• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    ধর্ষকদের বিচার দেবে কে?

    গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: | ১১ জুলাই ২০১৯ | ৬:৩২ অপরাহ্ণ

    ধর্ষকদের বিচার দেবে কে?

    বঙ্গবন্ধুর সপ্নের সোনার বাংলাদেশে ধর্ষকদের বিচার দেবে কে? বিচার চেয়ে সাংবাদিক আজমানুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকালে তার ফেসবুকের ওয়ালে এমনই একটা খোলা চিঠি দিয়েছেন।

    তাঁর ফেসবুক থেকে হবুহু তুলে ধরা হলো…….


    স্বাধীনতার রক্তে গাঁথা আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। আমার এই দেশে জনপ্রিয় শদ্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্ষণ।এক এর পর এক নির্বিচারে ঘটে যাচ্ছে ধর্ষণের মতো অমানাবিক কাজ।
    ধর্ষণের কারণ কি?
    কারণ খুঁজতে গিয়ে অনেকে বিতর্কিত এবং আপত্তিকর মন্তব্যও করেন অনেকে৷ ধর্ষণের জন্য মেয়েদের ছোট পোশাককেও দায়ী মনে করেন কেউ কেউ৷আবার অনেকে মনে করেন ধর্ষণের জন্য মূলত বিকৃত মানসিকতাই দায়ী৷
    হ্যাঁ, আমিও আপনাদের মতো মেয়েদের ছোট পোষাককে দায়ী করলাম। তাহলে কেন শিশু সায়মাকে ধর্ষণ করা হলো?
    কেন ৪বছর বয়সী শিশু সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হলো?
    বাংলাদেশ, ভারতের ধর্ষণের একই রকম চিত্র। পুলিশ মামলা নেয় না, মামলা নিলেও বিচার হয় না। আর ধর্ষিতা মানেই এই অঞ্চলে অপরাধী, বেশ্যা, মাগী তাই বিচার নিয়েও কেউ যেতেও চায় না, মুখ খুলতে চায় না। ফলে পরিসংখ্যান দেখায় বাংলাদেশে ধর্ষণ শূন্য, ভারতে কতিপয়। আমরা সকলেই জানি ভারতে ধর্ষণের চিত্রটা শোচনীয়, তবে সুখের কথা এই যে, তারা এজন্য পোষাক দে দায়ী করে না, বিচারহীনতা এবং ধর্ষকের কুরুচি কে দায়ী করে এবং বিচারের দাবীতে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে, পুলিশ-প্রশাসন কে বিচারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রবল চাপ প্রদান করে। “Rape in the United States is defined by the Department of Justice as “Penetration, no matter how slight, of the vagina or anus with any body part or object, or oral penetration by a sex organ of another person, without the consent of the victim.”এই সংজ্ঞা অনুসারে যদি বাংলাদেশ বা ভারত বা সৌদির পরিসংখ্যান দাড় করানো যেত তাহলে সেটা সদর্পে লেটার মার্কস পেয়ে যেত কোন সন্দেহ নাই।
    সুতরাং, আমরা দেখতে পারি ধর্ষণের দোষ যদি নারীর ঘাড়ে চাপানো যায়, নারীকে যদি বস্তাবন্দী করা যায়, নারীকে যদি ঘরে আটকানো যায় তাহলে নারীর স্বাধীনতা চুড়ান্তরূপে লোপ পায় এবং ধর্ষকের জন্য অবাধ ধর্ষণের অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয় কারণ নারী বিচার দেবার এবং বিচার পাবার সক্ষমতা হারায়। নারী হয়ে পরে হাতের পুতুল।
    এই পরিস্থিতিতে যারা পোষাক নিয়ে ফতোয়া দেয় তাদের উদ্দেশ্যটা বোঝা মুশকিল কিছু নয়। তারা চায় ধর্ষণের অধিকার এবং ধর্ষণ করে পার পাবার অবাধ সুবিধা। বোরকা হিজাব ছাড়া নারী দেখলেই যদি ধর্ষণের আকাঙ্খা সৃষ্টি হত তাহলে প্রতিটি বিবাহিত পুরুষ হত ধর্ষক, রাতে স্ত্রীর দেহ দেখে তারা দিনে কর্মক্ষেত্রে যেয়ে ধর্ষণ করত, উপাসনালয়ে যেয়ে ধর্ষণ করত, সংসদে যেয়ে ধর্ষণ করত, রাস্তায় ধর্ষণ করত, বাসে ধর্ষণ করত অর্থাৎ সুযোগ পেলেই ধর্ষণ করত। টিভি পর্দায় তিন মিনিটের আইটেম সং ধর্ষণের উস্কানী হয় তাহলে বাস্তবের ৩ মিনিটের স্ত্রী সঙ্গে একজন মানুষ মানুষ কত বড় ধর্ষক করে তুলত ভাবতে পারেন? কিন্তু এমন হচ্ছে না কারণ ধর্ষণের জন্য পোষাক দায়ী নয়, নারীর চমড়া দায়ী নয়, ধর্ষকের মানসিকতা দায়ী, বিচারহীনতা দায়ী। শরীর জেগে উঠলেই ধর্ষণ হয় না, ধর্ষণ হয় যখন বিবেক মরে যায়।
    এই পরিস্থিতিতে বিবেচক ভাই বোনেরা ভেবে দেখেন আপনারা কোন পথে হাঁটতে চান, কোন সংস্কৃতি গড়তে চান। আপনারা কি চান পুলিশ রেকর্ডে বাংলাদেশের ধর্ষণের পরিসংখ্যান শুন্যই থাকুক নাকি চান প্রতিটি ধর্ষণের বিচার হোক, নারীর সক্ষমতা তৈরি হোক?
    আপনারা কি চান মানুষ ধর্ষণ কে জাস্টিফাই না করে ধর্ষক কে ঘৃণা করুক, ধর্ষকের বিচার করুক নাকি চান নারী হোক পুরুষের হাতের ক্রীড়নক।
    এখন বিবেচনা আপনাদের হাতে, আপনি আপনার ধর্ম বিশ্বাস মতে পোশাক পড়তে চাইলে তা পড়তে পারা যেমন আপনার অধিকার যতক্ষণ তা অপরাধের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয় আবার আপনার পছন্দ মত যা ইচ্ছা পড়া, যা ইচ্ছে করাটাও আপনার অধিকার যতক্ষণ না তা আইন পরিপন্থী হয়।
    এ বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট নির্যাতন ২০৮৩জন, ধর্ষণ হয়েছে ৭৩১ জন আর গণধর্ষণ ১১৩ জন এবং হত্যা করেছে ২৭৬ জনকে।
    ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীদের হাত থেকে মা-বোনদের ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করেছিলো বাংলার রাখাল রাজা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।
    প্রিয় নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের হত্যার ৪৪ বছর পরেও বিচার করা হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকেও অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাধীন দেশে বিচার হচ্ছে।
    তবে কেন জাতির পিতার সন্তানদের ধর্ষণের বিচার হবে না এ স্বাধীন দেশের মাটিতে?
    আমাদের স্বাধীন দেশে ধর্ষকদের হাত থেকে আমাদের মা-বোনদের রক্ষা করবে কে?
    ধর্ষণের বিচার করবে কে?
    বিচার করার কেউ নেই। ধিক্কার জানাই আমাদের দেশের এই রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে। ধিক্কার জানাই আমার প্রশাসনকে।
    জনসম্মুখে ৫/৬টা ধর্ষককে ক্রসফায়ারে মারা হোক।বদলে যাবে দেশ , বদলে যাবে বিকৃত মানসিকতা।
    আসুন ধর্ষণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি, সচেতন হই, বিচার চাই, চাইতে চাইতেই পাব, বিচার না চাইলে বিচার না দেবার সংস্কৃতি তৈরি হয়, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ না করলে আগ্রাসনের সংস্কৃতি তৈরি হয়।
    প্রশ্ন করুন নিজেকে, কোন সংস্কৃতি চান আপনি, কোন সংস্কৃতি চায় বাংলাদেশ?

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী