• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আওয়ামী লীগের কাছে যেসব আসন চায় জাতীয় পার্টি

    অনলাইন ডেস্ক | ১৪ জুলাই ২০১৭ | ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

    আওয়ামী লীগের কাছে যেসব আসন চায় জাতীয় পার্টি

    একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে ১০০ আসন চেয়ে একটি তালিকা পাঠিয়েছে জাতীয় পার্টি। সংসদের বিরুধী দলের পক্ষ থেকে চাওয়া আসনগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বহু আসন রয়েছে। যা শুধু আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টি নয় আগামীতে ক্ষমতায় আসতে মূখ্য নিয়ামকের ভূমিকা পালন করতে পারে এসব আসন।


    আওয়ামী লীগের কাছে যেসব ১০০ আসন চেয়ে প্রার্থী তালিকা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। এই তালিকায় বর্তমান তালিকায় জাপার ৩৪ সংসদ সদস্যের নাম রয়েছে।

    ajkerograbani.com

    জাতীয় পার্টির চাওয়া আসনগুলো মধ্যে যেমন বিভাগীয় জেলার সদরের আসন রয়েছে। তেমনি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনও দাবি করা হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ তারমধ্যে রয়েছে- ঢাকা-১ আসনে সালমা ইসলাম, ঢাকা-৬ আসনে সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশীদ, ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের প্রধান আসন ময়মনসিংহ-৪ এ রওশন এরশাদ।

    এ ছাড়াও আরও যেসব গুরুত্বপূর্ণ আসন চেয়েছে জাতীয় পার্টি সেগুলো হলো- রংপুর-১ মশিউর রহমান রাঙা, তাজুল ইসলাম চৌধুরী কুড়িগ্রাম-২, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালী-১, রুহুল আমিনের স্ত্রী রত্না আমিন হাওলাদার রবিশাল-৬, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও গ্রেফতার হওয়া এমপি এম এ হান্নানের নাম রয়েছে ময়মনসিংহ-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নুর নাম রয়েছে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে, ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নাসিম ওসমান, সিলেট-৫ আসনে সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৫ আসনে পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জিয়াউদ্দিন বাবলু, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনে জিয়াউল হক মৃধা, চাঁদপুর-৪ আসনে মনিরুল ইসলাম মিলন, খুলনা-১ আসনে শুনীল শুভ রায়, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৩ আসনে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ডেমড়া-যাত্রাবাড়ী-কদমতলী মিলিয়ে ঢাকা-৫ আসনে মীর আব্দুস সবুর আসুদ, রংপুর অথবা লালমনিরহাট থেকে জিএম কাদের, নীলফামারী-৪ শওকত চৌধুরী, কুড়িগ্রাম-১ মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ একেএম মহিদুল ইসলাম, বগুড়া-২ শরিফুর ইসলাম জিন্নাহ, বগুড়া-৩ নূরুল ইসলাম তালুকদার, বগুড়া-৬ নূরুল ইসলাম ওমর, বগুড়া-৭ আলতাব আলী, জামালপুর-৪ মামুনুর রশীদ, ময়মনসিংহ-৫ সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি, ময়মনসিংহ-৮ ফখরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান, সিলেট-২ মো. ইয়াহ ইয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ মুনিম চৌধুরী বাবু, লক্ষীপুর-২ মোহাম্মদ নোমান, কুমিল্লা-৮ আসনে নূরুল ইসলাম মিলন, জকিগঞ্জে আমিনুর রহমান তাজসহ অনেকের নাম তালিকায় রয়েছে।

    দলীয় সূত্রগুলো বলছে, দশম সংসদ নির্বাচনের সময় জাপার পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কাছে জমা দেয়া ৭০ প্রার্থীর নাম এবারও বহাল আছে। বাকি ৩০ জনের নাম জাপার জোটের শরিক নেতাদের থেকে নেয়া হয়েছে।

    জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এককভাবে ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা তারা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছেন। এরমধ্যে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে ৭০ জনের নাম প্রথম তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে ১৪ দল ও জাতীয় পার্টির মধ্যে সমঝোতায় আসন ভাগাভাগি হবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে সরকার গঠন করবে এরশাদের জাপা। যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ১৪ দলের সঙ্গে লড়বে দলটি। শক্তিশালী বিরোধী দলের জায়গায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে চায় জাতীয় পার্টি।

    অপর একটি সূত্র বলছে, বিএনপি অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে জাতীয় পার্টি প্রার্থী ঠিক করবে। যেসব এলাকায় জাপার শক্তিশালী অবস্থান সেখানে তাদের প্রার্থী থাকবে। যেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বদনাম রয়েছে সেখানেও জাপার পক্ষ থেকে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দেয়া হতে পারে। অর্থাৎ নিশ্চিত বিজয় হবে এমন পরিকল্পনা থেকেই প্রার্থী চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। এক্ষেত্রে উভয় দলই জোট গঠন করে নির্বাচনী জোয়ার সৃষ্টি করতে চায়।

    যদিও বার বার একক নির্বাচন করার কথা বলছেন ক্ষণে ক্ষণে মত পাল্টানো নেতা এরশাদ। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ফের মহাজোট করে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। লড়বেন ভোটযুদ্ধে। বাস্তব কথা হলো, বাকি জীবন তিনি ক্ষমতার সঙ্গেই থাকতে চান। রাজনীতিতে একা হয়ে ফের কোন বিপদের মুখে নিজেকে ঠেলে দিতে চান না। এমন কথাও বহুবার বলেছেন তিনি। এরশাদের দলের সকল স্তরের নেতারা বলছেন, এককভাবে নির্বাচন করলে এরশাদ ছাড়া কারও জয়লাভের সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করলে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী যেমন বিজয়ী হবে তেমনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়েও ভূমিকা রাখতে পারবে। এমন চিন্তা থেকেই এরশাদ এরই মধ্যে তার পার্টির ১০০ প্রার্থীর তালিকা আওয়ামী লীগকে দিয়েছেন।

    জাতীয় পার্টি সূত্র জানায়, এরশাদ আশা করেন ন্যূনতম ৭০টি আসন আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেবে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ৭০টি আসনে ছাড় দিতে চেয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এসে এরশাদ আকস্মিক সরে যাওয়ায় জাতীয় পার্টি এটি অর্জন করতে পারেনি। অনেকেই দলপ্রধানের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত ৩৪টি আসন পায় জাপা। সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে এখন জাপা ৪০ এমপি নিয়ে সংসদের বিরোধী দল।

    জাপার অপর একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো তালিকায় ৬৪ জেলায় ৬৪টি আসন চাওয়া হয়েছে। জাপার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৃহত্তর রংপুরে চাওয়া হয়েছে ১৫টি আসন। সব মিলিয়ে ৭০টি আসন বাদে বাকি আসন চাওয়া হয়েছে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক নেতাদের জন্য। তালিকায় রংপুর-১, ঢাকা-১৭ ও লালমনিরহাটের আরেকটি আসনে জাপার প্রার্থী হিসেবে এরশাদের নাম রয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাপার শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, যাদের নাম তালিকায় রয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ নেতাকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন এরশাদ। অনেককে অফিসে ডেকে এনেও নির্বাচনী কৌশল বুঝিয়ে দিয়েছেন। নির্দেশ অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় পোস্টার করাসহ সামাজিক বিভিন্ন কর্মকা-ে নিজেদের যুক্ত করেছেন। ঘন ঘন এলাকায় যাচ্ছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

    এদিকে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার ন্যামগিল ওয়াংচুকের আমন্ত্রণে চারদিনের সফরে সোমবার সকালে ভুটান গিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ। সফর শেষে ১৪ জুলাই শুক্রবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এরশাদ দেশে ফেরার পর প্রার্থী তালিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755