• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আপনার সংসার আপনার আখেরাত

    মুহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান | ২৮ মে ২০১৭ | ৮:১১ অপরাহ্ণ

    আপনার সংসার আপনার আখেরাত

    স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হবে প্রেমের, ভালোবাসার, অতরঙ্গতার, আন্তরিকতার। স্ত্রীর প্রতি যদি ভালোবাসা থাকে, বউ যদি প্রেমিকা হয়, সঙ্গিনী যদি মাহবুবা হয়, তবে তার সাথে কখনোই খারাপ আচরণ করতে পারবে না, রাগ করতে পারবে না। ভালোবাসার মানুষের কাছে সবাই দুর্বল থাকে। তার কথায় উঠে-বসে। এক প্রকার গোলামি করা হয় প্রিয়ার। অন্তরঙ্গতা থাকলে সহজ লাগে। সংসারে শান্তি আসে। আন্তরিকতা না থাকলে অযথা ঝগড়া লাগে। দুনিয়াটাই জাহান্নাম হয়ে যায়। দুজনের জন্য।


    আমাদের পুরুষরা অনেক জুলুম করে স্ত্রীর প্রতি। কেউ কেউ কাজের বুয়া ভাবে। স্ত্রীর কোনো অধিকার আছে বলে মনে করা না। অযথা রাগ দেখায়। কর্তৃত খাটায়। স্বামীর কখনোই স্ত্রীকে গালাগাল করা উচিত না। খারাপ আচরণ থেকে দূরে থাকা ‍উচিত। মারধোর করা জঘন্যতম কাজের অন্যতম। স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা, বকাঝকা করে বাপ-মা তুলে গাল দেয়া, আবার তাকেই অন্তরঙ্গতার জন্য কাছে টানা, আদর সোহাগ করা- লজ্জা থাকলে এমন করতে পারবে না। বিবেকহীনরাই আগে-পরে না ভেবে একাজ করে।

    ajkerograbani.com

    স্বামী মনে রাখা উচিত, স্ত্রী আমার প্রাণ, স্ত্রী আমার জান, স্ত্রী আমার মান, স্ত্রী আমার সম্মান। স্ত্রীকে পেয়েই খুব সহজে আমি নিজের চাওয়া পূরণ করতে পারছি। সে না থাকলে আমাকে হয়তো খারাপ পন্থা অবলম্বন করতে হত। দুনিয়া লাঞ্ছিত হতে হত। আখেরাত বরবাদ হত। স্ত্রীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা উচিত সব সময়।

    স্ত্রীরও মনে রাখা দরকার, স্বামী কষ্ট করে উপার্জন করে আনে। আমার ইজ্জত-আবরু, খোর-পোশ থেকে শুরু করে সব কিছুর দায়িত্ব তার ওপর। আমারও চাওয়া পূরণে স্বামী সহায়ক। নয়ত আমার চরিত্রবতী হতে অনেক ধৈর্য় ধরতে হত। সুতরাং আমারও অকৃতজ্ঞ হওয়া উচিত নয় কখনো।

    কখনো কোনো বিষয় নিলে ঝামেলা হয়ে ধৈর্য় ধরে সুকৌশলে সংশোধন করার চেষ্টা করা উচিত। তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। ভালোবাসা দেখিয়ে, আবেগী হয়ে মনের কথা বললে সেটা অন্তরে আঘাত করবে। সহজেই মেনে নেবে। ধীরে ধীরে দীনের দিকে টানা উচিত। স্ত্রীকে হুট করে ‘ফাতেমা’ বানিয়ে ফেলার চিন্তা করা বোকামি। এটা তার প্রতি জুলুম নি:সন্দেহে। এক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য একই কৌশল। স্বামী খারাপ হলে স্ত্রী, স্ত্রী খারাপ হলে স্বামী। ভালোবাসা দিয়ে যেটা সম্ভব, শাসনে সেটা নাও হতে পারে।

    সংসারে শান্তির জন্য অন্যতম শর্ত হলো কানায়াত বা অল্পেতুষ্টি। স্ত্রী অল্পে তুষ্ট না হতে পারলে কোনোভাবেই সুখ আনা সম্ভব না। হাজার সম্পদ থাকতেও অভাবের তাড়নায় জ্বলতে হবে। বিলাসিতা করার সামর্থ না থাকা সত্ত্বেও যদি বিলাসী মনোভাব থাকে, তবে তো মহাবিপদ। দুজনের একজন বিলাসী মনোভাবের হওয়াই সংসার নষ্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর দুজনই যদি হয়, তবে গোষ্ঠীসহ বিপদে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অল্পেতুষ্টির কোনো বালাই নেই। কারণ, বিলাসিতার কোনো শেষ নেই। পৃথিবীতে সব আশা পূরণ হবে না। নয়ত জান্নাত কেন?

    যারা বিলাসী তাদের অনেক কিছু থাকতেও অনেক কিছু নেই। চারদিকে শুধু নেই আর নেই। অথচ অল্পেতুষ্ট হতে পারলে কিছু না থাকতেও শান্তিতে জীবন পার করা যায়।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757