• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    বিদায় ১৪২৫, স্বাগত ১৪২৬

    দিলীপ কুমার আগরওয়ালা | ১৩ এপ্রিল ২০১৯ | ৫:২৫ অপরাহ্ণ

    বিদায় ১৪২৫, স্বাগত ১৪২৬

    জীর্ণ পুরাতন ভেসে যায়। আসে নতুনের আবাহন। ধ্বনিত হয়, ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা।’ চিরায়ত বাঙালীর জীবনের এক প্রাণস্পর্শী দিনের শুরু আজ ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে। নতুনের কেতন উড়িয়ে বৈশাখ দেয় ডাক, খোলো খোলো দ্বার। বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল সবখানেই চির নতুনের আবাহন জেগে উঠছে ভোরের রাঙা সূর্যালোকে। বিদায় নিয়েছে পুরনো বছর ১৪২৫। এসেছে নতুন বছর ১৪২৬। বাঙালীর নববর্ষ।
    স্বাগত নববর্ষ, ১৪২৫। আবহমানকাল ধরে বাঙালীর প্রিয় দিন। নববর্ষ হোক উত্থানের। নতুন বর্ষে জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদ হোক নির্মূল। নাশকতা, সহিংসতা হোক বন্ধ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক সম্পন্ন। স্বদেশ হোক নৈরাজ্যমুক্ত। পহেলা বৈশাখ বাঙালীর নববর্ষ। বৈশাখ বাঙালীর জীবনে কী গ্রামে কী শহরে এক নতুন সমারোহ নিয়ে আসে। হালখাতার পাতা খুলে যেমন তার বাণিজ্যের পুণ্যাহ উৎসব, তেমনি সাধারণ জীবনযাত্রায়ও একটা প্রাণচাঞ্চল্য, ধ্বনিত হয় ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’
    বাঙ্গালির বর্ষবরণ নানা আয়োজন বাজবে ঢোল আর ঢাক । প্রকৃতির খেলায় নাগর দোলায়, ঘুরে এলো পহেলা বৈশাখ। আজ বর্ষবরণের প্রথম দিনে, বাঙ্গালির নববর্ষ উৎসবের ক্ষণে করিবে নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, ভুলে জ্বরা-কান্তি বাঙ্গালি সংস্কৃতি, বাঙ্গালির কৃষ্টি করতে চাই সৃষ্টি, শ্রদ্ধার সাথে হৃদয়ে গাঁথা থাক। ঐ দারিদ্র্যের নিস্পেষণে জর্জরিত, আনন্দ থেকে কেউ নয় বঞ্চিত।
    মেয়েদের লাল পেড়ে শাড়ি, কানে দুল, কিশোরীর খোপায় পরে গাঁদা ফুল। ছেলেরা গায়ে পড়ে লাল-সাদা রঙের বিভিন্ন পাঞ্জাবী আর পায়জামা ও ফতুয়া। আনন্দ উল্লাসে বৈশাখী মেলা, ভাসিয়ে সুখের ভেলা, মাটির পুতুল, কানের দুল, পাটের ছিকা, তাল পাতার পাখা, বাঁশের বাঁশি সোলার পাখি, শামুকের মালা গেঁথে রাখ। ঐ শহরে শহরের মুক্তাঙ্গনে, কবিতা পাঠ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, ঢাকায় রমনার বটমূলে সহ দেশের প্রতিটি বটমূলে সবাই নাচবে গাইবে প্রাণ খুলে। ইলিশ আর পান্তা ভাত, নববর্ষের রেওয়াজ হয়ে থাক। বাঙ্গালির বর্ষবরণ নানা আয়োজন, বাজবে ঢোল আর ঢাক, প্রকৃতির খেলায় নাগর দোলায়, ঘুরে এলো পহেলা বৈশাখ।
    নববর্ষ উদযাপন একটি বাঙ্গালির সর্বজনীন লোক উৎসব। অতীতের ভুলক্রটি ও ব্যথতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষ। এদিন সরকারী ও বেসরকারী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা দিনটি নতুন ভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নিবে। এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। তখন এর ঘনিষ্ঠ সর্ম্পক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং তা কার্যকর হয় তার সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে ৫ নভেম্বর ১৫৫৬ সালে হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
    বৈশাখী উৎসবের একটি আবশ্যিক অঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবন এবং আবহমান বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়। শোভাযাত্রায় সকল শ্রেণী-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহন করবে। শোভাযাত্রার জন্য বানানো হয় রং-বেরঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিলিপ। ১৯৮৯ সাল থেকে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ।
    জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে সম্ভাবনার নতুন বছরে আজ প্রবেশ করলো বাঙালি জাতি। বাঙালি পুরনো বছরের সকল অপ্রাপ্তি ভুলে গিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে আজ। পহেলা বৈশাখের বর্ণিল উৎসবে আজ মাতবে সারা দেশ। সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।
    লেখক: পরিচালক, এফবিসিসিআই, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী