• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আগামী সংসদ নির্বাচনে যা করবে জামায়াত

    অনলাইন ডেস্ক | ০২ আগস্ট ২০১৭ | ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

    আগামী সংসদ নির্বাচনে যা করবে জামায়াত

    আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দিন দিন মাঠ গরম করছে রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। বসে নেই স্বাধীনতাবিরোধী তকমা পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীও। তবে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে আড়ালে-আবডালে। প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের কোনো সুযোগ না পেলেও দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন, প্রচার টিম ও নির্বাচন নিয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে রেখেছে জামায়াত।


    সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থায়ী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায় জামায়াত। এ জন্য নিজেদের অবস্থান ভালো এমন কয়েকটি আসনে বিএনপিকে ছাড় না দেওয়ার চিন্তাও মাথায় রেখেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। সর্বোচ্চ আসন পেয়ে সংসদে যেতে চায় তারা।

    ajkerograbani.com

    জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতা জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের জনপ্রিয়তার পারদ মাপার জন্য দলটির অতীতকেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের মাপকাঠিতে জনপ্রিয় এলাকাগুলোকেই বাছাই করা হয়েছে আগামী নির্বাচনের জন্য। অতীতে যেসব আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা জিতেছিলেন, সেসব আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
    দলটির অতীত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু আসনকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে জামায়াতের ভোট ব্যাংক। বিভিন্ন সময় এসব আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা।

    জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন নেতা জানান, আমরা যদি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেই, ১৫ থেকে ২০ আসনে জয়ী হতে পারব। তাই জোটবদ্ধভাবে আমরা ৫১ আসনের চিন্তা করেছি। যেসব আসনে অতীতে জয়ের রেকর্ড রয়েছে, সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী এসব আসনকেই বাছাই করা হয়েছে। এর বাইরে যেসব আসনে গত দুটি উপজেলা নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে, সেসব আসনও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে রংপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ফেনীতে প্রার্থী থাকতে পারে জামায়াতের।

    সূত্র জানায়, চল্লিশ আসনে জয়ের জন্য মরণপণ লড়াই করবে জামায়াত। এ ক্ষেত্রে তারা জোটের প্রধান শরিক বিএনপিকেও ছাড় দেবে না। প্রয়োজনে এ রকম চারটি আসনে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে জোটমুক্ত থাকবে দল। এমন একটি প্রস্তাবনাও তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বগুড়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচনে বগুড়ায় বিএনপির চেয়ে ভালো ফল করেছে দলটি। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
    সূত্র জানায়, বগুড়ায় প্রায় প্রতিটি আসনেই বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছে। তাই এসব আসন বিএনপিও জামায়াতকে ছাড়বে না। এর বাইরে রংপুরেও নিজেদের ভালো অবস্থান থাকায় জামায়াত সেখানেও জোটের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করবে।

    জামায়াতের ঢাকা অঞ্চলের দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, গত এক মাসে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দলের বেশ কয়েকটি দায়িত্বশীল বৈঠক হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা। বৈঠকে ৫১ আসনকে টার্গেট করে প্রতি আসনে ২০ জনের একটি করে টিম করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটের রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করবে। পালাক্রমে এলাকায় অবস্থান করে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচনের বাস্তব হালচাল তুলে ধরবেন। এসব প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্তভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে জামায়াত।

    দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতের বেশিরভাগ সক্রিয় নেতাই মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত। এর বাইরে অনেকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত। অনেকে কারাবরণ করছেন। শীর্ষ কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বলতে গেলে সক্রিয় নেতারা অনেকেই নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। এ ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে জামায়াত। দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এমন কিছু ক্লিন ইমেজের নেতার তালিকা তৈরি করেছে দলটি। আগামী নির্বাচনে তাদের প্রার্থী করবে জামায়াত ইসলামী।

    জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর সাবেক নেতা মাওলানা আবদুর রব বলেন, জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করলেই চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ আসনে পাস করবে। জোটভুক্ত থাকলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। তিনি বলেন, অনেক আসনেই বিএনপি-জামায়াতের ভোট সমান সমান। সেক্ষেত্রে বিকল্প আসন অন্যকে ছেড়ে দিয়েই সমাধানে আসতে হবে। এমন চিন্তাধারার কথা স্বীকার করেছে দলটির একজন পর্যবেক্ষকও।
    তিনি আমাদের সময়কে বলেন, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করলে এমন বিকল্প রাখতেই হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যদের আগ্রাধিকার দিতে হবে।

    জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের ভাবনায় থাকা এমন প্রার্থীদের ইতোমধ্যে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় গণসংযোগ, প্রচার, দান-খয়রাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ ছাড়া অনেকে আবার বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে দিন-রাত সময় দিচ্ছেন।
    জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে জামায়াত প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে কয়েকটি ইসলামী দলের জোট আইডিএলের (ইসলামী ডেমোক্রেটিক লীগ) মাধ্যমে জামায়াতের ছয়জন এমপি নির্বাচিত হন। তারা হলেন মাওলানা আবদুর রহীম (বরিশাল), অধ্যাপক সিরাজুল হক (কুড়িগ্রাম), মাওলানা নুরুন্নবী ছামদানী (ঝিনাইদহ), মাস্টার মো. শফিক উল্লাহ, (লক্ষ্মীপুর), এএসএম মোজাম্মেল হক, (ঝিনাইদহ) ও অধ্যাপক রেজাউল করিম (গাইবান্ধা)।

    ১৯৮৬ সালের সংসদে জামায়াতের এমপি ছিলেন ১০ জন। তারা হলেন মরহুম জবান উদ্দিন আহমদ (নীলফামারী), মাওলানা আবদুর রহমান ফকির (বগুড়া), মরহুম মাওলানা মীম ওবায়েদ উল্লাহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), লতিফুর রহমান (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (রাজশাহী) আবদুল ওয়াহেদ (কুষ্টিয়া), মরহুম এএসএম মোজাম্মেল হক (ঝিনাইদহ) অ্যাডভোকেট নূর হোসাইন (যশোর) মকবুল হোসাইন (যশোর) কাজী শামসুর রহমান (সাতক্ষীরা)।

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন মাওলানা আজিজুর রহমান চৌধুরী (দিনাজপুর) মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান (বগুড়া) লতিফুর রহমান (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) মাওলানা নাছির উদ্দিন (নওগাঁ) মাওলানা আবু বকর শেরকলী (নাটোর), পাবনা থেকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর), মাওলানা আবদুস সুবহান (পাবনা-যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত), মাওলানা হাবিবুর রহমান (চুয়াডাঙ্গা), মাওলানা শাখাওয়াত হোসাইন (যশোর), মুফতি মাওলানা আবদুস সাত্তার (বাগেরহাট), অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রহুল কুদ্দুস (খুলনা), সাতক্ষীরায় অ্যাডভোকেট শেখ আনসার আলী, কাজী শামসুর রহমান, মাওলানা এএসএম রিয়াসত আলী, গাজী নজরুল ইসলাম। ডা. একেএম আসজাদ (রাজবাড়ী), শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম), এনামুল হক (কক্সবাজার)।

    ১৯৯৬ সালের সংসদে মাত্র তিনজন নির্বাচিত হন। তারা হলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী (নীলফামারী), কাজী শামসুর রহমান (সাতক্ষীরা) ও পিরোজপুর থেকে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত)।

    ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোট গড়ে নির্বাচন করে জামায়াত ইসলামী। ওই নির্বাচনে দলটি সর্বাধিক সংখ্যক আসনে বিজয়ী হয়। তারা হলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল কাফি (দিনাজপুর), অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুর রহমান চৌধুরী (দিনাজপুর) মিজানুর রহমান চৌধুরী (নীলফামারী), মাওলানা আবদুল আজিজ (গাইবান্ধা), মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (পাবনা), মাওলানা আবদুস সুবহান (পাবনা), অধ্যক্ষ মাওলানা এএসএম শাহাদাত হোসাইন (যশোর), মুফতি মাওলানা আবদুস সাত্তার (বাগেরহাট), অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা), অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস (খুলনা), অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল খালেক (সাতক্ষীরা), মাওলানা এএসএম রিয়াছত আলী (সাতক্ষীরা), গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা), মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (পিরোজপুর), মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (সিলেট) ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা) ও শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম)।

    ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল জামায়াত ইসলামী। কক্সবাজার থেকে হামিদুর রহমান আযাদ এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম বিজয়ী হন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755