• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আদালতে ধর্ষকের সঙ্গে আইনজীবী বাদীর বিয়ে

    | ২০ জানুয়ারি ২০২১ | ৭:০৩ অপরাহ্ণ

    আদালতে ধর্ষকের সঙ্গে আইনজীবী বাদীর বিয়ে

    রাজশাহীর আদালতে ধর্ষণ মামলার আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়েছে। বিচারকের উপস্থিতিতে বিয়ে করে জামিন পেয়েছেন ধর্ষণ মামলার এক আসামি


    বুধবার (২০ জানুয়ারি) রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. মনসুর আলমের উপস্থিতিতেই ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে এ বিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দেনমোহরের ২৫ লাখ টাকা নগদ দেওয়া হয়।

    ajkerograbani.com

    আসামি এসএম সাখাওয়াত হোসেন রানা পেশায় একজন চিকিৎসক। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত তিনি। আর কনে নিজেই একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী। রাজশাহীতে বান্ধবীর বাসায় সাবলেট থেকে কোর্টে আইন পেশা নিয়ে কাজ করছেন তিনি।

    ডা. রানা রাজশাহী নগরীর টিকাপাড় এলাকায় ভাড়া থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁর পোরশা উপজেলায়। ওই চিকিৎসকের স্ত্রী-সন্তানও আছে। আইনজীবী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৫ জুলাই তিনি গ্রেফতার হন। এরপর থেকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারেই ছিলেন। এরই মধ্যে গত ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। প্রায় ছয় মাস কারাগারে থেকে বিয়ের শর্তে বুধবার তিনি জামিন পান।

    আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী নারী ও চিকিৎসক দুজনেরই বই লেখার অভ্যাস রয়েছে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহীর এক ছাপাখানায় তাদের পরিচয়। সেদিনই ডা. রানা ওই নারীর ফোন নম্বর নেন। এরপরই তার সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেন। ফেসবুকেও তাদের মধ্যে কথাবার্তা হতো। এরইমধ্যে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর নানা কায়দায় বিশ্বাস স্থাপন করে এ চিকিৎসক ওই নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু কিছুতেই বিয়ে করছিলেন না।

    এ কারণে ওই নারী তাকে ধীরে ধীরে এড়িয়ে যেতে শুরু করেন। কিন্তু গত ২৫ জুলাই ডা. রানা ওই নারীর ভাড়া বাসায় গিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও চিত্র দেখিয়ে বলেন, তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে হবে। তা না হলে এ ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এভাবে ভয় দেখিয়ে ডা. রানা ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর ওই ভিডিও চিত্র নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে ওই নারীর বান্ধবী বাইরে থেকে ঘরের দরজা আটকিয়ে জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

    কিছুক্ষণ পর নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ ডা. রানাকে সেখান থেকে আটক করে আনেন। পরে ওই নারী বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় পর্নগ্রাফি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গ্রেফতারের দিন অভিযুক্ত চিকিৎসকের কাছ থেকে ওই নারীকে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। সেটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। ভিডিও’র সঙ্গে ওই নারী এবং চিকিৎসকের তিন কপি করে ছবিও পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার পর সিআইডি মতামত দেয়, ভিডিও’র দুই নারী-পুরুষ এবং পাঠানো নারী-পুরুষের ছবির মধ্যে মিল রয়েছে। ভিডিওটি এডিট করা নয়।

    এছাড়া ডা. রানাও জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তাই তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

    বিয়ের পর ওই নারী বুধবার দুপুরে বলেন, ‘ডা. রানার বাবা গত সোমবার তার ছেলেকে বিয়ে করতে আমাকে প্রস্তাব দেন। এতে তিনি রাজি হন। এরপর সেদিনই আদালতে একটি পিটিশন করা হয় যে, মামলার বাদী এবং আসামি বিয়ে করতে চান। আসামিকে যেন জামিন দেয়া হয়। এ দিন বিচারক আসামিকে বুধবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। বিচারক সিদ্ধান্ত দেন, আদালতেই তাদের বিয়ে হবে। সে অনুযায়ী বুধবার ডা. রানাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির কর হয়। এরপর বিচারকের সামনেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।’

    তিনি আরও জানান, বিয়েতে তার পক্ষে আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম এবং রানার বন্ধু মাসুদুজ্জামান কাজল সাক্ষী হয়েছেন। আর ডা. রানার পক্ষে তার বাবা মোখলেসুর রহমান, ভগ্নীপতি সাইফুল ইসলাম এবং হুমায়ুন কবীর নামে আরেকজন সাক্ষী হয়েছেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আদালত ডা. রানার জামিন মঞ্জুর করেছেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755