• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    শুরু থেকেই আচরণবিধি ভাঙছেন ফরিদপুর-১ আসনের মনজুর

    ফরিদপুর প্রতিনিধি | ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৭:৩১ অপরাহ্ণ

    শুরু থেকেই আচরণবিধি ভাঙছেন ফরিদপুর-১ আসনের মনজুর

    একের পর এক নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙছেন ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনজুর হোসেন বুলবুল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা এখনো শুরু হয়নি। অথচ মনজুর হোসেন নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য করে একের পর এক নির্বাচনী সভা করছেন। নিজের পক্ষে ভোট চাইছেন। এ নিয়ে আসনটির অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের অনুক‚লে প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরপরই শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর থেকে একের পর এক নির্বাচনী সভা করে যাচ্ছেন মনজুর হোসেন। গত ১ ডিসেম্বর আলফাডাঙ্গায় দামুদার আখড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ফরিদপুর-১ আসনে নৌকার প্রার্থী মনজুর হোসেনের পক্ষে ভোট চাওয়া হয়। তার পক্ষে ভোট চেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বক্তৃতা করেন। প্রার্থীকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ওই সভায়।

    গত ৩ ডিসেম্বর বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগ বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। সভার মধ্যমণি ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের প্রার্থী মনজুর হোসেন। উপজেলার বিলাসী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সভা মঞ্চে প্রধান অতিথির চেয়ারে ছিলেন মনজুর হোসেন। ওই সভাতেও নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বক্তারা মনুজর হোসেনের পক্ষে ভোট চান।

    মঙ্গলবার একইভাবে বিশেষ বর্ধিত সভার নামে নৌকার প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য সভার আয়োজন করে মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ। যেখানে মনজুর হোসেনকে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। মনজুর হোসেন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের বক্তৃতায় মনজুর হোসেনের পক্ষে ভোট চান।

    এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা মনোয়ার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার বিষয়টি আমাদের আগে থেকে জানানো হয়নি। জানার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে সভাস্থলে গিয়ে তাদের সভা শেষ করার জন্য বাধ্য করেছি। ভবিষ্যতে তারা যেন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়, এমন কাজ না করেন, সে ব্যাপারে সতর্ক করেছি।’

    জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ‘এতদিন আমরা কিছু জানতাম না। মঙ্গলবার মধুখালীতে নির্বাচনী সভা করার তথ্য পেয়েছি। এতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনজুর হোসেন বুলবুলকে ফোনে সতর্ক করেছি। পরে তাকে লিখিত চিঠি দিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচারণা বা সভা করা আচরণবিধি লঙ্ঘন। যদি কেউ এই বিধি অমান্য করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনজুর হোসেনের পক্ষে সভার বিষয়ে আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে আমি সংশ্লিষ্ট জেলায় খবর নেবো।’

    এ বিষয়ে জানার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের মুঠোফোনে কল করা হলে কলটি রিসিভ হয়। তবে অপরপ্রান্ত জানানো হয় যে, তিনি সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। সচিব সাহেব ব্যস্ত আছেন। তার সঙ্গে কখন কথা বলা যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, ‘স্যারকে ফোনে পাওয়া যাবে না। সরাসরি এসে কথা বলতে হবে।’

    এর আগেও মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্যের অভিযোগ রয়েছে। তিনি রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রোত্তর ব্যাংকের গাড়ি, ড্রাইভার, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও মুঠোফোন ব্যবহার করে নির্বাচনী কাজ করছেন। এ ছাড়া তার স্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডেইজী বেগম রেহানাও সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে স্বামীর পক্ষে নির্বাচনী কাজ ও প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। গত ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন কোনো ধরনের শোডাউন বা মিছিল করা নিষিদ্ধ হলেও মনজুর হোসেন কয়েকশ মোটর সাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে শোডাউন করে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী