• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    অনেক মন্ত্রী-এমপি ‘ঝুঁকিপূর্ণ প্রার্থী’ হিসেবে চিহ্নিত

    অনলাইন ডেস্ক | ১৪ জুলাই ২০১৭ | ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

    অনেক মন্ত্রী-এমপি ‘ঝুঁকিপূর্ণ প্রার্থী’ হিসেবে চিহ্নিত

    একাদশ সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোর পাশাপাশি ৩০০ আসনে দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও শুরু করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড। ইতিমধ্যে সাংগঠনিক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার জরিপ এবং গবেষণা সেলের মাধ্যমে প্রতিটি সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে ৮০টি আসনে নতুন প্রার্থীর নাম আছে বলে দলের সংসদীয় বোর্ডের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।


    সূত্র জানায়, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা। অবশ্য সংসদীয় বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মতামতও গুরুত্ব পাবে। এ কারণে সারাদেশের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মনোনয়ন প্রত্যাশী এখন আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সদস্যদের কাছে জোর লবিং চালাচ্ছেন। সর্বত্র চলছে জোর লবিং।

    ajkerograbani.com

    আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দলের বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে কমপক্ষে ৮০ জন সদস্য মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হচ্ছেন। এ কারণে ওই ৮০ আসনে গড়ে প্রতিটিতে ১৫ জন করে আওয়ামী লীগের নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত দুই বছর ধরে তিন মাস পরপর মাঠ জরিপ করছেন। সেখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীসহ ৮০ জনের নামে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। এতে বলা হচ্ছে, নানা কারণে এলাকায় আলোচিত-সমালোচিত এইসব মন্ত্রী-এমপিদের মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কষ্টসাধ্য হবে। এসব মন্ত্রী-এমপিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ প্রার্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের কারো বিরুদ্ধে এলাকায় জনপ্রিয়তা হ্রাস, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া, অনেকের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদকব্যবসা, অনৈতিকভাবে বিত্ত-বৈভব গড়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে আনা হয়েছে- সন্ত্রাস ও দলীয় কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগ। দলীয় নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এমনকি বিএনপি নেতাদের নিয়েও নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করেছেন কেউ কেউ। রাষ্ট্রীয় অন্যতম একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ফরিদপুর, নরসিংদী, চাঁদপুর, যশোর, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে ৬ হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ উঠে এসেছে। এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে তাদের।

    আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড এবং দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থী বাছায়ের ক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের মেধাবী, যোগ্য, সাহসী, ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, জনবান্ধব, কর্মী বান্ধব, দুঃসময়ে দলে অবদান রাখা, ফুল টাইম রাজনীতিবিদ এবং ত্যাগীরাই মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনীতিতে পারিবারিক ঐতিহ্যও বিবেচনায় আসবে।

    আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের পক্ষ থেক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলায়ও সফর করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক ওবায়দুল কাদের দলের তৃণমূল গোছাতে দেশ চষে বেড়াচ্ছেন।

    জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বাইরেও দেশি-বিদেশি সংস্থার দ্বারা মন্ত্রী-এমপিসহ সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা তুলে আনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বাইরে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী, যাদের অবস্থান শক্তিশালী তাদের চিত্রও তুলে আনা হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে নিয়ে ২০ মে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, আগামী নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসাবেই শেখ হাসিনা আগামী চার মাস ব্যস্ত থাকবেন।

    শুধু অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দ্বন্দ্ব ও বিভেদের কারণে দেশের অনেক স্থানেই আওয়ামী লীগের নিশ্চিত বিজয় হাতছাড়া হয়েছে। আর এসব দ্বন্দ্ব-বিভেদের কারণে প্রায়ই ক্ষমতাসীন দলকে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। সংঘর্ষে অনেকস্থানেই প্রাণ হারিয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কজন নেতাকর্মী। ত্যাগী ও আদর্শবান নেতাকর্মীদের হটিয়ে নির্বাচনী এলাকায় মন্ত্রী-এমপিদের নিজস্ব বলয় সৃষ্টি, সুযোগ-সন্ধানীদের আধিক্য এবং নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে খ্যাত আসনগুলোতেও সংগঠন নাজুক অবস্থায় উপনীত হয়েছে। এসব কারণে নির্বাচনের এক বছরেরও বেশি সময় থাকতে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না আওয়ামী লীগ। মুখে যাই বলুক, অস্তিত্ব রক্ষার খাতিরে আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে, এটি নিশ্চিত ধরে নিয়েই এখন দলের ঐক্যকে সুদৃঢ় করার কাজকেই প্রাধান্য দিয়েছে দলটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা কিছুদিন ধরেই কোন্দল-দ্বন্দ্বে জর্জরিত জেলা-মহানগরের নেতাদের ঢাকায় তলব করে সমস্যাগুলো মিটিয়ে ফেলে তৃণমূলে দলের ঐক্যকে সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তবে তৃণমূলের অনেক নেতাই এ মিশন কতটা সুফল বয়ে আনবে সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন। তাদের মতে, দেশের অনেক জেলা ও থানায় দ্বন্দ্ব-কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক করে সমাধানের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল নাও হতে পারে। তাই বিরোধ মীমাংসায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রচেষ্টার পাশাপাশি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বসতে চান তৃণমূল নেতারা।

    আওয়ামী লীগের আরেকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, ৩০০ নির্বাচনী আসনে দলের মন্ত্রী-এমপিদের সর্বশেষ জনপ্রিয়তার ব্যারোমিটার, বিপক্ষ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান এবং আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারেও মাঠ জরিপের মাধ্যমে বিস্তারিত রিপোর্ট সংগ্রহ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755