• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    বিএনপির দু:সময়ে কর্মীরা খোঁজেন বি চৌধুরী ও কর্নেল অলিকে

    ডেস্ক | ১৩ এপ্রিল ২০১৯ | ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

    বিএনপির দু:সময়ে কর্মীরা খোঁজেন বি চৌধুরী ও কর্নেল অলিকে

    বিএনপির এখন দু:সময়। অস্তিত্বের লড়াই করছে বিএনপি। দলের মধ্যে নেতৃত্বের শূন্যতা। এই সংকটময় মুহূর্তে বিএনপি মনে করছে বিএনপিতে যে একটি টিম ওয়ার্ক এবং বেগম খালেদা জিয়ার বাইরে দলের একজন সার্বজনীন নেতার অভাব বিএনপি বারবার অনুভব করছে। বিএনপির কর্মীরা মনে করছে, একজন সার্বজনীন, গ্রহণযোগ্য এবং জাতীয় নেতা যদি বিএনপিতে থাকতো তাহলে হয়তো বিএনপি এই অবস্থা থেকে ঘুড়ে দাড়ানোর সুযোগ পেত। বিভিন্ন সময় মূল নেতার বাইরেও বিএনপিতে এরকম কিছু নেতৃত্ব তৈরী হয়েছিল যারা বিএনপিকে উত্তরনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। যেমন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন স্ব-মহিমায় উজ্জল। তিনি জিয়াউর রহমানের পাশপাশি নিজেও নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি অবস্থান করে নিয়েছিলেন। কে এম ওবায়দুর রহমানের কথা আমরা সবাই জানি। তিনিও বিএনপির মহাসচিব অবস্থায় বিএনপিকে নতুন উচ্চতায় নিতে সহায়তা করেছিলেন এবং মূল নেতৃত্বের ছায়ায় না থেকে আলাদাভাবে নিজের স্বতন্ত্র প্রকাশ করেছিলেন। আব্দুল মান্নান ভুইয়া কিংবা সাদেক হোসেন খোকার মতো নেতারাও বিএনপিতে নিজেদের স্বক্রিয়তায় উজ্জল ছিলেন এবং জাতীয় নেতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কিন্তু সেইদিন এখন আর বিএনপির নেই। বিএনপিতে আজকে যে সংকট, তার মূল কারণ অনুসন্ধান করে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন যে, এর পেছনে নেতৃত্বের অনুপস্থিতি, নেতৃত্বের সংকট একটি বড় কারণ। বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীন হবার পর বিএনপি কিভাবে চলবে এবং বিএনপির নেতৃত্বে কে আসবে এনিয়ে এখনো ধোয়াশা রয়ে গেছে। যদিও বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি হওয়ার সময় তারেক জিয়ার হাতে বিএনপি তুলে দিয়েছিলেন এবং তারেক জিয়াকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছিলেন। তারেক জিয়াও দেশে অনুপস্থিত। দল পরিচালনায় সরাসরি তার ভূমিকা নেই বললেই চলে।

    এরকম পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বিএনপি পরিচালনা করছেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন ভালো ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হলেও জাতীয় নেতা হিসেবে নিজেকে উদ্ভাসিত করতে পারেননি। বলা হয় একজন রাজনৈতিক নেতা সংকটেই তিনি তার দক্ষতা মেধা এবং বিচক্ষণতার প্রকাশ করেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত একবছরে প্রায় একা বিএনপি চালাতে গিয়ে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারেননি। অন্যান্য নেতাদের মধ্যে নিজের আস্থা নিতে পারেননি। একটি ঐক্যবদ্ধ দল হিসেবে বিএনপিকে সংগঠিত করতে পারেননি।

    এই বাস্তবতায় বিএনপিতে মনে করা হচ্ছে, যে সমস্ত নেতারা বিএনপি ছেড়ে চলে গেছেন বিভিন্ন ঘটনা এবং ঘাত প্রতিঘাতে। তাদের অভাব এখন প্রচন্ড অনুভব হচ্ছে বিএনপিতে। অনেকেই মনে করেন, তারা যদি বিএনপিতে থাকতেন তাহলে হয়তো বিএনপির এই অভাব ও শুন্যতা কিছুটা হলেও দূর হতো। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন সময়ে বিএনপিতে অবদান রেখেছিলেন এবং দলের মূল নেতৃত্বের বাইরে আলো ছড়িয়েছিলেন তাদের কথা বিএনপিতে বারবার মনে করা হচ্ছে। যেমন অধ্যাপক বদরুজ্জোদা চৌধুরী,বিএনপি যখন সংকটময় মুহূর্তে পতিত হয় তখন অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর কাছে গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জায়গা হয়নি মূলত তারেক জিয়ার অনাগ্রহর কারণেই। বিএনপির অনেকেই মনে করেন যে, ড. কামাল হোসেনের চেয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রেন্টের আহ্বায়ক হিসেবে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিএনপির জন্য অনেক রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতো। বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির আদর্শ এবং চিন্তা চেতনার সঙ্গে প্রায় একই চিন্তা করেন এবং তিনি অন্তত ঐক্যফ্রন্টের সভাগুলোতে জিয়াউর রহমানের নাম কিংবা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির বিষয়গুলো উথাপন করতেন। ফলে বিএনপির রাজনীতির দেওলিয়াত্বও কিছুটা হলে ঘুচতো।

    অনেকে মনে করছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য কর্ণেল অলি আহমেদের কথা। তাকে নিয়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা আস্থা ছিল এবং দলে তিনি বেশ জনপ্রিয় অবস্থানে ছিলেন। দলে তার একটা শক্ত ভিত্তি ছিল। এরকম ব্যক্তিত্বগুলো বিএনপি থেকে চলে যাওয়ার কারনেই আজকে বিএনপিতে একটা নেতৃত্বের শুন্যতা মনে করছেন অনেকে। এই নেতৃত্বের শূন্যতার কারণেই বিএনপি ক্রমশ ক্ষীন থেকে ক্ষীনকায় হয়ে গেছে। এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা আবেদন শুন্য দল হিসেবে পরিনত হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করেন।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী