• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার, মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন ফারুক খান

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫:১৩ অপরাহ্ণ

    অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার, মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন ফারুক খান

    আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এজন্য ৩০ অক্টোবরের পর যে কোন দিন তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তার আগেই গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার।


    এদিকে নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ নিয়ে আলোচনা জমে উঠছে। ওই সরকারে কারা থাকছেন, কারা বাদ পড়ছেন তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে জল্পনা কল্পনা।


    বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, উপদেষ্টাসহ মোট সদস্য সংখ্যা ৫৯ জন। এদের একটা বড় অংশই নির্বাচনকালীন সরকার থেকে ছিটকে পড়বেন।

    নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার ২৫ থেকে ৩০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এদিকে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, ওই সরকারে টেকনোক্র্যাট কোটায় কেউ আসবেন না। অন্যদিকে নির্বাচনকালীন সরকারে উপদেষ্টাও রাখা হবে, তবে সে সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

    দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা হয়েছিল, তাতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে ছিল ২৯ সদস্যের। এর বাইরে ছিলেন ১০ জন উপদেষ্টা।

    নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকারে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে জায়গা পেতে পারেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানি সম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।

    জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ক্লিন ইমেজের অধিকারী ও যাদের নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই তাদের মূল্যায়ন করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান, দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি রয়েছেন আলোচনায়।

    তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি।

    এদিকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে ১৪ দলীয় জোটের শরীক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাপার চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে নিজ কার্যালয়ে অনির্ধারিত বৈঠক করেছেন।

    সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব ধরনের আয়োজন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে এ সময়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ইসির কাছে ন্যস্ত হতে হবে এমনটিও সংবিধানে উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিযুক্ত করবেন। সরকারের নির্বাহী বিভাগ ইসিকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে।

    সংবিধানের বিধান অনুসারে, বিদ্যমান সরকার ক্ষমতায় থাকতেই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে গেলেও সরকারের ওপর তার প্রভাব পড়বে না। সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনকিছুই অযোগ্য করিবে না।’

    মুহাম্মদ ফারুক খান এমপির পরিচয়:

    মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি ১৯৫১ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলাধীন বেজড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা-মরহুম সিরাজুল করিম খান (নান্না খান) এবং মাতা-মরহুমা খালেদা করিম খান। শিক্ষা জীবনে মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগদান করে ১৯৭১ সালের ১৮ই এপ্রিল কমিশন লাভ করেন। পাকিস্তান সামরিক একাডেমী থেকে গ্রাজুয়েশন এবং পরর্বতীতে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিফেন্স স্টাডিজ এ মাষ্টারস অর্জন করেন। দীর্ঘ ২৬ বছর সেনাবাহিনীতে চাকুরি করার পর ১৯৯৫ সালে লে: কর্ণেল পদে কর্মরত থাকাকালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

    পরিবারিব জীবনে জনাব মুহাম্মদ ফারুক খান ১৯৭৪ সালে ঢাকার বিক্রমপুরের সম্ভ্রান্ত খান পরিবারের মরহুম দবির উদ্দিন খান সাহেবের মেয়ে নিলুফার খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি দুই কণ্যার জনক। সেনাবাহীনীতে চাকুরিকালীন তিনি ১ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (সিনিয়র টাইগার) এবং ২৫ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ)-এর অধিনায়কের দায়িত্ব পালনসহ বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী, এসআইএন্ডটি, ষ্টাফ কলেজ এবং সেনা সদরে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরি করেছেন। সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ থেকে এবং ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃতিত্বের সাথে কমান্ড এবং জেনারেল ষ্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীতে একজন দক্ষ প্যারাট্রপার।

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ডিসেম্বর মাসে কর্ণেল ফারুক খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালে পালিয়ে এসে মুজিবনগর সরকারে যোগ দেন। রাজনৈতিক জীবনে লে: কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি ঢাকা কলেজে অধ্যায়ন করার সময় ছাত্রলীগের হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পদার্পণ। ১৯৯৫ সালে সামরিক বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে আওয়ামী লীগে যোগদানের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে তার অভিষেক হয়। ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ৯ম জাতীয় সংসদে বিজয়ী হন এবং তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দশম জাতীয় সংসদে নির্বাচনে ফারুক খান চতুর্থ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    কাশিয়ানী মুকসুদপুরের উন্নয়নের অগ্রসৈনিক লে: কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি। তার ঐকান্তিক প্রচষ্টোয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে গোপালগঞ্জ-১ তথা মুকসুদপুর-কাশিয়ানীতে। জননেতা ফারুক খান তার ঢাকা-মাওয়া-খুলনা রাস্তার মুকসুদপুর কাশিয়ানীর অংশসহ প্রতিটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছেন। মুকসুদপুর কলেজ সরকারীকরন, এসজে হাই স্কুলকে মডেলপ্রকল্পে নেয়াসহ অসংখ্য শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রায় ৮০% এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ স্থাপন করেছেন। মুকসদপুর উপজেলার টেংরাখোলা, বনগ্রাম বাজার, কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়া পাড়া নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। মুকসুদপুর হাসপাতালকে ৩৯ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরনসহ কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্যানিটেশন কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন।

    তিনি ৬ জানুয়ারি ২০০৯ এ সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং ৭ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় প্রধানমন্ত্রী তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণলয়ের মন্ত্রী হিসেবেও তাকে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন। লে: কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি ছিলেন একজন সফল মন্ত্রী। তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার মন্ত্রণালয়ে কখনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। তাকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি সফলতার পরিচয় দিবেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669