• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    অবশেষে লাজুক মেয়েকে রাজি করালেন সৌরভ

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ২২ মে ২০১৭ | ২:৩৫ অপরাহ্ণ

    অবশেষে লাজুক মেয়েকে রাজি করালেন সৌরভ

    সাক্ষী লর্ড সিনহা রোডের একটি বহুতলের শ্যুটিং ফ্লোর। মেয়ের কাছে বাবা আবদার জানাচ্ছেন, ‘মা, একবারটি কোলে বসো। আর তো বসবি না এরপর। ছবি তোলার বাহানাতেই তো একটু সময় কাটাতে পারছি তোর সঙ্গে।’ মেয়েটি নিতান্তই অনিচ্ছুক। সামনের ফটোগ্রাফার চিন্তিত মুখে ভাবছে, মনমতো ছবিটা কি হবে? হল। একদম আদুরে একটা ছবি।


    এই প্রথমবার একসঙ্গে বিজ্ঞাপন করছেন সৌরভ গাঙ্গুলি এবং তার মেয়ে সানা। লরেটো হাউজ স্কুলের ক্লাস টেনে পড়ুয়া সানা ভয়ংকর রকমের লাজুক। এর আগেও র‌্যাম্পে হাঁটার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন লজ্জার কারণে। এই বিজ্ঞাপনের জন্য তাকে অনেক বুঝিয়ে তারপর রাজি করানো গেছে।

    ajkerograbani.com

    এ বিষয়ে সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, ‘ওকে এই বিজ্ঞাপনের শ্যুটিংয়ের জন্য কীভাবে রাজি করিয়েছি, সেটা আমি জানি।’

    তিনি বলেন, প্রথমবারের জড়তা কেটে গেলে পরে নিশ্চয়ই আর সমস্যা হবে না।

    এর আগে ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে র‌্যাম্পে হাঁটার প্রস্তাব এসেছিল সানার কাছে। কিন্তু তিনি তা নাকচ করে দেন। কারণ হিসেবে তার বাবা জানিয়েছেন,স্রেফ লজ্জা।

    শ্যুটিংয়ের বাহানাতেই গোটা দিনটা একসঙ্গে কাটছে বাবা-মেয়ের। থেকে থেকেই মেয়েকে আদরে ভরিয়ে দিচ্ছেন বাবা।

    সৌরভ বলেন, ‘বাড়িতে যেটুকু সময় পাই, আমরা বাবা-মেয়ে সুদে-আসলে পুষিয়ে নিই। কিন্তু সেটা তো খুব বেশি হয় না।’

    বাবার এই কথায় সায় দিল সানাও। সে কিন্তু একেবারেই ড্যাডিজ গার্ল। মেয়েকে আদর করে বাবা ডাকেন ‘সেনু’ বলে।

    সৌরভ জানালেন, সানা বাবার কাছ থেকে আদর ছাড়া কিছুই পায় না। বকুনি দিলে সেটা মা ডোনার তরফ থেকেই বেশি আসে। সানা পড়াশোনা করে মায়ের কাছেই।

    বিজ্ঞাপনটি একটি নামী গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার, যাদের মুখপাত্র সৌরভ। তিনি পেশাদার। জানেন কেমন করে ক্যামেরার সঙ্গে সহজাত হতে হয়। নিজেই সানাকে তালিম দিচ্ছিলেন। বুঝিয়ে দিচ্ছেন কখন ক্যামেরার দিকে তাকাতে হবে, কখন অফ-লুক দিতে হবে।

    শটের পরে মনিটরে গিয়ে দেখে নিচ্ছিছিলেন। আর সানা? তাকে শত ডাকলেও সে লাজুক হেসে চুপটি করে এক কোণে দাঁড়িয়ে।

    নাচের জন্য শাড়ি পরতে হয়। নইলে সানা মোটেও সাচ্ছন্দ্য নয় শাড়িতে। যদিও গোলাপি সিল্কের শাড়িতে তাকে দেখাচ্ছিল বেশ মিষ্টি।

    গর্বিত বাবা পাশ থেকে ফুট কাটলেন, ‘বড় বড় দেখাচ্ছে।’

    বাবা নামী ক্রিকেটার হলেও, খেলা নিয়ে সানার খুব একটা আগ্রহ নেই। শুধু কেকেআর হেরে যাওয়ায় খারাপ লেগেছে।

    সৌরভের কথায়, ‘খারাপ তো সকলেরই লেগেছে। আফটার অল আমাদের টিম।’

    আর্থ-সামাজিক অবস্থা যা-ই হোক না কেন, বাবা মাত্রই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। সৌরভ মনে করেন, সঞ্চয় করার বিষয়টা ছোট থেকেই রপ্ত থাকলে ভাল।

    সানা কি বাড়িতে পকেট মানি পায়? ‘নাহ, যখন যেটা মনে হয় চেয়ে নিই। পকেট মানির দরকার পড়েনি,’ রিনরিনে গলায় জবাব এল।

    লাজুক হলেও সানা আত্মবিশ্বাসী। অর্থনীতি পছন্দের বিষয়। হায়ার স্টাডিজের জন্য লন্ডন যেতে চায়।

    মেয়েকে ছেড়ে থাকতে কষ্ট হবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে সৌরভ বলেন, ‘সে তো হবেই। কিন্তু ও যেটা চায়, সেটাই তো আসল,।’

    সানা জোর গলায় বলে উঠল, ‘না না, বাবাও তখন আমার সঙ্গে ওখানে গিয়ে থাকবে।’

    শ্যুটিং ফ্লোর সাজানো হয়েছিল সানার ছোটবেলার কিছু ছবি দিয়ে। ছোট্ট সানা বাবার কোলে। সে দিকে তাকিয়ে বাবা-মেয়ে দু’জনেই নস্ট্যালজিক।

    সানার আপাতত গরমের ছুটি চলছে। সৌরভও ছুটি নিয়েছেন। সপরিবার লন্ডন পাড়ি দিচ্ছেন। সুতরাং সামনের ক’টা দিন বাবা-মেয়ে সব সময় একফ্রেমে।

    Facebook Comments Box

    বিষয় :

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757