• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    অমিতাভ-রেখার অজানা অধ্যায়

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক: | ১২ জুন ২০১৭ | ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

    অমিতাভ-রেখার অজানা অধ্যায়

    পর্দায় এখন আর বিশেষ দেখা দেন না তিনি। তবুও তাকে নিয়ে কৌতূহলে এতটুকু ভাটা পড়েনি। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে রোম্যান্স, একাধিক বিয়ে, যৌনতা নিয়ে সরব হওয়া—তৈরি করেছে গল্প, গুজব। ভানুরেখা গণেশন থেকে রেখা হয়ে ওঠা—এই দীর্ঘ যাত্রাপথের রয়েছে লাগামহীন সব জল্পনা।
    অমিতাভ-রেখার ‘অসমাপ্ত প্রেম’ আজও ভারতীয় উপমহাদেশের এক বিশেষ প্রজন্মের কাছে চর্চার বিষয়। কী এমন হল যে, এই দুই ‘মেড ফর ইচ আদার’ এক ঝটকায় বিচ্ছেদে গেলেন? ঠিক কোন সময়ে এসে তাল কেটে গেল? এই ব্যাপারে চিরকালই নীরব থেকেছেন অমিতাভ। আজ আর কোনও আড়াল নেই রেখার অধরে। ৬২ বছর বয়সে অকপট ‘উমরাও জান’।


    প্রথম ঘটনাটি ১৯৬৯ সালে ‘আনজানি সফর’-এর শুটিংয়ের সময়। তিনি তখন ১৫ বছরের কিশোরী। রেখার নায়ক ছিলেন বিশ্বজিৎ। ছবিতে ছিল একটি চুমুর দৃশ্য। কিন্তু এ রকম একটা দৃশ্য যে আছে, তা-ও জানতেন না তিনি। বিশ্বজিৎ নাকি জোর করে রেখাকে টানা পাঁচ মিনিট ধরে চুমু খেয়েছিলেন। ছবির কলাকুশলীরা সবাই চারপাশ থেকে চিৎকার করছিল আর তাদের উদ্দেশে ছুড়ে দিচ্ছিল চটুল মন্তব্য। আর এতে স্তম্ভিত হয়ে যান নায়িকা। তার দু’চোখ বেয়ে নেমে আসে জল। পরে অবশ্য বিশ্বজিৎ দাবি করেছিলেন, গোটা ঘটনাটিই ছিল পরিচালকের আইডিয়া।

    ajkerograbani.com

    দ্বিতীয় ঘটনাটি রেখার বিয়ের। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার। বিয়ের দিনই শুরু হয়েছিল সেই নির্যাতন। কলকাতায় বিনোদ মেহেরাকে বিয়ে করার পর মুম্বাই যান নায়িকা। কিন্তু বিনোদের মা কমলা মেহেরা ছেলের বউ হিসেবে রেখাকে মেনে নেননি। প্রতিবেশীদের সামনে অপমান করা হয় তাকে। এমনকি, জুতো ছুড়েও মারা হয় বলে রেখার অভিযোগ।

    রেখার দ্বিতীয় স্বামী মুকেশ আগারওয়ালের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ে এবং পরবর্তী সময়ে তাদের বিচ্ছেদ ও মুকেশের আত্মহত্যার ঘটনাও উঠে এসেছে বইটিতে। রেখার ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নেওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনাটি মনে দাগ কেটেছিল সবারই। সুভাষ ঘাইয়ের মতো পরিচালক বলেছিলেন, মুকেশের আত্মহত্যার ঘটনাটি বলিউডকে কলঙ্কিত করেছে।

    রেখা জানিয়েছিলেন, ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দর’ ছবির এক স্ক্রিনিংয়ে প্রথম সারিতে বসা জয়া বচ্চনের দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে আসা অশ্রু প্রত্যক্ষ করেছিলেন তিনি। তার দাবি, ছবিতে অমিতাভের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখে হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন জয়া! এর এক সপ্তাহ পরেই অমিতাভের কাছ থেকে বার্তা আসে, আর নয়। আর কোনও ছবিতে তিনি ও রেখা জুটি হবেন না। কেন এমন সিদ্ধান্ত, প্রশ্ন অবশ্যই করেছিলেন রেখা। কিন্তু অমিতাভের জবাব ছিল—না, এ বিষয়ে টুঁ শব্দটি তিনি উচ্চারণ করতে চান না!

    ওই একই সাক্ষাৎকারে রেখা জানিয়েছিলেন, অমিতাভ এক সময়ে তাকে দুটি আংটি উপহার দেন। সেই আংটি দুটি তিনি কখনওই খুলে রাখেননি। কিন্তু ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দর’-এর ঘটনার পর তিনি আর কখনও সেগুলো পরেননি; উপহারদাতাকেই ফিরিয়ে দেন। ‘খুবসুরত’ থেকেই সেই আংটি দুটি উধাও হয় রেখার চম্পকাঙ্গুলি থেকে। এককথায়, বিচ্ছেদ আক্ষরিকভাবেই শেষ হয়!

    বইটিতে রেখার জবানিতে একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। রেখা জানান, সেখানে জয়াকে উদ্দেশ করে একটি কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন তিনি। কিন্তু দর্শকেরা ভেবেছিলেন, অমিতাভকে উদ্দেশ করেই সেই পক্তিমালা!

    বিব্রত হয়েছেন রেখা। পাশাপাশি তার কারণেও অনেকই বিব্রত হয়েছেন নানা সময়ে। ১৯৮০ সালে ঋষি কাপুর-নিতু সিংহের বিয়েতে সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্র পরে হাজির হয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। সেদিন সবাই প্রশ্ন তুলেছিল, রেখা কি বিয়ে করেছেন? ওই অনুষ্ঠানেই সদ্য বিবাহিত অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের সঙ্গে অবলীলায় কথাও বলতে শুরু করেন তিনি। এ সময় অমিতাভের কথিত প্রেমিকা হিসেবে জয়ার মনঃকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ান রেখা। একসময় রেখা ও অমিতাভের সামনে থেকে সরে আসেন জয়া। একটু পর মাথা নিচু করে চোখও মুছতে দেখা যায় জয়াকে!

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757