• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    অফিসের পাশের কক্ষে যেতে খরচ ২৮০০ টাকা

    ডেস্ক | ০২ জুলাই ২০১৯ | ৬:৫২ অপরাহ্ণ

    অফিসের পাশের কক্ষে যেতে খরচ ২৮০০ টাকা

    অফিস কক্ষের পাশের কক্ষে যাতায়াতের খরচ হিসেবে বিল ধরিয়েছেন ২ হাজার ৮শ’ টাকা। ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। উপজেলার রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলাম এ বিল নিয়েছেন।

    ঠিক এভাবে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ টাকার ভৌতিক বিলের টাকার আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।


    নবাবগঞ্জ উপজেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগে জানান, ২০১৭ সালে শফিকুল ইসলাম উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ইন্সট্রাক্টরের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপজেলার শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, অপমান-অপদস্ত, গালাগাল ও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। অথচ তিনি নিজে স্বনামে বেনামে সরকারি অর্থ তুলে আত্মসাৎ করেছেন।

    শিক্ষকদের অভিযোগে প্রকাশ, গত ০১-২-২০১৮ থেকে ১৭-০৪-২০১৯ তারিখ পর্যন্ত উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ৩৫টি ট্রেনিং হয়েছে। এসব ট্রেনিংয়ে প্রশিক্ষক ও কোর্স কো-অর্ডিনেটর দুজন আলাদাভাবে খাবারের বিলসহ ভাতা গ্রহণের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলাম কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেই প্রশিক্ষক ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরের দুটি ভাতা ও একই সঙ্গে দুটি খাবারের বিল উত্তোলন করেছেন।

    কয়েকটি ট্রেনিং একই দিন অনুষ্ঠিত হলেও ইন্সট্রাক্টর আলাদাভাবে খাবারের বিলসহ ট্রেনিং ভাতা গ্রহণ করেছেন। এমনকি ইন্সট্রাক্টরের অফিস কক্ষ সংলগ্ন ঘরে প্রতিটি প্রশিক্ষণ হলেও ইনস্ট্রাক্টর যাতায়াতের জন্য আলাদা বিল তুলে আত্মসাৎ করেছেন।

    এছাড়া ৩৫টি প্রশিক্ষণকালে সাপোর্ট সার্ভিস (পিয়ন) হিসাবে সাহিদা খাতুন ও আবির আলী দুজনের নামে দৈনিক ৯৬০ টাকা হারে অর্থ উত্তোলন করেছেন। বাস্তবে সাহিদা খাতুনকে দৈনিক ৪০০ হারে প্রদান করলেও আবীর আলী নামে কোনো লোক ট্রেনিংকালে উপস্থিত ছিল না।

    এই আবীর আলী ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলামের ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া সন্তান হওয়ায় তার ভুয়া নামে অর্থ উত্তোলন করে ইন্সট্রাক্টর শফিকুল সমুদয় আত্মসাৎ করেছেন। এভাবে ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন ভুয়া বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

    সরেজমিনে রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষণকালে সাপোর্ট সার্ভিস (পিয়ন) সাহিদা খাতুন এর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ওই রিসোর্স সেন্টারে ট্রেনিংয়ের সময় তিনি দৈনিক ৪০০ টাকা হারে পেয়ে থাকেন।

    মাগুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান আলম বলেন, ২০১৮ সালে তিনিসহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষক উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে সঙ্গীত বিষয়ে ৬ দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে সবার মধ্যে তাকে স্বাক্ষরবিহীন সনদ প্রদান করা হয়। পরে তিনি ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলামকে স্বাক্ষরবিহীন সনদ প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সুলতান ফেল করেছেন।

    এ ব্যাপারে ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ টাকার বিল তুলেছেন। তবে অডিট আপত্তিতে ধরা পড়লে তিনি উত্তোলিত টাকা ফেরত দেবেন।

    অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। আমি এখানে যোগদান করার পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার পেছনে লেগে আছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, রঘুনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী