• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    শ্রোতাদের জন্য গান করি, ভিউ নিয়ে ভাবিনা-এফ.এ সুমন

    হাবিব মোস্তফা | ১৪ মার্চ ২০১৯ | ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

    শ্রোতাদের জন্য গান করি, ভিউ নিয়ে ভাবিনা-এফ.এ সুমন

    বাংলা গানের শ্রোতাদের রুচির একটা ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কি?

    পরিবর্তনকে সব সময় আমি সাধুবাদ জানাই। পরিবর্তন না থাকলে পৃথিবীটতে সৃষ্টির বৈচিত্র থাকত না, জীবনের সব আনন্দও ফিকে হয়ে যেত। এই পরিবর্তন মিউজিক ইন্ড্রাস্ট্রিতে হচ্ছে এটা পজিটিভ বিষয়। এক সময়‘কলের গানে’ গান শুনত মানুষ, তারপর আসল টেপরেকর্ডার। টেপরেকর্ডারের যুগ পেরিয়ে এক সময় সিডির রাজত্ব চলেছে। বর্তমানে ইউটিউবের যুগে গানের প্রচারটা আরো বেশী হচ্ছে। শ্রোতাদের ফাঁকি দেয়া এখন খুব কঠিন। শ্রোতাদের কান খুব সতর্ক। কোনটা একোয়েস্টিক আর কোনটা মেশিনের কাজ সচেতন শ্রোতারা এখন সহজেই বুঝে নেয়। ভাল গান শ্রোতারা সাদরে গ্রহন করছে। কোন কোন সময় আমার সব গান ভিডিও করা হয়না। দেখা যায় লিরিকাল ভিডিও করা কোন গানও দশ লাখেরও বেশী ভিউ হয়। তাতে কি প্রমান হয়? প্রমান হয় ‘দশ লক্ষ’ প্রকৃত শ্রোতা গানটি শুনেছে। এটা শিল্পী হিসেবে আমার অনেক বড় একটি প্রাপ্তি।

    *লক্ষ্য করা যায়, নবাগত শিল্পীর কোন গানও কোটি ভিউ হয়ে যায়। কিন্তু শিল্পগুণের বিচারে সে গান সচেতন শ্রোতারা গ্রহন করছে না। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হিসেবে আপনি গানের ভিউ বাড়ানোর পক্ষ্যে নাকি সত্যিকারের ভাল গানের পক্ষে?

    -সংগীতের ক্ষেত্রে আমি ভাগ্যে বিশ^াস করিনা। বিগত দেড় যুগের অধ্যবসায়ী শ্রমে আজকের এফ,এ সুমন। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান থেকে বলতে গেলে, আমার যতগুলো গান কোটি ভিউ হয়েছে, প্রতিটি গান এখনো শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায়। বোস্ট করে কিংবা হুজুগে যদি কোটি ভিউ হতো তাহলে সে গানগুলো এখন আর শ্রোতাদের মুখে মুখে গীত হত না। আর কোন কোন শিল্পীর দুই-একটি ব্যতিক্রমী গান যুগের হাওয়ায় কোটি ভিউ হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেই শিল্পীদের পরবর্তী গানগুলোর ব্যবসায়িক সফলতার কন্টিনিউশন না থাকাটাই প্রমান করে তাদের গানের কোটি ভিউ হওয়াটা একটা হুজুগ কিংবা দূর্ঘটনা ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময় ভাল গানের পক্ষে। কখনোই গানের ভিউ বাড়ানোর জন্য গান করিনা।

    *একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে ইন্ড্রাস্ট্রির প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা কি?

    ইন্ড্রাস্ট্রির প্রতি আমার অনেক দায়বদ্ধতা। কারন ইন্ড্রাস্ট্রি না বাঁচলে শিল্পী বাঁচবে না। কোন কোন শিল্পী নিজের ষোল আনা বুঝে নেয়, কিন্তু কোম্পানীর কথা ভাবেনা। এ কারণে একটা সময় এ ধরনের শিল্পীরা যেমন মার্কেট আউট হয়ে যায়, তেমনি কোম্পানী গুলোও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। একজন প্রকৃত শিল্পীকে শ্রোতাদের পাশাপাশি অবশ্যই কোম্পানীর সুবিধা অসুবিধার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

    *কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক কোন পরিচয়টি আপনার কাছে বড়?

    আমি নিজেকে একজন সংগীত পরিচালক পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ইন্ড্রাস্ট্রিতে আমার আগমনও একজন গিটার প্লেয়ার হিসেবে। বোদ্ধারা আমার সাথে একমত হবেন ‘ভোকালটাও একটা ইন্সট্রুমেন্ট’। তাছাড়া যার যত বেশী ইন্সট্রুমেন্ট এর উপর দখল থাকবে তার মিউজিক্যাল জার্নিটাও তত বেশী সুদূরপ্রসারী হবে। এ আর রহমান কে দেখুন, আমার বক্তব্যের সহজ ব্যাখ্যা পেয়ে যাবেন।

    *বর্তমান কাজ সম্পর্কে জানান।

    একান্ত নিজের পছন্দ অনুযায়ী কিছু গান করছি। যে গানগুলোতে প্রতিনিয়ত আমি নিজেকে ভেঙ্গে গড়ার চেষ্টা করছি, নিজেকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছি।

    *শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

    শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে আমার এতটুকুই বলা, ‘আপনারা সব সময় ভাল গান শুনবেন, অন্যকেও শুনতে অনুপ্রাণিত করবেন’।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী