• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    ডাকসু নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের লাভ-ক্ষতি

    ডেস্ক | ১২ মার্চ ২০১৯ | ১১:২৫ অপরাহ্ণ

    ডাকসু নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের লাভ-ক্ষতি

    ডাকসু নির্বাচনের প্রভাব এবং প্রতিক্রিয়া জাতীয় রাজনীতিতে সবসময়েই পড়ে। ১১ মার্চ দীর্ঘ ২৮ বছর দশমাস পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ডাকসু নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং অন্যান্য ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলো এখন লাভক্ষতির হিসেব কষছে। ডাকসু নির্বাচন কার জন্য কতটুক সুবিধা বা সমস্যা তৈরি করলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে ডাকসু নির্বাচনের লাভক্ষতির হিসেব বলেছে। এখানে পাঠকদের জন্য আওয়ামী লীগের লাভক্ষতির হিসেব উপস্থাপন করা হলো-

    আওয়ামী লীগের লাভ:

    ১. টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর আওয়ামী লীগ ডাকসু নির্বাচন করছে। ৯১ এর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার পর আওয়ামী লীগই একমাত্র ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে পারলো। এই কৃতিত্ব অবশ্যই আওয়ামী লীগের।

    ২. ডাকসুতে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে মোটামুটি ডাকসু এবং ছেলেদের হল সংসদের নিয়ন্ত্রণ এখন ছাত্রলীগের হাতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখন সরকার বিরোধী প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্র আন্দোলনের সম্ভাবনা কমে গেল। এটা আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় স্বস্তির কারণ।

    ৩. এই নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে এসেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফরম। ছাত্রদল বা বাম সংগঠনগুলোর প্রতিযোগিতাই গড়ে তুলতে পারেনি। এই নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির দাবিকে আরও ক্ষীণ করলো। এটা আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক।

    ৪. ডাকসুর ভিপি পদে ছাত্রলীগ হেরেছে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এটা আওয়ামী লীগের বড় লাভ।

    ৫. এই নির্বাচনে ছাত্রলীগের বিভক্তি এবং কোন্দল ভোট বিন্যাসেই প্রকাশ পেয়েছে। এটা ছাত্রলীগকে পুনর্গঠনের জন্য আওয়ামী লীগের কাজে লাগবে নিশ্চয়ই।

    আওয়ামী লীগের ক্ষতি:

    ১. এই নির্বাচনকে অনেকেই বলছে কারচুপির নির্বাচন। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের প্রতীকি নির্বাচন বলছে কেউ কেউ। বিশেষ করে কুয়েত মৈত্রী হলে ব্যালট উদ্ধারের ঘটনা আওয়ামী লীগকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আওয়ামী লীগ ভোট ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে- এই অভিযোগ এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আরও দৃঢ় হলো।

    ২. এই নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং অশিক্ষকসুলভ মনোভাব সমালোচিত হয়েছে। দলীয় আনুগত্যের কাছে শিক্ষকরা তাদের পেশার মর্যাদা ও নৈতিক অবস্থানকে জলাঞ্জলি দিয়েছেন। এটাও আওয়ামী লীগের অন্ধ দলীয়করণ নীতির বহি:প্রকাশ বলে অনেকে করছেন।

    ৩. এই নির্বাচনে স্পষ্টত নারী শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে, এটা আওয়ামী লীগের বড় মাথাব্যথার কারণ। কারণ নারী ভোটারদের এই মনোভাব জাতীয় ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

    ৪. এই নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারপন্থীদের সমর্থন দিয়েছে। এই প্লাটফরম ভবিষ্যতে সরকারের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

    ৫. টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আওয়ামি লীগ একলা চলো নীতি নিয়েই চলবে। ডাকসুতে ১৪ দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠনগুলোকে পাত্তাই দেয়নি ছাত্রলীগ। এই একলা চলো কৌশলের জন্য আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যতে চরম মূল্য দিতে হতে পারে।

    লাভ-ক্ষতির এই হিসেবের আসল পরীক্ষা হবে সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগ কি করে তাঁর উপর। দেশ পরিচালনায় দক্ষতা হয়তো সব নেতিবাচক দিক গুলোকেই আড়াল করবে।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী