• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    হতাশায় তারকারা, আত্মহত্যা নাকি অন্য উপায়?

    ডেস্ক | ১১ এপ্রিল ২০১৯ | ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ

    হতাশায় তারকারা, আত্মহত্যা নাকি অন্য উপায়?

    নায়ক রিয়াজের ভাষ্য, মৃত্যুর কিছুদিন আগে সালমান শাহর বুকে রিয়াজ দেখেন অনেকগুলো ক্ষত। রিয়াজ প্রশ্ন করেছিল এভাবে হলো কিভাবে? সালমান শাহর উত্তর, কষ্টগুলো বের করতে চেয়েছিলাম। কতটা চাপ আর কষ্টের মধ্যে তিনি ছিলেন সেটাই কি তার মৃত্যুর কারণ কিনা তা এখনো অমীমাংসিত। জান্নাতুল পিয়া বলেছিলেন আমি মানসিকভাবে ভেঙ্গে যে ঠিক কতবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম তার ঠিক নেই। হলিউড বলিউড তারকাদের মানসিকভাবে অবসাদ গ্রস্থ হওয়ার খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে আসে। বাংলাদেশেও যে আসে না তা কিন্তু নয়।

    এইতো কিছুদিন আগে উঠতি অভিনেত্রী ও মডেল হেলেন আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিলেন। যদিও শেষমুহুর্তে পরিবারের সতর্কতায় সে পথে হাটতে পারেননি হেলেন। অসুস্থ হেলেন হসপিটালে ভর্তি হয়েছিলেন। তরুণ অভিনেতা মনোজ কুমার বাবা মা সংসার সবাইকে নিয়ে এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন যে অভিনয়টা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। হতাশ হয়ে জোভান অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। মাহিও বলেছিলেন চলচ্চিত্রে কাজ ছেড়ে দিবেন।

    কী আছে, কী নেই, সেই দোলাচলে মন পড়ে যায় বিপাকে। সেটা তারকার ক্ষেত্রেও কম নয়। খ্যাতির বিড়াম্বনা পেয়ে বসে বলেই অনেকের ধারণা। শুধুই কি খ্যাতির বিড়াম্বনা। পাওয়া না পাওয়ার হিসেব নিকেশ একজন মানুষকে এপথে হাটতে বাধ্য করে? না। আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তারকাদেরও থাকে মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক, এমনকি সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হলে একটা পর্যায়ে গিয়ে হতাশায় ডুবে যান অনেকে। সংসারিক টানাপড়েন, কাজ কমে যাওয়া, সাফল্য না পাওয়া কিংবা প্রেম সংক্রান্ত নানাবিধ কারণে কমবেশি হতাশা দেখা যায় তাদের মধ্যেও। এসব প্রভাবিত করে আত্মহত্যার দিকে। কেউ আত্মহত্যা না করে নেশাগ্রস্থও হয়ে যাচ্ছে এই মিডিয়ায়। আজকাল তারকোদের হতাশা দেখা যায় ফেসবুকেও।

    অভিনেত্রী মিতা নূর ও অভিনেতা অলি সাংসারিক কারণে বেছে নিয়েছিলেন আত্মহত্যার পথ। লাক্স তারকা রাহা প্রেম সংক্রান্ত কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীতে অনেক তারকা বিষাদগ্রস্ত হয়ে ঘুমের ওষুধ কিংবা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। ন্যানসি, মমরাও এমন স্টেপ নিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি তো নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কয়েকবার রিহ্যাব সেন্টারেরও আশ্রয় নিতে হয়েছে। অর্ণব, আনুশেহরাও বিষাদময় জীবনে নেশাকে টেনে নিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী নায়লা। রিসিলা স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়াতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। সাবিরা নামে এক মডেল বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেন।

    হতাশ নয় কে? বিষন্নতা কাকে আঁকড়ে ধরে না? উপায় তো আছে…

    শবনম ফারিয়া:

    যখনই কেউ মানসিক অবসাদগ্রস্থ হয় বা ডিপ্রেশনে ভোগেন, প্রথম ধাপেই ফ্যামিলির ভূমিকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমার প্রথম যখন হয়েছে তখন বাবা বেঁচে ছিলেন। বাবা যেহেতু ডাক্তার ছিলেন সে বুঝতো কিভাবে আমাকে ট্রিট করা উচিত বা আমাকে কমফোর্ট জোনটা দেওয়া উচিত। আমার সিরিয়ালি ডিপ্রেশনটা হয় বাবা মারা যাওয়ার পরে। কারণ আমার বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা এত গভীর ছিল। আমাদের মানসিক এটাচমেন্টটা অনেক বেশি ছিল। বাবার অনুপস্থিতিটা আসলে আমি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারিনি। প্রথমবার আমি ইউটিউবে দেখতাম, অনেক গুগল করে দেখতাম কোনটা করা উচিত কোনটা করলে কি হয়, কি খাওয়া উচিত। সেগুলো আমি ফলো করতাম। কিন্তু সেকেন্ড টাইম অনেক এক্সট্রিম ছিল। তখন আসলে আমি একদম প্রফেশনাল থেরাপিস্টের কাছে যাই।

    আমি মনে করি ডিপ্রেশন খুবই নর্মাল একটি বিষয়। যেকোন কিছুতে ডিপ্রেশন হতে পারে। আমার পিসিও নামে একটা রোগ আছে। এই রোগের রোগীরা এমনিতেই একটু ডিপ্রেশনে ভোগেন। হরমোনাল ডিসঅর্ডারের কারণে। আর মেয়েদের তো এত হরমোনাল চেঞ্চ হতে থাকে পুরো মাস জুড়ে। একটা মাসে একটা মেয়ের তিন থেকে চারবার হরমোনাল চেঞ্জ হয়। এই হরমোনাল চেঞ্জেও একটু ডিপ্রেশন হয়। যেটা আসলে বুঝে কন্ট্রোল করতে হয়। ন্যাচারালি মেয়েদের ডিপ্রেশন একটু বেশি হয়। অন্যান্য যে রোগ আছে জ্বড় বা ঠান্ডা ডিপ্রেশনও তেমনই একটা রোগ।

    অর্চিতা স্পর্শিয়া:

    ছোটবেলা থেকেই আমি ও আমার মা অনেক স্ট্রাগল করেছি। অনেকভাবে অনেক সময়ই এই ব্যাপারটি এসেছে। অনেকবার মন ভেঙ্গেছে, মানুষটাই ভাঙ্গচুর হয়ে গেছি। এরকম অনেকবার ঘটেছে। গত বছরও আমি মারাত্মকভাবে ডিপ্রেশন এবং ফ্রস্টেশনে ছিলাম। আমাদের দেশে যেটা হয় আমাদের জ্বড় হয়, মাথা ব্যাথা কিংবা অমুক তমুক রোগ হয় তখন সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলি। কিন্তু আমাদের যখন মানসিক সমস্যা হয়, আমাদের মন খারাপ হয় বা আমরা টেনশনে আছি। এগুলো নিয়ে আমরা কখনো কথা বলি না। আমরা মনে করি আমি যদি আমার মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলি সেটা ভালো নয়। মানুষ কি বলবে! যেখানে এটা নিয়েই সবচেয়ে বেশি কথা বলা উচিত যে আমি মানসিকভাবে উইক ফিল করছি। আমি মানসিকভাবে ঠিক নেই। আমার তো মনে হয় এই ঢাকার শহরের বেশিরভাগ মানুষই ডিপ্রেসড। কিন্তু আমরা অনেকে তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলি না। আমি যেটা করি সর্বদা আমি কথা বলি। আমার কাছের যে মানুষটা মা হতে পারেন বা বন্ধু হতে পারে। আমি খোলামেলা ভাবে কথা বলার চেষ্টা করি, আমার মানসিক অবস্থাটা বুঝানোর চেষ্টা করি। অবশ্যই এমন কাউকে কথাগুলো বলা উচিত যে বুঝবে। কথা বলার উপরে কোন প্রক্রিয়া নেই বলে আমি মনে করি। সেটা আমার কাছের মানুষদেরও সবসময় বলি। মন থাকলে মন খারাপ হবেই। সেটা কোন অপরাধ নয়। আমি মনে করি এটাই সবচেয়ে বড় রোগ। আমরা তো বুঝি না। এর জন্য চুল পড়ে, ঘুম হয় না, চেহারা খারাপ হয়ে যায়। আমাাদর কালচারটাই এরকম যে আমাদের এনিয়ে জ্ঞানই নেই। অনেক সময় যে আমাকে চেনে সে সমাধান দিতে পারে না। যে মানুষটা আমাকে চেনেন না। তাকে বলতে পারি। অনেক সময় আমরা ভাবি এর জন্য আবার ডাক্তার দেখাবো! কিন্তু এই সময় কিছু টাকার বিনিময়ে যে সাপোর্টটা পাবো। সেটা হয়তো আপনজনদের কাছ থেকেও পাবো না।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী