বুধবার, নভেম্বর ২৪, ২০২১

আমদানি ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বুধবার, ২৪ নভেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট  

আমদানি ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ

আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজ ভাড়া বাড়তে থাকায় বাংলাদেশে আমদানি ব্যয়ও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

মূলত ভোজ্য তেলের পাশাপাশি জ্বালানি তেল, শিল্পের কাঁচামাল এবং ভোগ্যপণ্য আমদানিতেই সবচেয়ে বেশি ডলার চলে যাচ্ছে বিদেশে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশে চলমান মেগা প্রকল্পে ব্যবহৃত মালামাল আমদানি। আমদানি ব্যয় কমিয়ে আনা না গেলে রিজার্ভে টান পড়ার শঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।


শিপিংলাইনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে প্রায় ১১ লাখ কনটেইনার পণ্য, যা গত বছরের তুলনায় এক লাখ কনটেইনার বেশি।

বন্দরের তথ্য মতে, এ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য নিয়ে জাহাজ এসেছে ৩ হাজার ৪৬৮টি। অথচ তার আগের বছর জাহাজ এসেছিল ৩ হাজার ৯টি। অস্বাভাবিকভাবে আমদানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী কনটেইনার এবং জাহাজ আসার হারও বাড়ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।


বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ সময় সংবাদকে বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে অনেক পণ্য পাইপলাইনে আটকে আছে। কিন্তু জাহাজের কারণে পণ্যগুলো আটকে আছে। বাল্ক জাহাজগুলোর ভাড়া বেড়েছে আড়াই থেকে তিন গুণ। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

তবে চাহিদা অনুযায়ী আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেছে জাহাজ ভাড়াও। লকডাউনের কারণে আগেই বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে আটকা পড়েছে শত শত জাহাজ। সেই স্থবিরতা কাটতে শুরু করায় জাহাজ মালিকরাও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। আগে একটি কনটেইনার সিঙ্গাপুর হয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপ পাঠাতে মাত্র আড়াই হাজার ডলার খরচ হলেও এখন তা ১২ থেকে ১৫ হাজার ডলার লাগছে।

আমদানি ব্যয়ের প্রভাবে পণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে কয়েকগুণ। আগে বাইরে থেকে আমদানিকৃত যে পণ্যের দাম ছিল ২০০ ডলার, দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন একই পণ্যের দাম হয়ে যাচ্ছে ৪০০ ডলার।

বিজিএমইএর পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করে সময় সংবাদকে বলেন, এখন কর্মচাঞ্চল্যকর একটি পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে আমরা আশা করছি আগামী মাসের মধ্যে ভাড়া একটি সহনীয় পর্যায়ে এসে পৌঁছাবে।

আমদানি ব্যয় বাড়তে থাকায় দেশের রির্জাভে টান পড়ার শঙ্কা করছে অর্থনীতিবিদরা।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. সিকান্দার খান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক ঘাটতির একটি বড় কারণ হচ্ছে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি। যদিও এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি সমস্যা। দেশীয় অর্থনীতি এখানে অনেকটা নিরুপায়।

সংশ্লিষ্ট সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খুচরা এবং পাইকারি বাজারে দাম বহুগুণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।

Posted ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৪ নভেম্বর ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১