"> ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ ২ বছর, ১১ মাসেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি - ajkerograbani.com | A complete Bangladeshi newspaper ajkerograbani.com | A complete Bangladeshi newspaper
  • শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ ২ বছর, ১১ মাসেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি

    ডেস্ক | ১৪ এপ্রিল ২০১৯ | ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ

    ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ ২ বছর, ১১ মাসেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি

    ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। কিন্তু সম্মেলনের পর ১১ মাস অতিবাহিত হলেও ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি এখনো।

    সম্মেলনের আড়াই মাস পর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে আংশিক কমিটি গঠন হয়েছিল। তাও আট মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। কবে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে এমন নির্দেশনা না থাকায় হতাশায় ভুগছেন পদপ্রত্যাশীরা। কমিটি গঠন ঝুলে থাকায় কারো কারো বয়স গঠনতন্ত্রে নির্দেশিত সীমা ২৭ বছর অতিক্রম করছে।
    ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, কমিটি গঠনপ্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কমিটি গঠনের কাজ চলছে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।


    গত বছরের ১১ ও ১২ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিধান থাকলেও তা এবার হয়নি। ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সভাপতি হিসেবে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। পদপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এই কমিটি গঠিত হয়।
    ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে ছাত্রলীগের ১১১টি ইউনিট ও দেশের বাইরে প্রায় দুই ডজনের বেশি কমিটি দেখাশোনা ও গতিশীল করতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু বিগত আট মাসেও ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটিই পূর্ণাঙ্গ হয়নি। আর মাত্র এক বছর এক মাস সময়ে মেয়াদোত্তীর্ণ সব জেলার কমিটিও গঠন করতে হবে।

    ছাত্রলীগসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর উত্তর ও মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়টিও ঝুলছে। কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি পূর্ণাঙ্গতায়ও স্থবিরতা চলছে। হল কমিটির মেয়াদ পার হলেও গঠনের বিষয়ে কোনো তোড়জোড় নেই। কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া জেলা মর্যাদার সব কমিটির মেয়াদ এক বছর।

    জানা যায়, ঢাকা মহানগরে দুই কমিটি (উত্তর ও দক্ষিণ) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদও প্রায় শেষ হতে চলেছে অপূর্ণাঙ্গ অবস্থায়ই। আর মাত্র কয়েক মাস সময় রয়েছে তাদের। দেশের ৬৪টি জেলা ছাত্রলীগের কমিটিও মেয়াদ উত্তীর্ণ। সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ ও মেয়াদত্তীর্ণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটির সম্মেলন আয়োজন নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে কোনো তোড়জোড় নেই—এমন অভিযোগ ছাত্রলীগে পদপ্রত্যাশীদের।

    উপাচার্যের বাসভবনে মল চত্বরে চৈত্রসংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে কনসার্ট আয়োজন করা হয়। তবে এই কনসার্টের বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে জানানো হয়নি—এ বিষয় সামনে এনে তাঁর সমর্থকরা ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দ্বন্দ্ব সামনে চলে এসেছে। ছাত্রলীগ সভাপতিকে কোণঠাসা বা দমিয়ে দিতেই না জানিয়ে কনসার্ট আয়োজন করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি গণভবন থেকে একসঙ্গে ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি একসঙ্গে মিলেমিশে পরিচালিত হওয়া কথা থাকলেও গঠনের পর কিছু বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় ও ঢাবি কমিটির মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়।

    সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে ছাত্রলীগের অন্যরা যোগসাজশ করে হারিয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেলের ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন জিতলেও ভিপি প্রার্থী হেরেছেন। ডাকসুতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী জিএস ও ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এজিএস নির্বাচিত হয়েছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩০১ জন সদস্য নির্বাচিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায় চূড়ান্ত কমিটি করতে পারছেন না তাঁরা। যদিও কমিটির একটি খসড়া তৈরি করেছেন তাঁরা; কিন্তু পদ ভাগাভাগির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।

    ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন নির্বাচিতরা দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজনীতিতে তেমনটা সক্রিয় না থাকলেও নিজেদের কাছের লোকজনকে পদায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার ছাত্রলীগে গুঞ্জন রয়েছে, ‘মাইম্যান’ বা কাছের লোকদের চেয়ে সংগঠনে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে। মাদকাসক্ত, অতীতে কোনো অপরাধে যুক্ত ছিলেন বা আছে এমন বিতর্কিত কাউকে সংগঠনের পদ দেওয়া হবে না। নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগের পদ, সংগঠনের প্রতি অবদান ও পারিবারিক অবস্থাকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতাদের একজন বলেন, ‘দুই বছরের জন্য গঠিত কমিটি যদি ১১ মাসেও পূর্ণাঙ্গ না হয় তবে একটা সংগঠন গতিশীল হবে কিভাবে? যদি এখনো কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়, তবে তাঁরা কি এক বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন? শীর্ষ নেতারা পদপ্রত্যাশীদের মনোভাব বা টান বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। পদপ্রত্যাশীরা একটি পদের জন্য কিভাবে হন্যে হয়ে রাত-দিন ঘুরছেন সেটা তাঁদের বোঝা উচিত। ’ কোনো বিলম্ব না করেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে কাজ চলছে। পদপ্রত্যাশীদের পারিবারিক অবস্থা ও দলের প্রতি আনুগত্য ও অবদান বিবেচনায় নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিতর্কিত কাউকে কমিটিতে রাখা হবে না। ’

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী