• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    তুমি কি এইচএসসি পরীক্ষার্থী? তোমাকেই বলছি!

    শাহরিয়া নাজিম শাওন | ০৮ মার্চ ২০১৯ | ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

    তুমি কি এইচএসসি পরীক্ষার্থী? তোমাকেই বলছি!

    যারা এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছো এইবার তাদের জন্য রুটিনঃ
    পরিক্ষার বাকি আর ২৩দিন।
    রুটিন দিয়ে আমরা এই ২৩ দিনকে ৪৬ দিন করে দিবো। কীভাবে ডাবল করবো?,আমাদের হাতে আছে ২৩ দিন।
    আমরা সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টাকে একদিন। আবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরেরদিন সকাল ছয়টাকে একদিন ভাববো। এইভাবে একদিনকে আমরা দুইদিন করে নিবো। তাহলে আগামীকাল থেকে হিসাব করলে ২৩ দিনকে দ্বিগুন করলে ৪৬ দিন হয়ে যায়। রাইট?
    আচ্ছা,এবার আসি রুটিন নিয়ে।
    রুটিনে আমাদের পরিক্ষার বাকি ২৪ দিন আছে সেটা আমরা ভুলে যাবো। আমরা আজ থেকে ধরে নিলাম আমাদের পরিক্ষার বাকি ২০ দিন। কেনো ভাববো সেটা পরে বলছি,এবার ওই টেকনিক অনুযায়ী আমরা ২০ দিনকে ৪০ দিন করে ফেলবো। এবার পড়া শুরু।
    আমি আগেই বলেছিলাম, এই কয়দিন খুব বেশি সমস্যা না হলে কোচিং/প্রাইভেটে গিয়ে সময় নষ্ট না করে বাসায় বসে নিজের পড়াটা গুছিয়ে নেই। যদি খুব বেশি সমস্যা হয় তাহলে পড়ার বাইরে যেই সময়টা থাকবে সেই সময়টাতে আমরা আমাদের প্রব্লেমগুলা কোচিং/প্রাইভেটে সলভ করবো বা বুঝবো।

    এরপর বলেছিলাম সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা এই ১২ ঘন্টায় মাত্র ০৬ ঘন্টা পড়বো।
    পারবো না? বাকি ০৬ ঘন্টা কিন্তু আমার আড্ডা+ফেইসবুক+বিএফ/জিএফ ইত্যাদির জন্য পড়ে আছে। এখন আসি,এই ছয় ঘন্টা কীভাবে পড়বো? আমাকে নিয়ম করতে হবে দুনিয়াতে যত কিছু হোক,দুনিয়া উলটে যাক। আমি এই ১২ ঘন্টার মধ্যে ০৬ ঘন্টা পড়বোই পড়বো। প্রশ্ন থাকতে পারে ০৬ ঘন্টা পড়বো কীভাবে?
    খুব সহজ।
    সকাল ০৫ টা ৩০ মিনিটে ঘুম থেকে উঠে নামাজটা পড়ে কিছু খেয়ে,সকাল ০৬ টা থেকে ০৮ টা এই দুই ঘন্টা পড়বো। একদম মন দিয়ে! এই দুই ঘন্টায় কোন সাবজেক্ট পড়বো? এই দুই ঘন্টায় এমন সাবজেক্ট পড়তে হবে যেটাতে মুখস্থ করতে হয়।
    উদাহরণ হিসেবে সায়েন্সের বায়োলজি। ব্যাবসা আর মানবিকরা তোমাদের যেই সাবজেক্ট মূখস্থ করতে হয় বেশি,সেটা ডিসাইড করতে হবে।
    এরপর পুরো ০১ ঘন্টা খাওয়া+রেস্ট+ফেইসবুক যা ইচ্ছা তাই করো। তারপর আবার সকাল ৯ টা থেকে-১১ টা এই সময়টাতে আরেকটা সাবজেক্ট পড়তে হবে। এই সময়টাতে এমন সাবজেক্ট চুজ করতে হবে যেটাতে বুঝার পড়া আছে। সায়েন্সের স্টুডেন্টরা সব থেকে বেষ্ট হয় ফিজিক্স চুজ করা। ব্যাবসায় যারা তারা একাউন্টিং। যারা মানবিক তারা ইংলিশ। মানে তোমরা তোমাদের ইচ্ছেমত সাজিয়ে নিবা। আমি জাস্ট উদাহরণ দিচ্ছি।
    এরপর আধাঘন্টা রেস্ট+ফেইসবুকে একটু ডু মারা যা ইচ্ছা তাই!
    তারপর ১১ টা ৩০ মিনিট থেকে ১২ টা ৩০ মিনিট।
    এই ০১ ঘন্টাতে সহজ দেখে একটা সাবজেক্ট চুজ করো। সেক্ষেত্রে বাংলা/আইসিটি বা যেটা সহজ মনে হয়।
    খেয়াল করে দেখো দুপুর ০১ টার মধ্যে তোমার ০৫ ঘন্টা পড়া শেষ হয়ে গিয়েছে। এরপর নামাজ+খাওয়া/আড্ডা+ফেইসবুক+যা ইচ্ছা তাই।
    সন্ধ্যার আগে ০৬ ঘন্টা পড়তে বলেছিলাম। কিন্তু তোমার হয়েছে ০৫ ঘন্টা। বাকি ০১ ঘন্টা কোথায় যাবে? হ্যাঁ,এই ০১ ঘন্টা তুমি দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যেকোনো ০১ ঘন্টায় সকালে যে ০৩ টা সাবজেক্ট পড়েছো সেগুলা রিভিশন দাও বা তোমার যেটাতে প্রব্লেম সেটা আবার সলভ করো কিংবা যেই সাবজেক্টটা কম পড়া হচ্ছে সেটা পড়। ব্যাস!
    প্রথম একদিন আই মিন সকাল-সন্ধ্যা এই একদিনে তোমার কত পড়া হয়ে গিয়েছে নিজেও কল্পনা করতে পারবে না।
    এবার আসি পরের একদিন মানে সন্ধ্যা থেকে সকাল ০৬ টা।
    সন্ধায় নামাজ পড়ার পর ০৬ টা থেকে ০৮ টা পর্যন্ত একটা সাবজেক্ট পড়। সকালে যেটার প্রথম পড়েছো,সেক্ষেত্রে ফিজিক্স ২য় পত্র/কেমেস্ট্রি/অন্য কিছু। এর মানে হচ্ছে যেদিন সকালে যেটার প্রথম পত্র পড়বা সেদিন সন্ধায় ২য় পত্র ধরবা।
    ০৮ টা থেকে ১০ টা এই টাইমে আরেকটা সাবজেক্ট। সায়েন্সের যারা তারা ম্যাথ করতে পারো।। এরপর ০১ ঘন্টায় খাওয়া+নামাজ+ফেইসবুকে এসে
    ১১ টা থেকে ১২ টা ৩০ মিনিট আরেকটা সাবজেক্ট । খেয়াল করো সাড়ে ০৫ ঘন্টা পড়া হয়ে গেছে।

    তারপর আধাঘণ্টা ফেইসবুক+সন্ধ্যা থেকে যা পড়েছো তা একটু ডু মেরে নাও। এনাফ! এরপর আরেকটু ফেইসবুক ইউজ করে বা নিজের প্রিয় মানুষ থাকলে কথা বলে ঘুমিয়ে যাও। ০২ টার আগে অবশ্যই ঘুমাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে রাতে অন্তত ০৪ ঘন্টা যেনো ঘুম হয়। আর দুপুরের পরে ০১/০২ ঘন্টা যা ঘুমানোর ঘুমাও।
    আসলে রুটিন জিনিষটা তোমাদের মত সাজিয়ে নাও। কখন কোন সাবজেক্ট/টাইম নিবে সেটা আমার থেকে তুমি তোমার নিজের অবস্থা বিবেচনা করে ভালো বুঝবে।
    যাই করো সকালে ঘুম থেকে উঠে যেই সাবজেক্টটা পড়বে সেটা যেনো মুখস্থ টাইপের সাবজেক্ট হয়।
    আমি জানি,রুটিন দেখে অনেকের মাথা ঘুরাচ্ছে!
    কিছু করার নেই।
    এই কয়টাদিন এভাবে কষ্ট করো।
    দেখবা তোমার কত পড়া শেষ!
    ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ১২ ঘন্টা পড়তে পারবে না? বাকি ১২ ঘন্টা কিন্তু তোমার ফেইসবুক/জিএফ/বিএফ/সবকিছুর জন্য পড়ে আছে।
    এই সময়টাতে কষ্ট করতে হবে। কষ্ট ছাড়া আল্লাহ ভালো কিছু দিবে না।
    পরিশ্রম করো আর আল্লাহর কাছে চাও পরিক্ষা ভালো হবে।
    তোমার পড়ায় বরকত হবে।
    মন ভালো থাকবে।
    পড়তে ইচ্ছে হবে।
    আর এই সময়টাতে সব পড়ার দরকার নেই। সব পড়ার সময় এখন নেই। ইম্পরট্যান্ট টপিকসগুলা বার বার পড়ো। দেখবা মাত্র ২০ দিনের তোমার ভালো প্রিপারেশন হয়ে গিয়েছে। ট্রাষ্ট মি। তুমি এভাবে ২০ টা দিন কষ্ট করো। ২০ দিন পর তুমি নিজেও কল্পনা করতে পারবে না তোমার কত পড়া হয়ে গিয়েছে।
    অনেক কষ্ট হবে প্রথমে।
    কিন্তু তুমি মন থেকে নিয়ত করো দেখবা পেরে যাবা।
    চোখ অফ করে একবার ভাবো রেজাল্ট ভালো হলে সামনে কত ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।
    বোর্ড পরিক্ষা সহজ হয়।
    এত্ত প্রেসার নেওয়ার কিছু নেই।
    জাস্ট মন দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কয়েকটা ঘন্টা মন দিয়ে পড়ো। পড়াশুনা টেকনিক্যালি পড়তে হয়।
    যারা ব্যাবসা/মানবিকের তারা এই ভাবে পড়লে তাদের আরও আগে সিলেবাস শেষ হয়ে যাবে।
    আর এই পড়াগুলা কিন্তু তোমার এই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত লাগবে।
    সুতরাং তোমাকে পড়তেই হবে। আর তুমি পারবা।
    নিজের উপর বিশ্বাস রাখো।
    এই গেলো ২০ দিন। (ডাবল ৪০ দিন)।
    আরও ০৭ দিন বাকি আছে না? হ্যাঁ,সেটা শেষ ০৭ দিন।
    শেষ ০৭ দিনে তোমার কাজ হবে বাংলা,ইংরেজি,আইসিটি পড়া।
    প্রথম ০৩ দিন ইংরেজি আর আইসিটি যা আছে সারাদিন তা পড়বা।
    তখন অন্য কোনো সাবজেক্ট পড়ার দরকার নেই।
    সারাদিন শুধু এগুলা বার বার।
    শেষ করবা।
    আর একদম শেষ ০৪ দিন শুধু বাংলা আর বাংলা।
    অন্য কোনো সাবজেক্টের কথা একদম ভুলে যাবা।
    সারাদিন শুধু বাংলা আর বাংলা।
    এই তিনটা সাবজেক্ট কেনো পড়তে বলছি জানো? কারন সবার আগে এই তিনটা সাবজেক্টের পরিক্ষা হবে।
    আর তুমি যদি এই তিন সাবজেক্ট ভালোভাবে দিতে পারো। তোমার কনফিডেন্স লেভেল অনেক বেড়ে যাবো। তখন গ্রুপিং সাবজেক্ট গুলা এম্নিতেই ভালো হবে।
    ট্রাস্ট মি। সুতরাং ভালো করে পড় আর টেনশন করার দরকার নেই।
    তোমরা আমাকে রিকুয়েস্ট করেছো অনেকবার যেই ভাইয়া রুটিন রুটিন প্লিজ! তোমাদের অনুরোধ রেখে আমি কষ্ট করে দিয়েছি তাই তোমরা আমাকে প্রমিস করো তোমরা এটা মেনে চলবে? ইনশাআল্লাহ।
    আর সব ফ্রেন্ডকে মেনশন দিয়ে দাও যেনো দেখতে পারে।
    নয়তো তারা আবার বলবে ভাইয়া রুটিন দিন!
    যাইহোক, মজা করলাম।
    সবার পরিক্ষা ভালো হবে।
    জাস্ট নিজের উপর জিদ রাখো।
    সবাই পারলে তুমিও পারবে।
    আল্লাহ সবাইকে একই মেধা দিয়ে তৈরি করেছেন। এটা আল্লাহ নিজে বলেছেন। সুতরাং একজন যদি পারে।
    তুমিও পারবে।
    ২৩ দিন যথেষ্ট সময়।
    শুরু করে দাও,দেখবা শেষ হয়ে গিয়েছে।
    চেষ্টা করলে কি না হয়? সব হয় সব।
    ইনশাআল্লাহ।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী