• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    রিজভীকে বিএনপি অফিস ছাড়া করতে মরিয়া দলের একাধিক সিন্ডিকেট

    ডেস্ক | ১১ জুন ২০১৯ | ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

    রিজভীকে বিএনপি অফিস ছাড়া করতে মরিয়া দলের একাধিক সিন্ডিকেট

    ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপির একাধিক সিন্ডিকেট। এ ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নিয়ন্ত্রণে নিতে মাঠে নেমেছেন তারা। যে কোনো মূল্যে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে বের করে দিয়ে দফতর দখলে নিতে চাচ্ছেন।

    এ কাজে ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। উসকানিতে ইতিমধ্যে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন বিক্ষুব্ধরা। আজ নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।


    সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন দলটির একাধিক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। দলের শীর্ষ নেতাদের ঘিরে তাদের অনুসারী এসব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এসবের সদস্যদের মতে, দফতরে বসে রিজভী আহমেদ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। লন্ডনে তারেক রহমানকে ভুল বার্তা পাঠিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সর্বশেষ ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণ নিতে মাঠে নেমেছেন রিজভী আহমেদ ও তার অনুসারীরা।

    দফতরকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন জেলা কমিটি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করেন। তাই কার্যালয় থেকে তাকে বের করতে হবে। সম্ভব না হলে তিনি পুরো দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবেন। এ পরিস্থিতিতে রিজভীকে দফতর ছাড়া করার কৌশল নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। ইতিমধ্যে তারা বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে রিজভী আহমেদ তার ইচ্ছামতো কমিটি বিলুপ্ত করে দিয়েছেন বলে তাদের উসকানি দেয়া হয়েছে।

    এ ব্যাপারে রিজভীর কাছে জবাবদিহি চাইতে সবাইকে দফতরে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। এ ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে একপর্যায়ে রিজভী আহমেদকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়ার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

    ওই বৈঠকে উপস্থিত ছাত্রদলের বিক্ষুপ্ত কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈঠকে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আমরা সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করব। কারও দাবার ঘুঁটি হতে চাই না।

    এদিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেয়ার আগেই যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তি চান বিক্ষুব্ধরা।

    এ বিষয়ে বিএনপি হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেয়া হলে তারা কোনো আন্দোলনে যাবে না।

    এ নিয়ে আজকালের মধ্যে তারা নয়াপল্টনে রিজভী আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

    সংক্ষুব্ধরা রোববার তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠিও লিখেছেন। সেখানে তারা বলেন, এটা আপনার সিদ্ধান্ত হতে পারে না। দলীয় প্যাড অপব্যবহার করে আপনার সিদ্ধান্তকে পাল্টে দিয়ে আপনাকে ভুল বুঝিয়ে সিন্ডিকেট তাদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ছাত্রদল তথা বিএনপিকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র করছে। এজন্য এসএসসি-২০০০কে পরবর্তী কমিটির নেতৃত্বের জন্য সর্বোচ্চ ব্যাচ হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

    এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির বলেন, আমরা আমাদের রাজনৈতিক নিশ্চয়তা চাই। আমরা চাই, ছাত্রদলের মতো অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের কমিটি ভেঙে দিয়ে বয়স নির্ধারণ করে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হোক। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আমরা কারও উসকানিতে পা দেব না। এদিকে সোমবার বিকালে বিক্ষুব্ধরা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। তারা আজ বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জড়ো হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বয়সের সীমারেখা উঠিয়ে দিয়ে অতীতের ধারাবাহিকতায় নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানাবেন তারা। দাবি না মানলে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত হয়। শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে বৈঠকে উপস্থিত একজন জানান।

    জানতে চাইলে ছাত্রদলের কাউন্সিলের জন্য গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কমিটি বিলুপ্ত করেছেন। নতুন কাউন্সিলের প্রক্রিয়াও তারই নির্দেশে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ছাত্রদলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে একটা নিয়মের মধ্যে আনতেই এ উদ্যোগ। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই।

    তিনি বলেন, কমিটি বিলুপ্তের পর অনেকে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও তাদের পদায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের চেয়ারপারসন জেলে। তাই এই মুহূর্তে অনশন বা অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, তা-ও সবাইকে ভেবে দেখতে হবে।

    রিজভী আহমেদের ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানান, ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তার কোনো ভূমিকা নেই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশেই তিনি সবকিছু করছেন। তারেক রহমানের নির্দেশেই পরিবার-পরিজন ছেড়ে একাকী দফতরে অমানবিক জীবন কাটাচ্ছেন।

    অনেকে হয়তো ভাবছে, এখানে বসে তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাকে সরিয়ে দিতে পারলেই তারা নিজেদের মতো করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবেন। আসলে বিষয়টি তা নয়। রিজভী আহমেদ শুধু দাফতরিক দায়িত্ব পালন করছেন। জানতে চাইলে রিজভী আহমেদ বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তার সিদ্ধান্তগুলো দফতর থেকে জানানো হয়। শুধু আমি না, কারও পক্ষেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই আমি দফতরের কাজ করছি। তিনি বললে আমি এক মুহূর্তও এখানে থাকব না।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী