• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আজকের অগ্রবাণীর সম্পাদককে নিয়ে লেখা কাদের সিদ্দিকীর কলাম

    | ০৫ আগস্ট ২০১৭ | ১০:০২ পূর্বাহ্ণ

    আজকের অগ্রবাণীর সম্পাদককে নিয়ে লেখা কাদের সিদ্দিকীর কলাম

    আজকের অগ্রবাণীর সম্পাদকের বাড়িতে সপরিবারে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম

    বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ২০১৩ সালের মার্চের ২৬ তারিখে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় পত্রিকাটির সম্পাদকীয় সহকারী ও দৈনিক আজকের অগ্রবাণীর সম্পাদক সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক কে নিয়ে একটি কলাম লিখেছিলেন। দৈনিক আজকের অগ্রবাণীর পাঠকদের জন্য কলামটি তুলে ধরা হলো।


    প্রসঙ্গ : বিয়ে

    ajkerograbani.com

    “বাংলাদেশ প্রতিদিনে নিয়মিত লিখি। সেই সুবাদে প্রতিদিনের অনেকেই আমাকে আপনজন ভাবে। সালাউদ্দিন রাজ্জাক নামে একজন তার মধ্যে অন্যতম। তার শুভ বিবাহ ছিল ২২ মার্চ শুক্রবার। বাড়িতে কার্ড দিয়ে কতবার যে ফোন করেছে তার ইয়ত্তা নেই। উত্তরায় কোনো কমিউনিটি সেন্টারে তার বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। ক্লান্ত হয়ে অনেক রাতে ফেরায় অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি।
    মানুষের জীবনে বিয়ে দ্বিতীয় জন্ম। রাজপুত্রের ভালো বিয়ে না হলে ফকির হয়ে যায়। আবার হতদরিদ্র যদি ভালো স্ত্রী পায় তার জীবন আনন্দময় হয়ে ওঠে। সম্রাটের সাম্রাজ্যও তার কাছে ক্ষুদ্র বলে মনে হতে পারে। তাই মানবজীবনে বিয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো পর্ব নেই। স্বাধীনতার আগে বিয়ের গুরুত্ব বুঝতাম না। মুক্তিযুদ্ধের পর হঠাৎ করেই বড় হয়ে গিয়েছিলাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ওই সময় দু-একটি বিয়েতে দেখে বিস্মিত হয়েছি। জিজ্ঞাসাও করেছি, \’যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রের কাজ ফেলে বিয়ের দাওয়াতে কেন?\’ বঙ্গবন্ধু দু-একবার বলেছেন, \’বিষয়টা দাওয়াত নয়। দুটো জীবনের শুভযাত্রা। ভালো হলে আমার চেয়ে অনেক বড় নেতা হতে পারে, বড় মানুষ হতে পারে।\’
    ব্যাপারটা পুরোপুরি বুঝিনি। বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে যখন একেবারে নিঃস্ব, রিক্ত, মিসকিন অবস্থায় ভারতে ছিলাম তখন একদিন এক বিয়েতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে পেয়েছিলাম। ঘটনাটা গোড়া থেকেই বলি। \’৭৮-৭৯ সাল থেকে আমি থাকতাম জে-১৮৮১ চিত্তরঞ্জন পার্কের এসি সেনের বাড়িতে। ড. শীলা সেন আর এসি সেনের শঙ্খ, গার্গী- এক ছেলে এক মেয়ে। শঙ্খ মানে সোমনাথ সেন, গার্গী সেন। ওরা পড়ত নিউ দিল্লির এক স্কুলে। চিত্তরঞ্জন থেকে ১৫-১৬ কিলোমিটার, ১৫-২০ মিনিটের বেশি লাগত না। ড্রাইভার দয়াল সিংয়ের আসতে দেরি হলে মাঝেমধ্যেই ওদের আমি স্কুলে পৌঁছে দিতাম। মনে হয় সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত এমনটা হয়েছে। শঙ্খ, গার্গী যে স্কুলে পড়ত সেই স্কুলে রাজীব গান্ধীর ছেলে-মেয়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা পড়ত।
    একদিন হঠাৎ সন্ধ্যাবেলায় দয়াল সিং ওর বাবাকে নিয়ে কোথায় যেন গেছে। গার্গী এসে ধরল কাকু আমার বান্ধবীর বিয়ে, তোমাকে যেতে হবে। না করার উপায় ছিল না, আর তেমন কোনো কাজও ছিল না। আমার সঙ্গে আরও যেন কে কে গিয়েছিল। মনে হয় শঙ্খ, গার্গীকে নিয়ে আমরা পাঁচ-ছয়জন। বিয়ের আসরে গিয়ে শুনি প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী আসবেন। টাইগার সিদ্দিকী নামে দিল্লিতে তখনো আমার একটা আলাদা জায়গা ছিল। খুব যত্ন করে এক জায়গায় বসিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর দেখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী এলেন। আমরা সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান দেখালাম। ইন্দিরা গান্ধী থেকে কত আর হবে ২০-২৫ ফুট দূরে ছিলাম। সব গোল গোল টেবিল, সাত-আটজনের বসার ব্যবস্থা। আমার টেবিলের দু-তিন টেবিল পরেই তিনি বসেছিলেন।
    একটু পরেই একজন এসে বললেন, আপনাকে পিএম সালাম দিয়েছেন। আমি খুব বিস্মিত হলাম। আমি ভাবতেও পারিনি উনি আমাকে দেখতে পাবেন এবং ডাকবেন। তার টেবিলে যেতেই বসতে বলে জিজ্ঞাসা করলেন, \’তুমি এখানে?\’ বললাম, আমার ভাতিজির বান্ধবীর বিয়ে। ইন্দিরাজীর সঙ্গে আমার খুব সহজ সম্পর্ক ছিল। এটা \’৮২-৮৩ সালের ঘটনা। আমি তখন তার সঙ্গে আরও বেশি ইজি ছিলাম, কোনো জড়তা ছিল না। ভীষণ বিশ্বাস এবং স্নেহ করতেন।
    জিজ্ঞাসা করেছিলাম, \’আপনি এখানে কী করে?\’ ইন্দিরাজী বললেন, \’তোমার ভাতিজির বান্ধবী যে, সে আমার প্রিয়াঙ্কারও বান্ধবী। শুধু তাই নয়, যার বিয়ে তার বাবা আমার অফিসে ছোট্ট একটা চাকরি করে। আমি এলাম এই জন্য যে, তার মেয়ের বিয়েতে আমি গিয়েছিলাম এটা যখন ওরা স্বামী-স্ত্রী ভাববে তখন ওদের সারা জীবন ভালো লাগবে।
    আজকের অগ্রবাণীর সম্পাদকের বাড়ির উঠানে সকালের মিষ্টি রোদে বসে নাস্তা করছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম

    বিয়েটা হচ্ছে মানবজীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক। স্রষ্টা যাতে ওদের ভালো করেন সেই প্রার্থনা করতেই এসেছি।\’ এরপর থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে বিয়েকে আমি অসম্ভব গুরুত্ব দিই। আমার বিয়ের দিন ইন্দিরাজীর চিঠি পেয়েছিলাম, ফোন পেয়েছিলাম, বড় শিহরিত হয়েছিলাম। ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জি কী অসাধারণ চিঠি লিখেছিলেন, ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। তাই ইদানীং কোনো বিয়ের দাওয়াত পেলে কার বিয়ে, গরিব না ধনীর সেটা বিবেচনা করি না। করি একটা বিয়ের দাওয়াতে যাচ্ছি।

    পরিশেষে বলছি, দুর্ভাগ্য বাংলাদেশ প্রতিদিনের সালাউদ্দিন রাজ্জাকের শুভবিবাহে উপস্থিত হতে পারিনি; কিন্তু তাদের দোয়া করেছি আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন যেন এই দম্পতিকে তার নিজের ছায়াতলে রাখেন, সব বালা-মুছিবত থেকে রক্ষা করে দীর্ঘ সুখময় জীবন দান করেন আমিন। ” কাদের সিদ্দিকী ২৫ মার্চ ২০১৩, বাবর রোড, মোহাম্মদপুর।

    কাদের সিদ্দিকীর পরিচয়:

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম একটি সফল গণযুদ্ধ। এই সফল সংগ্রামের মূল ক্রীড়নক ছিলেন আমাদের গেরিলা যোদ্ধারা। আর গেরিলারা উঠে এসেছিলেন সমাজের একেবারে প্রান্তিক পর্যায় থেকে। বিচ্ছিন্নভাবে গোটা নয় মাসজুড়েই গেরিলাদের দেশরক্ষার চেষ্টা থাকলেও মূলত মে-জুন-জুলাই এই তিন মাস প্রশিক্ষণের পর দেশে প্রবেশ করে হাজারও প্রশিক্ষিত গেরিলা। এই প্রশিক্ষিত গেরিলাদের মূল লক্ষ্য ছিল হিট-অ্যান্ড-রান পদ্ধতিতে পাকিস্তান বাহিনীকে নিয়মিত আক্রমণের মাধ্যমে বিপর্যস্ত রাখা। আর এ ক্ষেত্রে তারা কতটা সফল হয়েছিলেন তার প্রমাণ আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। আর একজন গেরিলা যোদ্ধা হয়েও যুদ্ধে কত বড় ভূমিকা রাখা যায় তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ কাদের সিদ্দিকী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য নাম। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম যাকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে কল্পনা করাও কঠিন। মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলাযুদ্ধ শুরু করেন এই অসম সাহসী বীর। তার নেতৃত্বে যে কাদেরিয়া বাহিনী গড়ে ওঠে তার নিয়মিত সদস্য সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার। আর স্বেচ্ছাসেবক সদস্য ছিল প্রায় ৭২ হাজার। পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে তিনি সাক্ষাৎ আতঙ্ক বলে বিবেচিত হতেন। বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সব সেক্টর কমান্ডারের সম্মিলিত সাফল্যের চেয়েও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর একক সাফল্য অনেক বেশি। মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদের সিদ্দিকী ছিলেন টাঙ্গাইলের এক জেলা পর্যায়ের ছাত্রলীগ নেতা। বড় ভাই শক্তিমান রাজনৈতিক নেতা লতিফ সিদ্দিকীর অনুপ্রেরণায় তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের সৈনিক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতাদের এলাকা ত্যাগের পর চারদিকের অসহায় পরিবেশের মধ্যে প্রতিরোধ সংগ্রামের নেতৃত্ব তুলে নেন নিজ হাতে। মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইল ও ধারে কাছের জেলাগুলোর বিশাল এলাকা কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তাঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হতো।
    কাদেরিয়া বাহিনীর গেরিলারা মুক্তিযুদ্ধে এককভাবে যে সাফল্য দেখিয়েছেন এর তুলনাই নেই।
    এ বাহিনীর হাতে সর্বাধিক সংখ্যক পাকিস্তানি সৈন্য যেমন হতাহত হয়েছে তেমন তাদের হাতে আত্দসমর্পণকারী হানাদার সৈন্যের সংখ্যা সর্বাধিক। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে হত্যার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। একবার আহত হলেও প্রতিবারই তিনি শত্রুদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করতে সক্ষম হন। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অভিযানে মিত্রবাহিনীর পক্ষে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাভূত করা সম্ভব হয় কাদেরিয়া বাহিনীর সহযোগিতার কারণে। কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তাঞ্চলে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে সৈন্য নামায় মিত্রবাহিনী। ঢাকা জয়ের অভিযানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে কাদেরিয়া বাহিনী। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ছিলেন যার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে। পাকিস্তানি বাহিনীর আত্দসমর্পণও অনুষ্ঠিত হয় কাদেরিয়া বাহিনী প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে। মুক্তিযুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীই একমাত্র বীর উত্তম উপাধির অধিকারী যিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী অস্ত্র সমর্পণ করেন। তার বাহিনীর জমা দেওয়া অস্ত্রের পরিমাণ ছিল এক লাখ চার হাজার।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755