শুক্রবার ৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আজকের যুগে বিদ্যুৎ ও উন্নয়ন সমার্থক শব্দ হিসেবে বিবেচিত

অধ্যক্ষ সুমনা ইয়াসমিন   |   শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

আজকের যুগে বিদ্যুৎ ও উন্নয়ন সমার্থক শব্দ হিসেবে বিবেচিত

বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকীতে যাতে বাগাড়ম্বরতার আশ্রয় নেওয়া না হয়, সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বন প্রশংসার দাবিদার। তার বদলে চেষ্টা চলছে মহৎ সব উদ্যোগের মাধ্যমে মুজিববর্ষকে দেশবাসীর কাছে মূর্তমান করার। এজন্য নেওয়া হয়েছে দেশজুড়ে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কর্মসূচি। কর্মসূচি অনুযায়ী গ্রিড আছে এমন উপজেলায় চলতি বছরের জুনের মধ্যে আর অফগ্রিড এলাকায় ডিসেম্বরে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হবে। প্রত্যন্ত পাহাড়ি, হাওর, চরাঞ্চলসহ দুর্গম যেসব এলাকায় বিদ্যুতের গ্রিডলাইন পৌঁছেনি সেখানে সোলার প্যানেল ও বিকল্প মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। মুুজিববর্ষে দেশবাসীর জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের এটিই হবে সবচেয়ে বড় উপহার।
স্মর্তব্য, সরকার ২০১২ সালে শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত দেশের ৪৬১ উপজেলার মধ্যে ৪১০টি শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। আর মাত্র ৫১টি উপজেলায় বিদ্যুৎ পৌঁছালে দেশের সব উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে। আগামী জুনের মধ্যে এ উপজেলাগুলো শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতায় আনার তোড়জোড় চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ঘোষণা দিয়েছে, মুজিববর্ষের মধ্যেই পুরো দেশ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে। প্রতি বছর ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহটি ‘বিদ্যুৎ সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়। এবার সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আজকের যুগে বিদ্যুৎ ও উন্নয়ন সমার্থক শব্দ হিসেবে বিবেচিত। বিদ্যুৎ আলো দেয়, ঘোচায় অন্ধকার। তথ্যপ্রযুক্তি আয়ত্তের মধ্যে আনতেও চাই বিদ্যুতের ব্যবহার। কলকারখানা চালাতেও ইন্ধনশক্তি হিসেবে বিদ্যুতের বিকল্প নেই বললেই চলে। ফলে মুজিববর্ষের কল্যাণে দেশজুড়ে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেলে তা হবে জাতির জন্য এক বিরাট অর্জন। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ঘটবে। গড়ে উঠবে ক্ষুদ্র শিল্প। কৃষিতেও লাগবে আধুনিকায়নের ছোঁয়া। পশ্চাৎপদতা কাটিয়ে উঠতে অবদান রাখবে বিদ্যুতায়ন। ইতিহাসের মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকীতে স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি মহৎ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১২ সালে শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত দেশের ৪৬১টি উপজেলার মধ্যে ৪১০টি শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। আর মাত্র ৫১টি উপজেলায় বিদ্যুৎ পৌঁছালে দেশের সব উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে। আগামী জুনের মধ্যে এ উপজেলাগুলো শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতায় আসার কথা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, গ্রিড আছে এমন উপজেলায় আগামী জুনের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হবে। আর অফগ্রিড এলাকাগুলোকে ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ঘোষণা দিয়েছে, মুজিববর্ষের মধ্যেই পুরো দেশ শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে। প্রতি বছর ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহটি ‘বিদ্যুৎ সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়। এবার সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অফগ্রিড এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দেশের চারটি বিতরণ কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড, নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কোম্পানিগুলো সোলার হোম সিস্টেম, সোলার মিনি গ্রিড, সাবমেরিন ক্যাবল এবং ওভারহেড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজটি বাস্তবায়ন করবে।
এক দশকে বিদ্যুৎ খাতের অর্জন : আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত এক দশকে বিদ্যুৎ খাতের অর্জন ইতিবাচক। বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৭টি। ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার ৭৮৭ মেগাওয়াট। বর্তমানে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। আর বিদ্যুতের সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৯৬ শতাংশ। মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে ৫১০ কিলোওয়াট ঘণ্টা। বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৬৪ লাখ। বিদ্যুতের সিস্টেম লস ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। নতুন প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আরও ১৫ হাজার ১৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে এবং ১৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও ১৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
লেখক: অধ্যক্ষ, উত্তরা ইউনাইটেড কলেজ ও সভাপতি স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তর।

Facebook Comments Box


Posted ৭:২৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১