মনোজিত ধীমন (জাসদ), সারোয়ার হোসেন (স্বতন্ত্র); কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে জাহাঙ্গীর আলম সরকার (স্বতন্ত্র) ও তার ছেলে আহসানুল আলম কিশোর (স্বতন্ত্র), বিএনপির প্রার্থী কেএম মজিবুল হক, নজরুল ইসলাম (এনপিপি), সৈয়দ মোস্তাক আহমেদ (মুসলিম লীগ), কাজী জুন্নুন বসরী (স্বতন্ত্র), মোহাম্মদ আনিসুর রহমান (জাগপা), দেলোয়ার হোসেন (স্বতন্ত্র), গোলাম কিবরিয়া (স্বতন্ত্র), আকবর আমিন বাবুল (গণফোরাম); কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে আবুল কালাম আজাদ (স্বতন্ত্র), রেজভিউল আহসান মুন্সী (স্বতন্ত্র), ইরফানুল হক সরকার (স্বতন্ত্র), মাহবুবুল আলম (স্বতন্ত্র) এবং রুহুল আমিন (বিএনপি); কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. ইউনুস, আবুল কালাম ইদ্রিস (স্বতন্ত্র), শেখ আবদুল বাতেন (গণফোরাম) এবং শাহ আলম (ইসলামী ঐক্যজোট); কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর ও সিটি কর্পোরেশন এলাকা) আসনে বিএনপির সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিন; কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে কায়সার আলম সেলিম (স্বতন্ত্র); কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ইসমাইল (স্বতন্ত্র), ফয়েজ উল্ল্যাহ (স্বতন্ত্র), সোলায়মান চৌধুরী (স্বতন্ত্র); কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়া, আবুল কালাম আজাদ (মুসলীম লীগ), রুহুল আমিন চৌধুরী (স্বতন্ত্র) এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে তাজুল ইসলাম বাবুলের (জাকের পার্টি)।

    শেরপুর : শেরপুরের তিনটি আসনে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপির তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- হযরত আলী, শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ফজলুল কাদের। শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপির একেএম মুখলেছুর রহমান রিপন; শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে আবুবকর সিদ্দিক (পিডিপি), সরোয়ার বাহাদুর লাল (স্বতন্ত্র) এবং ইন্তাজ আলী বিএসসির (স্বতন্ত্র) মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

    লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য লায়ন এমএ আউয়াল (জাকের পার্টি), স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা মাহবুবুল আলমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফয়েজ ভূঁইয়া টিটুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিন চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

    দিনাজপুর : দিনাজপুরের ৬টি আসনে মোট ৫৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর-১ আসনে রঞ্জিত মুরমু (স্বতন্ত্র), পারভেজ হোসেন (স্বতন্ত্র) এবং বিএনপির মোহাম্মদ হানিফ এবং মামুনুর রশিদ চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। দিনাজপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মানবেন্দ্র রায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকাররম হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী রাইসুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। দিনাজপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ আলী এবং দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী শাহিনুর ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    চাঁদপুর : চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার মোশারফ হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আস?নে স্বতন্ত্র প্রার্থী খায়রুল হাসানের মনোনয়নপত্র বালিত এবং বিএনপির প্রার্থী তান?ভির হুদার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদ, আবুল কালাম আজাদ, আবু জাফর মো. ছালেহ এবং বিএনপি প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন নসুর মনোনয়নপত্র বা?লিত হয়েছে। চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে এলডিপি প্রার্থী নেয়ামুল বশির ও জাতীয় পার্টির খোরশেদ আলমের মনোনয়নপত্র বালিত হয়েছে।

    গাজীপুর : গাজীপুরের ৫ আসনে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। তারা হলেন- গাজীপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. কামাল উদ্দীন সিকদার, মুসলিম লীগের হুমায়ূন কবির ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আলী হোসেন মণ্ডল। গাজীপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির জয়নাল আবেদীন ও অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলম। গাজীপুর-৩ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবদুর রহমান ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) জহিরুল হক মণ্ডল (বাচ্চু)। গাজীপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মোশারফ হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির হোসেন। গাজীপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আশরাফ ভূঞা।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী