• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আগামী ১৭ মে হরতালের ডাক আসল বিএনপির

    বিশেষ প্রতিনিধি: | ১০ মে ২০১৭ | ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

    আগামী ১৭ মে  হরতালের ডাক আসল বিএনপির

    বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান নাসিম বুধবার এক লাইভ ভিডিও বার্তায় আগামী ১৭ মে রাজধানীর তিনটি থানায় হরতালের ডাক দিয়েছেন। পল্টন, মতিঝিল এবং শাহবাগ থানায় সেদিন ভোর ৬টা থেকে বিকেলে ৫টা পর্যন্ত এই হরতাল কর্মসূচী চলবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


    এদিকে বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোগে ঘোষিত দলীয় বিপ্লবের শেষ মহড়ার অংশ হিসাবে এই হরতাল দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
    ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারী তিনি প্রথমবারের মতো দল পুনর্গঠনের ডাক দেন। তিনি দলের পাঁচটি অসুখ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সে সময়। তিনি নিজেকে সামান্য ওষুধওয়ালা বলে দীর্ঘদিন ধরে লড়ছেন। অসুখগুলো হল, দলটি জাতীয়তাবাদী থেকে জামায়াতেবাদী হয়ে পড়েছে, নাশকতাকে রাজনীতির হাতিয়ার করা, বিদেশী শক্তির উপর নির্ভরশীলতা, জনস্বার্থ সংরক্ষণে রাজনীতি না করা ও দল পরিচালনায় শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্বলতা, ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা।

    ajkerograbani.com

    পাঁচটি অসুখ সারানোর তাগিদ রেখে নাসিম আহুত অতঃপর নানা কর্মসূচী চলতে থাকে। এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তিনি জাতীয়তাবাদী জনতার নিম্ন আদালত বসান। সেই প্রতীকী আদালতে তিনি ছিলেন বাদীর ভুমিকায়। বিবাদী হিসাবে ছিল পাঁচটি অসুখ। যা কাঠগড়ায় টানিয়ে দেয়া হয় প্ল্যা কার্ডের মাধ্যমে। তিনি দাবী করেন, উপস্থিত হাজারো জনতা ছিল বিচারক। এক পর্যায়ে তিনি তাঁর বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি বিচারকের কাছে দুটি রায় চান। রায়ে তিনি জিতেন। সেই দুটি রায় ছিল- এক, দলের গঠনতন্ত্র স্থগিত করা। দুই, জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত দলের নয়া পল্টন কার্যালয়ের সামনে বসবে। এরপরেই এক ঘোষণায় কামরুল হাসান নাসিম বলেন, এই আদলের আন্দোলন সারা পৃথিবীতেই একটি দৃষ্টান্ত। কারণ আমরা দলীয় বিপ্লব করতে যাচ্ছি। এভাবেই শুরু হয়ে যায় দলীয় বিপ্লবের কর্ম। এই ধারাবাহিকতায় গেল বছরের ২ জানুয়ারী , ১৭ জানুয়ারী, ১৭ মে এবং ৫ সেপ্টেম্বর মোট চারবার দলীয় বিপ্লবের মহড়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের নয়া পল্টন অভিমুখে যেতে চাইলে দলের খালেদা জিয়া অংশের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়।

    এদিকে বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে যেয়ে কামরুল হাসান নাসিম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী ১৭ মে একটি উল্লেখযোগ্য দিন। কারণ ওই সময়ের মধ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পুনর্গঠন করার নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলে অর্থাৎ দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আলামত না দেখা দিলে এবং পাঁচটি অসুখ সারানোর উদ্যোগ ব্যহত হলে হরতাল জোরেসোরে পালন করা হবে। সেদিনই দলীয় বিপ্লবের শেষ মহড়া।

    তিনি বলেন, বিপ্লব ঘোষণার পরেই আমি বলেছিলাম, আনুষ্ঠানিক কোন সভা সমেবেশে আমি থাকতে চাই না দলের পক্ষ থেকে। কথা যা হবার রাজপথেই হবে। সঙ্গত কারণেই ফেসবুক লাইভে থেকে পঞ্চম মহড়া ঘোষণা করা হল। এরপরেই বসে যাবে যেকোন দিন উচ্চ আদালত। গেল ২০ বছরের কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে ওই আদালত বসবে। তাঁরা থাকবেন বিচারক। দল ওই সময়ে পুনর্গঠন করা হবে। হ্যাঁ, শীর্ষ পর্যায়ে পুনর্গঠন। নির্বাচন কমিশনকে ডেকে নিয়ে এসে পুনর্গঠন ও বিপ্লব একাকার হবে।

    অন্যদিকে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দলের চেয়ারপার্সনকে বুঝতে হবে তাঁকে দিয়ে বিএনপি সঠিক রাস্তায় যেতে পারছে না। তাঁকে আমাদের দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মনের গোপন ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। সেটি ১৭ মে’র মধ্যে। কার সঙ্গে বসবেন? আমার সাথে বসুন। কারণ আমি প্রকাশ্যে বলছি, আপনাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। আপনার পুত্রকেও দল পাচ্ছে না বহুদিন। অথচ দলের প্রাথমিক সদস্য করে ডাঃ জোবায়দাকেও আপনি রাজনীতি করার জায়গাটা করে দিচ্ছেন না। তিনি এসেই বড় পদে না বসে রাজনীতি শিখুক। ৫ বছর কষ্ট করুক, আন্দোলন করুক, সংগ্রাম করুক, বুদ্ধি বৃত্তিক রাজনীতি করুক। কিন্তু আপনি ভাল করেই জানেন, তিনি এলে আমাদের কামুক কর্মীরা আপনার গুলশান কিংবা ফিরোজার বাসায় আর সন্ধ্যায় ভীড় করবে না। সব্বাই তাঁর কাছে যাবে। এই জন্য আর বেচারারে আনলেনই না ! সে যেটাই হোক, বিএনপিকে বাঁচানো নয় শ্রেষ্ঠ দল করতে হবে। সেটি আর আপনার শরীর, বয়স, বুদ্ধি, দূরদৃষ্টি, নেতিবাচক চিন্তা, ৫টি অসুখ না সারানোর বাস্তবতা আপনাকে আর নেতা বা নেত্রী করে রাখছে না। এর অর্থ এই নয় যে আপনাকে বাদ দিয়ে পুনর্গঠন করতে চাইছি। আপনি যেভাবেই হোক দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতাটা আপনার রয়েছে। সম্মান করার জায়গাও রয়েছে সে বিবেচনায়। কিন্তু আর হচ্ছে না। আমি নেতৃত্বে আসতে চাই না। আমার সাংবাদিকতার পেশা ও সাংস্কৃতিক জীবন রয়েছে। সেই জায়গাটায় অনেক অঙ্গনে আমার বিশ্বসেরা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আমি দেখেছি, সামাজিক পরিবর্তনে অনেক ক্ষেত্রে লিখে সভ্যতার পরিবর্তন আনা যায় না। তাই প্রচলিত রাজনীতিতেও আসতে হয়। এসছি, শুধু বিএনপি নয়, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সাথে লড়াই করার ইচ্ছে আছে, উপমহাদেশীয় রাজনীতিটাও করতে হবে। আমাকে রোখা মুশকিল হবে। আওয়ামী লীগ চাইলেই বিএনপিকে নিঃশেষ করতে পারবে না, আমি তরুণ প্রজন্মকে তৈরি করে দিতে চাই। আমাকে বুঝুন, তাতে লাভ হবে সকলের।

    কামরুল হাসান নাসিম বেগম জিয়াকে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলেন, আপনি কিসের ২০৩০ সালের ভীশন রাখছেন? কার বুদ্ধিতে ? এটিও একটা প্রতারণা। বন্ধ করুন এসব। যদি দেশের মানুষের জন্য ভাবতেন তবে সমসাময়িক রাজনীতিতে বামপন্থী সামাজিক ব্যক্তিবর্গের কাছে হারতে হত না মির্জা ফখরুলদের। রামপাল ইস্যুতে তাঁদের পেছনে দাঁড়াতে হয় আজ বিএনপিকে, তিস্তা ইস্যুতে কথিত কমরেডদের পেছনে হাটতে হয় বিএনপিকে, মির্জা সাহেব তিস্তামুখী হয়ে গন্তব্যে থেকে ফিরে এসে সেটির আর ফলোয়াপ নেই, আপনি কথিত মার্চ ফর ডেমোক্রেসি ডেকে মানুষ পান না। কেন পান নাই? কারণ, আপনি জনস্বার্থ সংরক্ষনের রাজনীতিটা করছেন না। এই সরকার অজনপ্রিয় কিন্তু তাঁদেরকে ক্ষমতা থেকে নামাতে আন্দোলন করে কেন মানুষ রাস্তায় নামবে ? আপনি তো তাঁদের জন্য কিছু করছেন না। এখন বলবেন, এই যে ২০৩০ সালের ভীশন রাখছি। মনে রাখতে হবে দেশ উন্নত নেতৃত্বের হাতে গেলে, জাতীয়তাবাদীর হাতে গেলে মাত্র ৭ বছরের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশ হতে পারে। যেখানে আওয়ামী লোগ বলছে ২০৪১ সালের কথা। আর মানুষকে বোকা বানানোর জন্য আপনি বলছেন ২০৩০ সালের কথা। আমাদের উচিত হবে, ২০২৫ এর মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের টার্গেট করে আপাতভাবে ২০৫০ সাল পর্যন্ত একটা রূপরেখা দাঁড় করানো। আমি ও আমরা দলের জন্য সেটা করে রেখেছি। এসব প্রতারণা বাদ দিয়ে সঠিক রাস্তায় আসুন। আপনাকে বলছি, পঞ্চম মহড়ার আগেই অর্থবহ সিদ্ধান্তে পৌঁছান, নচেৎ সারা বিশ্বের মধ্যকার অনুকরণীয় একটি দলীয় বিপ্লব হতে যাচ্ছে যেকোন সময়ে- ওই বিপ্লব সফল হলে আপনার অতীতের রাজনৈতিক পরিক্রমাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। মনে রাখবেন, রাজনৈতিক ইতিহাস হল, ক্ষমতাবানদের কাছে বন্দী থাকা তাঁদের প্রয়োজনে উন্মোচিত চাপিয়ে দেয়া পাণ্ডুলিপি। ইতিহাস বড়ই নির্মম।

    নাসিম বলেন, আগামী ১৭ মে হরতালের দিনে বিএনপির ছেলেমেয়েরা রাজপথে থাকবে। সংবাদ মাধ্যমের প্রতি আহবান রেখে তিনি বলেন, দয়া করে হরতালের খবর মানুষকে জানান। তাঁরা জানতে পারলে জামায়াতেবাদী আর হতে চাইবে না। অর্থাৎ ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের আবেগে তাঁরা এই হরতাল সফল করবে। আর তাঁরা না জেনে সেদিন কর্মস্থলে পৌঁছালে আমাদের কর্মীরা তাঁদেরকে বোঝাবে। আর জানবার পরেও কেও যদি কাজে যান তাঁদেরকে অহিংসভাবে শাস্তি দেয়া হবে। এর বাইরে কেও নাশকতা করলে বুঝতে হবে তা দলের কার্যালয়ে আবাস বানিয়ে থাকা ব্যক্তিবর্গ ঘটিয়েছেন, যা তাঁদের মজ্জাগত অভ্যাস। এমন কাউকে পেলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁদেরকে ধৃত করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে। তবে খুব সহজভাবে এই হরতালকে দেখার সুযোগ নেই। মিছিল নিয়ে নয়া পল্টনমুখীও হতে পারে দলের নেতাকর্মীরা। মতিঝিল, পল্টন ও শাহবাগ থানার ব্যবসায়ীদের বলবো, প্রতিষ্ঠান খুলে ঝুঁকিতে যাবেন না। নাসিম দেশের সকল রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিএনপির পাশে দাঁড়ান। আমরা সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী দল হতে চাই। মাথায় হাত রাখেন দেশের স্বার্থে। ভিডিও বার্তার শেষভাগে দলীয় বিপ্লবের জন্য উৎসর্গকৃত কামরুল হাসান নাসিম তাঁর রচিত কবিতার ‘যারা শুনছো প্রথম নাম’ শীর্ষক কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757