• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আবাহনীর জয় ছাপিয়ে রকিবুলের ১৯০

    অনলাইন ডেস্ক | ০৯ মে ২০১৭ | ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ

    আবাহনীর জয় ছাপিয়ে রকিবুলের ১৯০

    একসময় আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ ঘিরে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যেত দেশ। উত্তেজনায় রেণু উড়ে বেড়াত বাতাসে। সেসব দিন শুধুই স্মৃতি হয়ে গেছে আজ অনেক বছর। তারপরও আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ কখনো কখনো ঠিকই ফিরিয়ে আসে সেই রোমাঞ্চ। যেমন আনল কাল বিকেএসপিতে। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল গুটিকয় দর্শককে উপহার দিল ‘ক্ল্যাসিক’ এক ম্যাচ।
    রানবন্যার ম্যাচও! ১০০ ওভারে উঠেছে ৭০৫ রান। সেঞ্চুরি হয়েছে তিনটি। ২৭ রানে জয়ী আবাহনীর পক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন লিটন কুমার দাস ও নাজমুল হোসেন। মোহামেডানের পক্ষে রকিবুল হাসান। তিন সেঞ্চুরিয়ানের নাম একই নিশ্বাসে উচ্চারণ করাটা অবশ্য ঠিক হবে না। লিটন আর নাজমুলের সেঞ্চুরি দুটি আর দশটা সেঞ্চুরির মতোই। রকিবুলের সেঞ্চুরি মোটেই তা নয়। সেটি এমন সেঞ্চুরি, বেশির ভাগ ব্যাটসম্যান যা শুধু স্বপ্নেই খেলেন!
    লিটন, নাজমুললিটন, নাজমুল
    ম্যাচটাকে এমন মহাকাব্যিক উচ্চতায় তুলে নেওয়ার পুরো কৃতিত্বই একসময় বাংলাদেশ দলে নিয়মিত এই ব্যাটসম্যানের। ৩৮ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর নেমে মোহামেডান অধিনায়ক খেলেছেন ১৯০ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস, বাংলাদেশের মাটিতে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে যা ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। তারপরও অবশ্য পরাজয়ের দুঃখই পেতে হয়েছে রকিবুলকে। সম্ভাবনা জাগিয়েও আবাহনীর গড়া রানের পাহাড় আর টপকানো হয়নি।
    সেই পাহাড় টপকানো অবশ্য দুঃসাধ্যই ছিল। কারণ টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে আবাহনী করেছিল ৫ উইকেটে ৩৬৬ রান। যেটির ভিত্তি গড়ে দেয় লিটন ও নাজমুলের দুই সেঞ্চুরি আর প্রথম ২ উইকেটেই সেঞ্চুরি জুটি। দ্বিতীয়টির অংশীদার দুই সেঞ্চুরিয়ান। নাজমুলের সঙ্গে লিটনের জুটিটি ১০৯ রানের। এর আগে সাদমান ইসলামের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে লিটন তুলেছেন ১০৩ রান। যাতে সাদমানের অবদান মাত্র ২৮।
    মাত্র ৩৩ বলে লিটনের ফিফটি, সেঞ্চুরি ৭৯ বলে। ৩৩তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ১০৩ বলে ১৩৫ রান, যাতে ছিল ১৫টি চার ও ২টি ছয়। নাজমুলের ইনিংসে চারের চেয়ে ছয় বেশি। গত নিউজিল্যান্ড সফরে পাকেচক্রে টেস্ট খেলে ফেলা বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ১০০ বলে ১১০ রানের ইনিংসে চার ৩টি, ছয় এর দ্বিগুণ। ম্যাচে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান অবশ্য এই দুটি সেঞ্চুরির মতোই গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে শুভাগত হোম চৌধুরীর ঝোড়ো ইনিংসটিকে। তাঁর ২৭ বলে ৪৮ রানই আবাহনীকে নিয়ে গেছে সাড়ে তিন শ ছাড়িয়ে আরও দূরে।
    মোহামেডানের ইনিংসে এমন কোনো পার্শ্বনায়ক নেই। সেটি শুধুই রকিবুলময়। দলের বাকি দশ ব্যাটসম্যান মিলে যেখানে করেছেন ১৩৭ রান, রকিবুল একাই ১৯০। শ্রীলঙ্কান চারিথ আসালাঙ্কা ছাড়া আর কেউ সেভাবে সঙ্গও দিতে পারেননি তাঁকে। এই দুজনের ১৭৫ রানের জুটিতে আসালাঙ্কার অবদান মাত্র ৬৩। ৩০তম ওভারে আসালাঙ্কা আউট হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচটা আক্ষরিক অর্থেই ‘আবাহনী বনাম রকিবুল’। অন্য প্রান্তে উইকেট পড়ছে, এর মধ্যেও স্ট্রোকের ঝলক রকিবুলের ব্যাটে। শেষ ১০ ওভারে মোহামেডানের দরকার ছিল ৯৯ রান, হাতে ৫ উইকেট। কাজটা খুব কঠিন। কিন্তু রকিবুল সেটিকেও একেবারে অসম্ভব মনে করতে দিচ্ছিলেন না। আরেকটি পরিসংখ্যানও আশা যোগাচ্ছিল মোহামেডানকে। শেষ ১০ ওভারে আবাহনীও তো ৯৯ রানই তুলেছিল।
    শেষ ওভার আসতে আসতে অবশ্য ম্যাচের ফল নিয়ে সংশয় একরকম শেষ। মোহামেডানের চাই ৩০ রান। রকিবুলও স্ট্রাইকে নেই। প্রথম বলেই সিঙ্গেল নিয়ে তাঁকে স্ট্রাইক দিলেন কামরুল ইসলাম রাব্বী। ততক্ষণে ১০টি ছক্কা মারা হয়ে গেছে রকিবুলের। তাই বলে পরপর পাঁচ বলে ছক্কা মেরে তিনি ম্যাচ জিতিয়ে দেবেন, এটা ভাবা একটু বাড়াবাড়িই ছিল। বরং তাঁর ডাবল সেঞ্চুরিটা হয় কিনা, তা নিয়ে কৌতূহলই ছিল বাস্তবোচিত। দুটির কোনোটাই হলো না। ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই রকিবুল ধরা পড়লেন ডিপ মিড উইকেটে।
    রকিবুলের দল হারল, কিন্তু রকিবুল কি হারলেন? প্রশ্নটা অর্থহীন নয়। ম্যাচসেরার ট্রফিটা যে রকিবুলের হাতেই উঠল!
    সংক্ষিপ্ত স্কোর
    আবাহনী: ৫০ ওভারে ৩৬৬/৫ (লিটন ১৩৫, নাজমুল ১১০, শুভাগত ৪৮*; তাইজুল ৩/৫৭)। মোহামেডান: ৫০ ওভারে ৩৩৯/৯ (রকিবুল ১৯০, আসালাঙ্কা ৬৩; শর্মা ৫/৪৭, অনিক ২/৭২)।
    ফল: আবাহনী ২৭ রানে জয়ী।
    ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রকিবুল হাসান।


    বাংলাদেশে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ
    ম্যাচ ভেন্যু সাল
    ১৯০ রকিবুল হাসান মোহামেডান-আবাহনী বিকেএসপি-৪ ২০১৭
    ১৮৫* শেন ওয়াটসন অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ মিরপুর ২০১১
    ১৮৩ বিরাট কোহলি ভারত-পাকিস্তান মিরপুর ২০১২
    ১৭৫ বীরেন্দর শেবাগ ভারত-বাংলাদেশ মিরপুর ২০১১
    ১৬১* চামারা কাপুগেদারা ভিক্টোরিয়া-প্রাইম ব্যাংক ফতুল্লা ২০১৪-১৫
    বাংলাদেশে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে দলীয় সর্বোচ্চ
    দল বিপক্ষ ভেন্যু সাল
    ৩৭১/৫ আবাহনী মোহামেডান বিকেএসপি-৩ ২০১৬
    ৩৭০/৭ ইংল্যান্ড বিসিবি একাদশ ফতুল্লা ২০০৯-১০
    ৩৭০/৪ ভারত বাংলাদেশ মিরপুর ২০১০-১১
    ৩৬৮/৯ দ. আফ্রিকা ‘এ’ বাংলাদেশ ‘এ’ মিরপুর ২০১০
    ৩৬৬/৫ আবাহনী মোহামেডান বিকেএসপি-৪ ২০১৭

    ajkerograbani.com

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757