• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    অমর প্রেম কাহিনী লাইলি ও মজনু

    অনলাইন ডেস্ক | ১৬ মে ২০১৭ | ১০:২৬ অপরাহ্ণ

    অমর প্রেম কাহিনী লাইলি ও মজনু

    মধ্যযুগের ইরানি কবি নিজামী তার কাব্য লায়লি-মজনুর জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।


    আরব মিথ ‘লায়লা-মজনু’ অবলম্বনে তিনি তার কাব্য রচনা করেন। অধরা প্রেমের এক বিয়োগন্ত গাথা এ কাব্য। কাব্য লিখিত হওয়ার আগে শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে এই মিথ আরবে প্রচলিত ছিল।

    ajkerograbani.com

    প্রেমের ইতিহাসে, বিশেষ করে এই উপমহাদেশীয় মুসলিম সমাজে কালজয়ী হয়ে উঠে দুটি চরিত্র, লায়লী ও মজনু। স্বর্গীয় প্রেমের প্রতীক মানা হয় এই জুটিকে।

    বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে অর্থাৎ বাল্যকাল থেকেই লায়লা এবং কায়েস একে অপরের প্রেমে পড়েন। তাদের প্রেম সমাজের নজরে এলে দুজনের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়। বলা আছে, লায়লার পিতা মজনুকে আহত করলে লায়লারও আহত হতো, এমননি ছিল তাঁদের সেই স্বর্গীয় প্রেম। নিঃসঙ্গ কায়েস মরুপ্রান্তরে নির্বাসনে যান।

    বিরহকাতর কায়েসের ক্ষ্যাপাটে আচরণের জন্য তাকে ডাকা হতো মজনুন (পাগল) নামে। পরে বেদুঈনের দল মজনুর হার না মানা ভালোবাসা দেখে তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে এবং তাদের মধ্যে এক বৃদ্ধ বেদুইন লড়াই করে লায়লাকে পাওয়ার জন্য কায়েসকে প্রেরণা দেন। তাদের সহযোগিতায় যুদ্ধে লায়লার গোত্র ক্ষমতাচ্যুত হয়, তারপরও লায়লার বাবা কায়েসের সঙ্গে লায়লার বিয়েতে সম্মতি দেন না। লায়লাকে তাঁর পিতা জোর করে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়। স্বামী মারা যাবার পর, যদিও লায়লা মজনুর কাছে ফিরে আসে, কিন্তু প্রচণ্ড দুঃখ আর অনাহারে মজনু মারা যায়। লায়লাও তাঁর ভালোবাসা মজনুর পথ অনুসরণ করে। মৃত্যুর পর তাদের পাশাপাশি সমাধিস্থ করা হয়।
    “দুই দেহ এক আত্মা,” নামক বহুল প্রচলিত কথা এই যুগলের অনুপ্রেরণায় পাওয়া। স্বর্গে গিয়েও ভালবাসার মানুষকে চাওয়ার তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের আকুতি এই কাহিনীকে অমর করে রেখেছে।

    উল্লেখ আছে, মজনুর বাবা লাইলীর পায়ের ধুলো এনে যখন মজনুর চোখের নিচে দিয়ে লাগিয়ে দিলেন তখন থেকে মজনু কান্না বন্ধ করে দিলেন কারন কাদঁলে যদি লাইলীর পায়ের ধুলো মুছে যায় তাই মজনুর কান্ন বন্ধ ।

    এখন আর মজনু না কাদঁলেও তার হাতের ধারালো নখ দিয়ে তার বুকের মাংস খুবলে নেওয়া শুরু করল ।

    মজনুর বাবা আমীর সাহেব লাইলীর বাবার কাছে গেলেন লাইলী ও মজনুর সাথে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কিন্তু লাইলীর বাবা মালিক কিছুতে এ বিয়েতে রাজি হলেন না । লাইলীর বাবার একটি কথাই মজনু একজন উম্মাদ আর কোন বাবায় জেনে শুনে তার মেয়েকে কোন উম্মদের সাথে বিয়ে দিবে না । তখন মজনুর বাবা লাইলীর বাবাকে বল্লেন আজ মজনু উম্মাদ লাইলীর জন্য তাই লাইলর সাথে মজনুর বিয়ে হলে মজনু সুস্থ হয়ে যাবে। এবং মজনুর বাবা লাইলীর বাবাকে আর বল্লেন যদি মালিক তার কন্যাকে মজনুর সাথে বিয়ে দেন তাহলে মজনুর বাবা লাইলী বাবাকে বহু মূল্যের রজত কাঞ্চন দেবে ,দাস দাসী দেবে,দুইশ উট দিবে পাচশ ষাড় দিবে এবং পঞ্চাশটি হাতি দিবে উপহার হিসেবে। অনেক বোঝানর পরে লাইলীর বাবা বিয়েতে রাজি হোলেন।

    মজনুর বাবা মজনুকে চুল নখ কাটিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে যখন লাইলীদের বাড়ি নিলেন তখন মজনু লাইলীদের বাড়ির কুকুর টিকে বুকে টেনে নিয়ে চুম্মন করল আর তা দেখে লাইলী বাবা আবার মজনুর বাবাকে না করে দিল যে মজনু অনেক উম্মাদ তাই তার সাথে লাইলীকে বিয়ে দেবেন না ।

    এর মধ্যে লাইলীর মা লাইলীকে জোড় করে অন্য ছেলের সাথে বিয়ে দিবেন বলে লাইলীকে জানান আর এ কথা শোনার পরে লাইলী তার মাকে বলে দিল মা এ জীবন যৌবন ও সতীত শুধু একজনের আর তা হোল মজনুর ।লাইলী তার মাকে আর বল্ল মা এক রাজ্য যেমন দুই রাজা থাকতে পারে না তেমন এক নারীর মনে দুটি পুরুষ স্থান পায় না । কারন মা তোমার মেয়ে মনে প্রাণে শুধু মজনুর আর বিয়ের কথা বলছো সে অনেক আগেই মজনুর মনের সাথে লাইলীর মনের বিয়ে হয়ে গেছে ।

    তার পরেও লাইলীর বাবা মা লাইলীকে জোড় করে অন্য ছেলের সাথে বিয়ে দেন কিন্তু লাইলী বিয়েতে বাধ্য হোলেও সে মনে প্রাণে মজনুকে স্বামী বলে মনে করেন ।

    তাই লাইলীর বাবা মা জোড় করে যে ছেলেটির সাথে লাইলীকে বিয়ে দিলেন সেই ছেলেটিকে লাইলী বাসর ঘরে তার পা দিয়ে আঘাত করলে ছেলেটি লজ্জায় লাইলীকে ত্যাগ করে চলে যান ।

    বনে জংঙ্গলে গুরে বেরায় মজনু একদিন হঠাৎ স্বপ্নে লাইলীকে দেখতে পান আর ঘুম ভাংঙার পরে মজনু সত্যসত্য লাইকে দেখতে লাইলীদের বাড়িতে যান । মজনুকে দেখে লাইলীদের বাড়ির দারোয়ান তাকে আঘাত করতে যায় তখন মজনু তার হাতদিয়ে দারোয়ানের আঘাত ফেরান ।

    ঘটনাক্রমে অন্য এক রাজ্যের রাজা নয়ফলরাজ নামক রাজা যানতে পারলো লাইলী ও মজনুর প্রেমের কথা তখন নয়ফলরাজ মজনুকে ডেকে নেওয়ায় এবং নয় ফলরাজ মজনুকে কথা দেয় অবশ্যই লাইলীকে তার কাছে এনে দেবে বলে ।

    নয়ফলরাজ লাইলীর বাবার কাছে পত্র লেখে অতি শিগ্রই যেন লাইলীর সাথে মজনুর বিয়ের ব্যবস্থা করা হয় এবং মজনুর সাথে লাইলীর বিয়ে দেয় না হোলে নয়ফলরাজ লাইলীর বাবার সাথে যুদ্ধ করবে বলে পত্র পাঠিয়ে দিলেন । কিন্তু তাতে কোন লাভ হোল না লাইলীর বাবা পত্র লেখলেন তারাও তার থেকে কম নয় তারা নয়ফলরাজের সাথে যুদ্ধ করবে কিন্তু লাইলীকে মজনু সাথে বিয়ে দেবে না বলে পত্র লেখে নয়ফলরাজের কাছে পাঠিয়ে দিলেন ।

    পরে নয়ফলরাজ তার সৈন্য নিয়ে হামলা বা যুদ্ধ করলেন লাইলীর বাবার সাথে এবং সে যুদ্ধে রাজা নয়ফলরাজের জয় লাভ হোল ।নয়ফলরাজ সে যুদ্ধে জয় লাভ করে লাইলীকে মজনুর সাথে বিয়ে দেবে বলে সাথে করে নিয়ে আছে।

    কিন্তু নফলরাজ মজনুর জন্য যুদ্ধকরে লাইলীকে জয় করলেও যখন সে লাইলীর রুপ দেখল তখন সে নিজেই লাইলীর রুপে পাগল হয়ে গেল এবং সে চাইলো কৌশলে মজনুকে বিষ পান করিয়ে মেরে ফেলতে কিন্তু এখানে ভাগ্যের কি নি দারুন খেলা রাজা নয়ফলরাজ যে কর্মচারিকে বলে মজনুকে বিষ দিতে আর তাকে মধু দিতে বলে সে কর্মচারি ভুল করে রাজা নয়ফলরাজকে বিষ দেয় আর মজনুকে দেয় মধু আর তাতে নয়ফলরাজার মৃত্যু হয় ।

    অবশেষে সেখান থেকে আবারও লাইলীর পিতা মাতা লাইলীকে নিয়েচলে গেলেন ।

    রাত্রি বেলা লাইলী একা ঘরে শুয়ে আছে সে যৌবনে জ্বালায় কাতর তাই তার এক সখীকে ডেকে এনে দুজনে কথা বলে রাত্রি পাড় করতে চাইছেন সে সময় লাইলী তার সখীর হাতে হাত রেখে বললেন সখীগো লাইলীর মনে যৌবন জোয়ার জেগেছে । রতি জেগেছে অথচ প্রেমিক নেই । এ দশা অসহ্য । বিষাক্ত নাগিনী ছোবল মারলে বিষে যেমন শরীর জর জর তেমনি যৌবনাবেগের জ্বালায় লাইলী কাতর ।

    লাইলীর মা পর দিন সকালে আবার লাইলীর সামনে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন । লাইলী তার মাকে বলে দিলেন হয় মৃত্যু না হয় মজনুর সাথে মিলন এ দুটি ছাড়া লাইলীর জীবনে আর কিছু প্রয়োজন নাই ।

    লাইলীরা স পরিবার যাচ্ছিলেন বনের পাশ দিয়ে সেখানে লাইলীদের উট অসুস্থ হয়ে পড়াতে লাইলী পরিবারের সকলের চখু আরালে যান মজনুকে দেখতে লাইলী বনের এক কোনে দেখতে পান মজনু মৃত মানুষের মত অসচেতন হয়ে পড়ে আছে । লাইলী দৌড়ে মজনুর কাছে গেল এবং সে মজনুকে ডাক দিল । লাইলীর ডাকে মজনু চেতন হোলেন । মজনুকে লাইলী বললেন তুমি আমাকে বিয়ে কর এবং বিয়ের পরে আমাকে তোমায় সেবা করার সুযোগ দেও । তাতে আমাদের দুজনের সুখ শান্তি ফিরে আসবে । মজনু লাইলীকে বল্লো গোপনে যদি তোমাকে আমি বিয়ে করি আমাদের সে বিয়ে এ সমাজের কেউ যে মেনে নিবে না লাইলী ।এ সমাজ আমাকে শাশ্তি দিবে । তাই বলে মজনু লাইলীকে প্রত্যাখ্যান করলো ।

    অবশেষে লাইলী মজনুর বিরহে মৃত্যু বরণ করলেন । লাইলীর মা লাইলীকে গোলাপ জ্বলে শেষ গোছল করিয়ে দিয়ে লাইলীর শরীরে চন্দন দিয়ে সাজিয়ে কাফন পড়ালেন । মিত্যুর আগে লাইলী তার মাকে বলেছেন লাইলীর মৃত্যুর পড়ে যেন লাইলীর মিত্যুর সংবাদ মজনুকে দেওয়া হয়। তাই লাইলীর মা বনে গিয়ে লাইলীর মত্যুর সংবাদ মজনুকে দিয়ে মেয়ের শেষ অনুরোধ রাখলেন ।

    লাইলীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে মজনু বনে থেকে চলে গেলেন লাইলীদের এলাকায় আর সেখানে মজনু ছোট বড় সকল মানুষের
    কাছে লাইলীর কবরের সন্ধান চাইলে সকলে মজনুকে বলে মজনু যদি লাইলীকে সত্যই ভালবাসে ও লাইলী মজনুর প্রেম যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে লাইলীর কবর মজনু নিজেই একা একা খুজে বাহির করতে পারবে । সত্য সত্য তাই হলো মজনু একা একায় লাইলীর কবর খুজে পেল এবং লাইলীর কবরে মথা রেখে মজনু শেষ নিঃশেষ ত্যাগ করেন ।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বিয়ে করাই তার নেশা!

    ২১ জুলাই ২০১৭

    কে এই নারী, তার বাবা কে?

    ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757