• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সবার সব আশাকে হতাশায় ডুবিয়ে চিরতরে হারিয়ে গেল জয়তী

    অনলাইন ডেস্ক | ১৯ এপ্রিল ২০১৭ | ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ

    সবার সব আশাকে হতাশায় ডুবিয়ে চিরতরে হারিয়ে গেল জয়তী

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিটে (স্ক্যাবু) চিকিৎসাধীন ছিল শিশুটি। তবে পাশে ছিল না কোনো স্বজন। হাসপাতালের খাতায় তার কোনো নামও ছিল না। লেখা ছিল ‘আননোন’। যদিও কোনো কমতি ছিল না যত্ন বা চিকিৎসায়। মেয়ে শিশুটির নাম দেওয়া হয়েছিল আনিশা। কেউ ডাকত জয়তী নামে। তাকে সন্তান হিসেবে পেতে চেয়েছিলেন চার দম্পতি। ছিলেন আদালতের সন্ধানের অপেক্ষায়। কিন্তু সবার সব চষ্টো, আর আশাকে হতাশায় ডুবিয়ে চিরতরে হারিয়ে গেল শিশুটি!


    রাজধানীর মিরপুর নবাবেরবাগ বেড়িবাঁধ এলাকার একটি ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়ার পর আলোচনায় উঠে আসা শিশুটি গত রবিবার রাতে মারা গেছে। ঘটনাটি গত দুই দিন প্রকাশ পায়নি। গতকাল মঙ্গলবার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মনীষা ব্যানার্জী।

    ajkerograbani.com

    তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, শিশুটি জন্মের পর থেকে নানা সংক্রমণে ভুগছিল, ওজনও কম ছিল। আমরা আপ্রাণ চষ্টো করেও শেষরক্ষা করতে পারিনি। গত রবিবার রাতে শিশুটি (আনিশা) মারা যায়।

    গত ১১ মার্চ মিরপুরের শাহআলী থানার নবাবেরবাগ বেড়িবাঁধের ডাস্টবিন থেকে পলিথিনে মোড়ানো শিশুটিকে দেখে পুলিশে খবর দেন বাঁশ ব্যবসায়ী বিপ্লব হোসেন ও তাঁর স্ত্রী লিপি আক্তার। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    বিপ্লব হোসেন দাবি করেন, তাঁর বাঁশের দোকান থেকে কিছুটা দূরেই ময়লা ফেলার জায়গা, যেখানে নবজাতকটিকে দেখেন তাঁরা। পরে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করেন। বিপ্লব ও তাঁর স্ত্রী-ই প্রথম শিশুটিকে দত্তক নিতে চান। পরে আরো তিন দম্পতি আদালতের কাছে শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে পেতে আবেদন করেন।

    গত ২১ ও ২৯ মার্চ শুনানি হয়। আগামী রবিবারও শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল। এরই মধ্যে শিশুটির মৃতু্যতে ভেঙে পড়েছেন বিপ্লব। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে আছে। ওকে মেয়ে হিসেবে পেতে চাইছিলাম। নাম রাখছিলাম আয়শা সিদ্দিকা জয়তী। আল্লাহপাক তাকে নিয়ে গেল। ‘

    এক নার্স বলেন, ‘কয়েকজন এসে শিশুটির খোঁজ নিয়ে যায়। ডাক্তাররাও খোঁজ রাখতেন। তাঁরাই শিশুটির নাম রাখেন আনিশা। সে মারা যাওয়ায় আমাদের অনেক খারাপ লেগেছে। বাচ্চা হিসেবে যারা নিতে চাইছিল তাদের ভাগ্যেই হয়তো ছিল না। ‘

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, যখন আনিশাকে পাওয়া যায়, তখন তার ওজন ছিল এক হাজার ৭০০ গ্রাম। সাধারণত নবজাতকের ওজন থাকে আড়াই হাজার থেকে চার হাজার গ্রাম। জন্ডিস ও শ্বাসকষ্ট ছিল শিশুটির। তার রক্তের অণুচক্রিকা কমে যায়। খাবারও হজম করতে পারছিল না।

    এর আগে ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কাফরুলের পুরাতন বিমানবন্দরের কাছে কুকুরে কামড়ানো একটি নবজাতককে তানিয়া আক্তার ও লিপি আক্তার নামে দুই নারী উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সুস্থ করে তোলা ওই শিশুটির নাম রাখা হয় ফাইজা। ওই শিশুটিকেও দত্তক নিতে চায় বেশ কয়েকটি দম্পতি। তবে আদালতের সদ্ধিানে্ত ওই বছরের ১১ অক্টোবর ফাইজাকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ছোটমণি নিবাসে হস্তান্তর করা হয়।

    গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানার কর্নেলহাট প্রশানি্ত আবাসিক এলাকার আবর্জনার স্তূপ থেকে আরেক নবজাতককে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সুস্থ করে তোলা হয়। তার নাম দেওয়া হয় একুশ। গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রামের আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে দত্তক নেন জাকিরুল ইসলাম ও শাকিলা বেগম দম্পতি।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757