• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    বিএনপি ঘরানার লোকেরাই কি মনজুরের ভরসা?

    ফরিদপুর প্রতিনিধি | ২৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৬:২২ অপরাহ্ণ

    বিএনপি ঘরানার লোকেরাই কি মনজুরের ভরসা?

    সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলফাডাঙ্গার টগরবন্দ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন মুন্সি মিজানুর রহমান। সাবেক সচিব মনজুর হোসেনের বাড়ি একই ইউনিয়নে। ওই নির্বাচনে তিনি নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করতে শেখ শহিদুজ্জামানকে আনারস মার্কায় দাঁড় করান। নৌকার প্রার্থী মিজানুর পরাজিত হন।

    গোপালপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম। এখানেও বিদ্রোহী প্রার্থীকে অর্থ এবং কৌশলগত সমর্থন দিয়েছেন মনজুর হোসেন। সাইফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠরা এ কথা বলে বেড়ান।


    এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের আলোচনায় হঠাৎ আর্বিভূত মনজুর হোসেন। ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে তিনি নৌকার প্রার্থী হচ্ছেন, তার হাতেগোনা কয়েকজন অনুসারী-অনুগামী এলাকায় তা প্রচার করে বেড়াচ্ছে। অথচ বিএনপি ঘরানার লোকজনের সঙ্গেই মনজুর হোসেনের সখ্য।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনজুর হোসেনের ঘনিষ্ঠজন ময়েন উদ্দিন। লোকে ময়েনকে মনজুর হোসেনের ডান বলেও চেনে। ওঠাবসা, চলাফেরাতে মনজুর-ময়েন জুটির কথা আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারীর মানুষের মুখে মুখে। ময়েন উদ্দিনের রাজনৈতিক পরিচয় তিনি বিএনপির স্থানীয় উপদেষ্টা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে থেকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী শাহ মো. আবু জাফরের ঘনিষ্ঠজন।

    আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করে আসছেন উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শেখ কোবাদ হোসেন। তিনি এলাকায় বিএনপির রাজনীতি অনুসারী-অনুগামী বলে পরিচিত। অথচ এই শেখ কোবাদ হোসেনই নৌকার মনোনয়নের দৌড়ে থাকা মনজুর হোসেনের অতি ঘনিষ্ঠজন।

    এখানেই শেষ নয়। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয়রা সাবেক এই আমলার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। সাইফুল্লাহকে এলাকায় মনজুর হোসেনের রাজনৈতিক একান্ত সচিব বলেও লোকে জানে। এই সাইফুল্লাহ এক সময় জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের শিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা গেছে।

    তারা বলছেন, মনজুর হোসেন তিন বছরের বেশি সময় আগে সরকারি থেকে অবসরে গেছেন। অথচ দীর্ঘ এই সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেননি। দলে যোগ দেননি। তার কোনো নিজস্ব কর্মী নেই। দলে ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি অপরিচিত। তাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী করা হলে পরাজয় ঠেকানো যাবে না।

    আলফাডাঙ্গার পানাইল গ্রামের বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম বলেন, মনজুর হোসেন যখন এলজিআরডি সচিব ছিলেন তখন নিজের গ্রামের রাস্তাও পাকা করতে পারেননি। সারাজীবন ঢাকা থেকেছেন। এখনো ঢাকায় থাকেন। গ্রামের মানুষের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ সম্পর্ক নেই। এমন লোককে নৌকার প্রার্থী করা হলে নৌকার ভরাডুবি হবে।

    বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, মনজুর হোসেন নামে যে কেউ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান, এ কথা কয়েকদিন হয় শুনতেছি। তাকে তো কেউ চেনে না। এমন অপরিচিত লোক কীভাবে নৌকার প্রার্থী হবে?

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী