• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    যশোরে ৩য় শ্রেণির প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ

    বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি | ৩০ নভেম্বর ২০১৮ | ৭:৪৩ অপরাহ্ণ

    যশোরে ৩য় শ্রেণির প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ

    যশোর সদর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে চুড়ামনকাটি ও হৈবতপর ইউনিয়নে বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্রের ফটোকপি প্রকাশ্যে হাত বদল হচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁসের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ি করেছেন অনেক অভিভাবক। তারা বলছেন, অসাধুদের কারণে জীবনের শুরুতে শিশুদের নকলের সাথে পরিচিতি ভবিষ্যতকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। না পড়েও অনেকে পরীক্ষায় ভালো করছে। সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।

    সূত্রে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলায় মোট ২শ ৫২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ১ম থেকে ৪র্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা। কিন্তু ইতিমধ্যে ৩য় শ্রেণির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া অভিযোগ উঠেছে। শনিবার অনুষ্টিত হবে ইংরেজি পরীক্ষা। কিন্তু অনেক এলাকায় ইংরেজি বিষয়ের প্রশের দেখা মিলেছে। বিশেষ করে চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে প্রশ্নের ফটোকপি হাত বদল হতে দেখা গেছে। কিভাবে তারা প্রশ্নপত্র পেলেন এই বিষেয়ে মুখ খোলেনি কয়েকজন ছাত্র ও ছাত্রী। তবে তারা জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নে গনিত পরীক্ষা দিয়েছে। অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রশ্নপত্রের ফাঁসের ঘটনা ঘটেই চলেছে। অসাধুদের ম্যানেজ করে একটি সিন্ডিকেট প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, গত ২৭ নভেম্বর তারা প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েছেন। ওই সময় সিলগালা করা প্রশ্নের প্যাকেট আলমারিতে তালা বদ্ধ করা হয়েছে। আর পরীক্ষার দিন আধা ঘন্টা আগে সকল শিক্ষকের সামনে প্যাকেট খুলে প্রশ্নপত্র বন্টন করা হয়। ফলে শিক্ষকরা প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত থাকতে পারেন না। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি যশোর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাসুদুর রহমান জানান, সদরে ১২ সদস্যের প্রশ্নপত্র প্রনয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। তারই প্রশ্নপত্রের সার্বিক দেখভাল করে থাকেন। সমিতির কোন কার্যক্রম নেই। তিনি আরো জানান, অসাধুদের কারণে প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটছে। যার দায় এসে পড়ছে শিক্ষকদের উপর। চুড়ামনকাটি ক্লাস্টারের এটিও(সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা) সাজ্জাদ হোসেন জানান, চুড়ামনকাটি ক্লাস্টারের আওতায় চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নের মোট ২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার বিষয়ে এখনো তাকে কোন প্রধান শিক্ষক অবহিত করেননি। যশোর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রশ্নপত্র প্রনয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে কোন অভিভাবক বা কোন স্কুলের শিক্ষক এখনো কোন কিছু জানাননি। কর্তৃপক্ষের কাছে ফাঁস হওয়া পত্রের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে না দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে দিলে বিষয়টি কিভাবে প্রমাণ করবো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আেেলাচনা করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। পাশাপাশি সনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে কারা এই প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত। এক প্রশ্নে কামরুল ইসলাম জানান, প্রশ্নপত্র প্রনয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেও এবার তিনি পিএসসি পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। যে কারণে প্রশ্নপত্রের বিষয়টি অন্য সদস্যদের উপর দেয়া হয়েছিলো।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী