• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আমাদের বৈশাখ নেই। আমাদের কাছে জীবন মানেই বেঁচে থাকার লড়াই

    অনলাইন ডেস্ক | ১৪ এপ্রিল ২০১৭ | ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

    আমাদের বৈশাখ নেই। আমাদের কাছে জীবন মানেই বেঁচে থাকার লড়াই

    বর্ষবরণের আনন্দে নতুন স্বপ্ন সাজানোর অপেক্ষায় কোটি কোটি বাঙালি। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণোচ্ছ্বল উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন সবাই। কিন্তু এমনও অনেক মানুষ আছেন যাদের জীবনে বৈশাখ আসে না উৎসব মুখরতার বিহ্বলতা। তাদের কাছে বছরের প্রতিটি দিনই সমান।
    ফলে জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনকে বরণ করে নিতেও মাতামাতি নেই তাদের। তাদের জীবনে পহেলা বৈশাখের আনন্দ ধরা দেয় না।
    সাধ থাকলেও আর্থিক সংকটে বাচ্চা-কাচ্চাদের হাতে তুলে দিতে পারেন না নতুন জামা। স্বাদ নেওয়া হয় না মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা আর হাওয়াই মিঠাইয়ে। নতুন সম্ভাবনা আর নতুন আশায় পথচলার বছরের প্রথম দিনটি রীতিমতো তাদের কাছে দুঃসহ যন্ত্রণার উপজীব্য হয়ে আসে।


    ফলে রাতের দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফিরে নিশ্চিন্ত মনে ঘুম দিয়েই বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনটি কাটিয়ে দেবেন নিরাপত্তাকর্মী ফারুক হোসেন ও মো. মালেক। চল্লিশের কোটায় তাদের বয়স। তারা কাজ করেন ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজার এলাকার একটি বেসরকারি এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। পহেলা বৈশাখ তাদের জীবনে আনন্দের কোনো উপলক্ষ তৈরি করে না। বুথের ঠিক সামনেই টুলে বসে খবরের কাগজ দিয়ে বাতাসে গা জুড়িয়ে নিচ্ছিলেন ফারুক হোসেন। বাড়ি সদর উপজেলার খাগডহর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে। পহেলা বৈশাখের প্রসঙ্গ টানতেই যেন তার মুখায়বে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়লো। খানিক সময় চুপ থেকে বললেন, সাকুল্যে বেতন দিয়ে পেট পুর্তি করতে করতেই দিন শেষ। বৈশাখের আনন্দ করবো কীভাবে? আমাদের কামাইও নাই, বৈশাখও নাই।


    ফারুকের সংসারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে এক সন্তান। সেই ছোট্ট মেয়ে ফাউজিয়া আক্তারের (৮) বায়নাও মেটাতে পারেননি তিনি। নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরে জানান, আমার বেতন মাত্র ৮ কী ৯ হাজার টাকা। এ টাকা দিয়ে তেল, নুন আর চাল কিনতেই ফুরিয়ে যায়। মেয়েটি বলেছিল লাল রঙা নতুন জামা আর খেলনাপাতি কিনে দিতে। কিন্তু ওর মনের আশাটাও পূরণ করার সামর্থ্য নেই আমার’ আপ্লুত হয়েই বলেন ফারুক।

    তার সঙ্গে আলাপের সময়েই এসে যোগ দিলেন আরেক নিরাপত্তাকর্মী মো. মালেক। মুক্তাগাছা উপজেলার খেরুয়াজানি ইউনিয়নের সৈয়দ গ্রামে তার বাস। সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। মাস শেষে যে টাকা পান তা দিয়ে কোনোমতে চলে সংসার খরচ। ফলে তার কাছে যেন পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রশ্নটি বেশ অবান্তর হিসেবেই ঠেকলো।

    মালেক বলেন, আমারও মন চায় বৈশাখ করবার। ভাল-মন্দ খাওয়ার। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঘুরে বেড়াবার। মেলায় গিয়ে কিছু কিনে দেবার। কিন্তু কেনাকাটা করতে তো পয়সা লাগে। এসব কথা বলতেই ভিজে ওঠে মালেকের চোখ। চোখ মুছে বলতে থাকেন, আমাদের বৈশাখ নেই। আমাদের কাছে জীবন মানেই বেঁচে থাকার লড়াই। দুই বেলা খাবারের সংগ্রাম।’

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669