• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    অটোফেজি কি? এবং তা কেন আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য?

    ইয়োশিনোরি ওহশোমি | ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

    অটোফেজি কি? এবং তা কেন আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য?

    ২০১৬ সালে জাপানের চিকিৎসক ইয়োশিনোরি ওহসুমিকে অটোফেজির সূত্র আবিষ্কারের জন্য নোবেল কমিটি পুরস্কৃত করেন। এরপর থেকে মুসলিমদের বাইরেও অন্যান্য ধর্মালম্বিদের মাঝে অটোফেজি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

    এছাড়া আরেকজন বিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী হেলমুট লুটজনার একটি বই লিখেন। বইটির নাম the secret of successful fasting. এই বইটি প্রচার হওয়ার পরপরই ইউরোপ, আমেরিকানরা, ফাস্টিং এ ঝুকে পরে, যার মূল উদ্দেশ্য শরীরে অটোফেজি প্রক্রিয়াটি চালু করা।


    আসলে অটোফেজি কী, একটু জেনে নেওয়া যাক। অটো অর্থ নিজে নিজে আর ফেজি মানে ভক্ষণ। গ্রিক শব্দ ফাজেন থেকে ফেজি শব্দের উদ্ভব। তাহলে অটোফেজির অর্থ দাঁড়াচ্ছে ‘নিজে নিজেকে খাওয়া’। যার মানে আত্মভক্ষণ।শুনতে সাংঘাতিক মনে হলেও এটা আসলে আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

    যখন আপনি দীর্ঘক্ষন খাওয়া বন্ধ করে দেন তখন দেহের কোষগুলো বাইরে থেকে কোনও খাবার না পেয়ে নিজেই নিজের রোগজীবাণু সৃষ্টিকারী কোষ ও বর্জ্য-আবর্জনা খেতে শুরু করে, আর এই প্রক্রিয়াকেই অটোফেজি বলা হয়। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল এই প্রক্রিয়া অব্যাবহারযোগ্য কোষগুলোকে পুনরায় নতুন কোষে রুপান্তর করে যেটা সত্যি বিস্ময়কর।

    মানুষের বাড়িতে যেমন ডাস্টবিন থাকে বা কম্পিউটারে রিসাইকেলবিন থাকে, তেমনই মানবদেহের প্রতিটি কোষেও একটি করে ডাস্টবিন আছে। ডাস্টবিনটির নাম লাইসোজোম। সারাবছর দেহের কোষগুলো খুব ব্যস্ত থাকার কারণে লাইসোজোম নামক ডাস্টবিনটি পরিষ্কার করবার সময় হয়ে ওঠে না। ফলে কোষগুলোতে অনেক আবর্জনা জমা হয়। কোষগুলো যদি নিয়মিতভাবে ওদের ডাস্টবিন পরিষ্কার করতে না পারে, তাহলে সেগুলো একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং এর ফলে অসুস্থ কোষ ও আবর্জনার প্রভাবে দেহে নানাবিধ রোগ বাসা বাঁধে। বিশেষজ্ঞদের মতে টিউমার, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের মতো বড় বড় রোগের শুরু হয় এভাবেই।

    এছাড়া আমাদের দেহটা কিন্তু বড়ই অলস, আরাম প্রিয় এবং স্বার্থপর । ধরুন আপনি ঈদের জন্য নতুন জামা কিনলেন বা কেউ আপনাকে কিনে দিল। এখন আপনি কী করবেন? ঈদের দিনে অবশ্যই নতুন জামা পরবেন। পুরাতন জামা গুলো কিন্তু হ্যাংগারেই পড়ে থাকবে। তদ্রুপ আমরা যখন নিত্য নতুন খাবার খাই, এ অলস দেহ কিন্তু এই খাবার গুলোকেই শক্তি হিসেবে গ্রহন করে কিন্তু আপনার শরীরে যে অন্যান্য শক্তির আধার জমা হয়ে আছে সেটা কিন্তু দেহ ছুঁয়েও দেখে না। আর আপনি যখন দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকবেন ঠিক তখনই আপনার শরীরে অটোফেজি শুরু হবে। অলস দেহ আর অলস থাকবে না, দেহের কোষ গুলো তখন তার বৈপ্লবিক কার্যক্রম শুরু করে দিবে।

    আপনার দেহের কোষ গুলো যখন অটোফেজির মাধ্যমে নতুন ভাবে তৈরি হতে থাকবে তখন আপনি আপনার তারুণ্য ফিরে পেতে শুরু করবেন, যেমনি ভাবে বসন্তে গাছে নতুন পাতা গজানো শুরু করে ঠিক তেমনি। আর অপর দিকে আপনার দেহে যদি আগে থেকেই শুরু করতে পারেন ফ্যাট বার্নিং (যেটা কিনা ফ্যাট এ্যাডাপটেশনের মাধ্যমে শুরু হয় ) তাহলে দুটো মিলে দারুন synergetic effect দেয়।

    যখন রোজা, ওয়াটার ফাস্টিং, অনশন বা দীর্ঘ সময় না খাওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার হারানো তারুণ্য ফিরে পাচ্ছেন সকল রোগ থেকে মুক্ত হচ্ছেন; অন্য দিকে, আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমতে শুরু করবে শরীরে জমে থাকা চর্বি গলে আর আপনি শক্তিও পেতে থাকবেন দুর্বল না হয়ে ।

    তাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বা সুস্থ সবল ভাবে তারুণ্য নিয়ে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে অটোফেজির তুলনা নেই। আর এই অটোফেজির প্রক্রিয়াটি শুরু করানোর জন্য, দীর্ঘ সময় ওয়াটার ফাস্টিং বা শুধু সেহরীতে পানি খেয়ে রোজা রাখা বা অন্যান্য ধর্মালম্বিদের জন্য অনশন বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কোন বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে শরীর নিজেই তার সকল রোগের চিকিৎসা নিজেই করে শুধু আমাদের প্রয়োজন শরীরকে একটু সেই সুযোগ তৈরী করে দেয়ে দীর্ঘক্ষন না খেয়ে থেকে ।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী