মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ

  |   বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ | প্রিন্ট  

অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ

মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে-
১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি।
২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে।
৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের।
৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর।
৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা।
৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে।
৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা।
৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের।
৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা।
১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে।
আজকের অগ্রবাণী/রকি

Facebook Comments Box


Posted ৯:৪৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০