• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    সম্পর্ক

    মাহবুব হাসান বাবর | ০৭ জুলাই ২০১৯ | ১:১২ অপরাহ্ণ

    সম্পর্ক

    নিপুন ঠাস করে চড় বসিয়ে দিয়ে হাতের দিকে তাকায় । রানা গালে হাত দিয়ে নিপুনের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকায়। তাকিয়ে থাকতে থাকতে দু ‘চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বের হতে থাকে।
    নিপুন কিছু না বলেই দ্রুত চলে যাচ্ছে। রানা কাঁদো কন্ঠে একবার পেছন থেকে ডাকে। নিপুন একবার ফিরে তাকিয়ে আবার চলে যায়।
    সাইন্স বিল্ডিং পেরিয়ে যেতে না যেতেই একটি মোটর সাইকেল এসে থামে। সিনেমার নায়কদের ভঙ্গিতে বাইকওয়ালা টার্ন নেয়। নিপুন বাইকে উঠতে উঠতে রানার দিকে তাকায়। বাইকারের শরীরের সাথে ঝাপটে থাকে তার শরীর। ভোঁ ভোঁ শব্দে একসময় ওরা অদৃশ্য হয়ে যায়।
    রানা সব দাড়িয়েই দেখছিলো। হঠাৎ ঘন্টার শব্দে তার ঘোর কাটে। খুব আস্তে আস্তে আইসিটি ভবনের তিনতলার দিকে যেতে যেতে মনের ভেতর ঘুরপাক খায়। নিপুন কি তাহলে নতুন করে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে? তাহলে এতোদিনের সব সম্পর্ক কি মিথ্যে!
    তিনতলার সিড়ি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে হঠাৎ থমকে দাড়ালো। কি মনে করে ফিরে নিচে নামতে থাকলো। নিচে নামতে নামতে নিজেকে প্রশ্ন করলো,
    মোটর বাইকওয়ালা ছেলেটি কি তাহলে নিপুনের নতুন প্রেমিক?
    কোন উত্তর সে পেলোনা। এ উত্তর সে কখনও পাবেনা।
    মাথাটা কেমন যেনো ঘুরছে রানার। কিছুদূর না এগোতেই হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো। যখন জ্ঞান ফিরলো তখন সে নিজেকে আবিস্কার করলো হসপিটালের সফেন বিছানায়। রানার মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আর জোরে জোরে দোয়া পড়ছেন। মায়ের পাশে দশ বছরের বোন ফারিয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
    রানা চোখ খুলে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব দেখতে থাকে।
    রানার মা তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
    এই রানা তোর এখন কেমন লাগছে বাবা ?
    ফারিয়া ভাইয়া ভাইয়া করতে করতে মাথায় হাত রাখে।
    ততক্ষনে রানা উঠে বসেছে। ফারিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলে,
    কিরে কাদছিস কেন? আমার কি হয়েছে। বোকা মেয়ে এভাবে কেউ কাঁদে ?
    রানার মা উঠে দাড়িয়ে বলে,
    কতবার বলেছি না খেয়ে কলেজে যাসনা। কে কার কথা শোনে!
    আজ মাথা ঘুরে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলি। যদি বড় কিছু হয়ে যেতো!
    মায়ের কথাগুলো শুনতে শুনতে রানা
    মায়ের বুকে মাথা রাখে আর রানার কাধে ফারিয়ার চিবুক।

    হসপিটাল থেকে বিকেলেই ছাড়া পায় রানা। সন্ধার দিকে একগ্লাস দুধ হাতে করে আসে মা। রানার ঘরটা খুব অগোছালো। মশারীটা এক কোনে পড়ে আছে। ঘর ভর্তি জামা কাপড়। মা বিড়বিড় করে কি যেনো বলতে থাকে। দুধের গ্লাস রানার হাতে দিতেই সে ঢকঢক করে খেয়ে ফেলে। যাবার আগে মা রানাকে বলে,
    ঃআজ আর বেশী রাত করিস নে। শুয়ে পড়। ঘুমালে শরীরটা ভালো লাগবে।
    রানা কোন কথা বললো না। নিপুনের কথা ভাবতে ভাবতে বুকের ভেতরটা ছ্যাৎ করে উঠে রানার। দুই বছর তাহলে অভিনয় করেছিলো। মায়ের কানের দুল চুরি করে মোবাইল কিনে দিয়েছিলো গত জন্মদিনে। রানা নিজেকে খুব অপরাধী ভাবছে।এমন একটা মেয়ের পাল্লায় পড়ে হয়তো নিজেকে ধীরে ধীরে শেষ করে দিতো। কিন্তু কিছুতেই নিপুনকে ভুলতে পারছেনা।
    মায়ের দুলটা বাবা বিয়ের সময় দিয়েছিলো। চুরি হওয়া দুলের জন্য ছোটমামাকে সন্দেহই শুধু নয় অনেক বকাঝকা করে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছিলো। কাজের মেয়েটারও চাকরি গেলো।
    বিছানা থেকে উঠে আয়নার সামনে আসে রানা।
    নিজেকে দেখে চমকে উঠে সে! এতো রানার মুখ না। এ মুখটাতো একটি চোরের। কাল সকালে এ মুখ সে দেখাবে কেমন করে? আয়নায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে একজন অপরাধীর অবয়ব।
    সারারাত নির্ঘুম কাটিয়ে শেষরাতে এক ভয়ংকর ঘটনার জন্ম দেয়।
    সকালে রানার রুমের সামনে এসে মা ডাকতে থাকে। দরজা ধাক্কা দিতেই খুলে যায়। ঢুকে রানাকেই ডাকার আগেই দেখে ফ্যানের সাথে রানা ঝুলছে।
    মা একটা চিৎকারের পরেই বোবা হয়ে যায়।


    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী