রবিবার ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আমাদের একজন রিজভী আছেন

মাহবুব হাসান বাবর   |   বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

আমাদের একজন রিজভী আছেন

করোনা যুদ্ধে নাম লেখানোর আগেই তিনি একেছিলেন আল্পনা। কপালে বেধেছিলেন লাল কাপড়। গরীব রোগীদের কাছে তিনি হয়েছিলেন দেবী শেঠী। লম্বা- চওড়া সদা হাস্যজ্জ্বল মানুষটি ডেকে ডেকে কথা বলতেন এর ওর সাথে। হসপিটালের ইট -কাঠ- পাথরগুলো তখন তাকে দেখলে হেসে উঠতো। আড্ডাতেও তাকে পাওয়া যেতো সমানতালে। গায়ে জড়ানো সাদা ধবধবে পাঞ্জাবী। মুখের এক গোছাা দামী কেশ তাকে স্মার্টনেস থেকে একটুও আলাদা করতে পারেনি। সেবার মহানব্রত তাঁর হৃদয়ে আঁকা।
হ্যা! হ্যা আমি ডাঃ রিজভীর কথা বলছি
আমি করোনা যুদ্ধে নিজে জ্বলে জ্বলে আলো জ্বালাচ্ছেন সেই রিজভীর কথা বলছি। জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রতিদিন ছুটছেন- নমুনা সংগ্রহ করছেন আবার হসপিটালের সাধারন রোগীও সামলাচ্ছেন। পরিচিতজনদের কাছে ডাঃ রিজভী একটি বিশ্বস্থ নাম। যে নাম শুনলেই অসুখটা কিছুটাও হলে সুখ আছে।
চলনে -বলনে- কথনে মার্জিত এমন একজন ডাঃ অনেকদিন দেখা হয়না আমাদের। পেশাগত জীবনে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা চাকরীর মেয়াদগত কারনে অন্যদের চেয়ে কম হলেও তার মেধা আর ধৈর্য্য সেইসাথে বাস্তব অভিজ্ঞতায় সেবার মান সন্তোজনক তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
এই করোনা যুদ্ধে তিনি ছুটে গেছেন এ উপজেলা ছেড়েও অন্য উপজেলায়- ভিন্ন জেলায়। আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে থেকেছেন নির্দিষ্ট সময়ে হোম কোয়ারেন্টাইন।
হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে তিনি আবার ছুটে চলেছেন মহামারি মোকাবেলায়।
এইতো আমাদের চাওয়া ছিলো।
আমাদের চাওয়া ছিলো মায়ের কোলে শিশু চেস্বারে আসলেই শিশু রোগী হেসে উঠবে- সাথে মা ও। আমরা এমনটাই পাচ্ছি। রাত দেড়টায় ক্রিং ক্রিং ফোনে কেউ বলবে,
ঃ আপনি কি ডাঃ রিজভী?
ফোনের ওপার থেকে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলবেন,
ঃ জ্বি আমি রিজভী বলছি।
তারপর সে আতংকিত কন্ঠে বলবে,
ঃ বাবা আমার শরীরের এই সমস্যা- ঐ সমস্যা।
রিজভী হাসবেন তখন।
হেসে বলবেন,
ঃ চাচা ভয় পাবেন না। ওটা সিরিয়াস কিছুনা। কাল সকালে একবার হসপিটালে আসুন। ঔষুধ লিখে দেবো ঠিক হয়ে যাবেন।
স্বস্তি আর শংকা কিছুটা কাটিয়ে গ্রামের চাচা বালিশে তখন মাথা রাখবেন।
আজান হবার সাথে সাথে মানুষটি চলে যান আল্লাহর ঘরে। নামাজ শেষে জানিনা কি মোনাজাতে চান!
তবে তিনিযে আমাদের কথাও বলেন এটা হলফ করে বলতে পারি।
আমরা অনেকদিন পর সিনেমাটিক মনে হলেও একজন ডাক্তার পেয়েছি। যার হাত প্রসস্ত-যার মানসিকতা সেবার।
রন্ধে রন্ধে অনুভব হোক আমাদের একজন ডাঃ রিজভী আছেন- আমাদের একজন মুকসুদপুরের দেবীশেঠী আছেন।

Facebook Comments Box


Posted ৭:১৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১