• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আমার আপনার ভোট ও সাইফুজ্জামান শিখর

    আসিফ হাসান কাজল- | ১০ জুন ২০১৮ | ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ

    আমার আপনার ভোট ও সাইফুজ্জামান শিখর

    ১৯৯৬ সাল। আমার বয়স তখন ৭ বছর একটি নির্ভেজাল শৈশব কাল, নির্বাচনী উত্তাল হাওয়া তখন দেশ,শহর,গ্রাম প্রতিটি মহল্লা জুড়ে। সবে মাত্র ভাড়া বাসা ছেড়ে আমাদের নিজের নতুন বাড়িতে উঠেছি। নৌকা আর ধানের শীষের নির্বাচনী হাওয়ার যে নূন্যতম উত্তাপ আমার শিশু মনকে ছুঁয়ে যেত! তা হল মাইকের পেছন পেছন দৌড়িয়ে পোস্টার লিফলেট সংগ্রহ করা ও তা সংগ্রহ শেষে কাগজের সংখ্যা ও ওজন বৃদ্ধি করা।


    ৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের নতুন বাসার দেওয়ালে এক ব্যক্তি আঠালো পদার্থমিশ্রিত কিছু দিয়ে একাধিক ছবিযুক্ত কাগজ/পোস্টার লাগিয়ে দিল! সেই লোকটি সরতে না সরতে আমি কাগজটি এক টানে ছিঁড়ে ফেলি। লোকটি ফিছু ফিরে আমার সে কি বকা! ভাগ্গিস আমার জননী বাড়িতে ছিল। প্রতিবাদের মুখরে লোকটাকে গালমন্দ করলো। ৯৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ব্যক্তি ও তার মনোনিত প্রতীক উভয়ই জয়লাভ করলো। বুদ্ধি হবার পরে আমি চিনলাম ব্যক্তিটির নাম বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক এম এস আকবর। নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রতীকের নাম নৌকা।


    এরপর টিভিতে বসে আমি সরকারপক্ষ ও বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের তাদের শ্রেণীকক্ষে বসে গল্পগুজব, দাবী দাওয়া, ঝগড়া,মাইক কাড়াকাড়ি দেখতে পেতাম । ক্লাশরুম/শ্রেণীকক্ষ বলছি এর একটা সেই সময়ের সহজাত কারন হলো -আমরা স্কুলে যেয়ে যেমন মজা আনন্দ মারামারি, ঝগড়া করতাম ওখানেও দেখতাম তাই হতো। পার্থক্য শুধু বয়সে অর্থাৎ ঐ কক্ষে বুড়োদের দল হইচই করতো।
    সেই সময়ে আমার মনে এই ধারনা বদ্ধমূল যে ঐটা হলো বড়দের স্কুল। পরে বুঝলাম বড়দের ঐ স্কুলটির নাম জাতীয় সংসদ! এই সংসদকে ঘিরেই নাকি গণতন্ত্রমনস্ক ব্যক্তিরা গণতন্ত্র চর্চা করে!!!

    আমার অবাক লাগতো যখন দেখতাম অন্য জেলার মানুষ গুলো তার জেলার জন্য এই চাই ঐ চাই আমি তখন পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ঐ বয়স্ক লোকটাকে খুঁজে চলতাম, কখনো বা টিভিতে এক মূহুর্ত দেখা মিললেও কোন দাবী দাওয়া করতে দেখিনি। তিনি একজন এশিয়া মহাদেশের বিশেষজ্ঞ শিশু ডাক্তার হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।

    এরপর সেই যে একটু একটু করে শৈশব,কৈশর,যৌবনে পদার্পন করে আমিও ভোটদানের বয়স ও যোগ্যতা অর্জন করলাম তখনো দেখি সেই চশমা পড়া ব্যক্তিটিই আমাদের মাগুরা ১ আসনের জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এমপি (মেম্বার অফ পার্লামেন্ট বা সাংসদ)।

    এরপর রাজনীতির মাঠে আমার পথচলা শুরু না হলেও খবরের কাগজ নিয়মিত পড়াতে ও বইপুস্তোকের সাথে মৃদ্যু সখ্যতা থাকায় রাজনৈতিক ইতিহাস জ্ঞান আহরন সর্বদায় চালু করে রেখেছি।

    গতবছর মাগুরা জেলায় যখন আমি সাংবাদিকতায় কাজ শুরু করলাম, তখন থেকেই মাগুরার নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ,প্রকৃতি,সংস্কৃতি,রাজনীতি প্রায় সব বিষয়ের সাথে আমার পূণ;পরিচয় ঘটেছে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরায় আসলেন ২০১৭ সালে। গোটা ৪০/৫০ উপহার সঙ্গে করে এসে বলেছিলেন তিনি খালি হাতে মাগুরাবাসীর কাছে আসেন নাই। এর কিছুদিন পর মাগুরায় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মহোদয় আসলেন, মাগুরাবাসী তার আগমন ও উপস্থিতিতে ঠিক যেন রেলগাড়ির ঝনঝন শব্দ শোনা শুরু করেছে। মন্ত্রী মহোদয় মঞ্চে উঠলেন ও মাগুরাবাসীর স্বপ্নতুল্য সেই উপহার বাস্তবায়নের ঘোষনা করলেন যা- মাগুরার মাটিতে আর কিছুদিন পর থেকেই ট্রেনের ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক শব্দ শোনা যাবে। তার এই ঘোষনার পরেই রামনগর বিদ্যালয় মাঠের করতালি আমার কানে আজও প্রতিধ্বনিত হয়।

    রেলমন্ত্রী ঐ দিন হাস্যরসে তামাশায় একটি কথা অসংখ্যবার বলেছিলেন- জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দেবার পর থেকে আমি এক প্রকার সাইফুজ্জামান শিখরের সামনে থেকে পালাই বেড়াইতাম। দেখা হলেই মাগুরায় কবে হবে রেল? কবে হবে রেল? কবে হবে রেল?
    কিন্তু সে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত লোক সারাদিনই জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাথে থাকে কতক্ষণই আর পালিয়ে বেড়ানো যায় ! আজকের পর থেকে আর শিখরকে দেখে লুকানোর কিছু নাই। এই কথা শেষ করতেই মাগুরায় রেলপথ স্থাপন ও ঢাকার সাথে মাগুরার রেলপথ সংযোযন করার ঘোষনা প্রদান করলেন রেল মন্ত্রী মহোদয়।

    আমি একবার জেলার এক সংগঠন প্রধানের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, আচ্ছা মাগুরা জেলায় কোন উন্নয়নে ও কোথায় কোথায় সাইফুজ্জামান শিখরের অবদান, কোন উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি?

    উনি আমাকে জানিয়েছিলেন, ও উল্টো প্রশ্ন করেছলেন আসলে কোথায় কোথায় ঠিক নয়, মাগুরার কোন উন্নয়ন যাত্রায় শিখর ভাইয়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অবদান নেই?
    সত্যিই আমি অনেক ভেবেও সমসাময়িক সব উন্নয়ন যজ্ঞে এমন কোথাও পাইনি যে তার অবদানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে দেখিয়ে দেই। কিন্তু পেলাম না।

    মাগুরা জেলাশহরে চলমান প্রকল্প চারলেন সড়ক পথের কাজ শুরু হয়ে গেছে। হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরন। ইনিডোর স্টেডিয়াম,আধুনিক স্টেডিয়াম স্থাপন। অভ্যন্তরীন যোগাযোগ ব্যবস্থায় পিচঢালা মসৃণ সড়ক। পারনান্দুয়ালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী নবগঙ্গা নদীর উপরে নির্মিত সেতু, পৌরসভার বড় বাজেট আনতে তৎপর ও ব্যক্তিগত ভুমিকা রাখা ছাড়াও রেখেছেন রাজনৈতিক অবদান। এছাড়াও নতুন নতুন সরকারী-বেসরকারী একাধিক স্থাপনা নির্মান। সব বিষয়ে রয়েছে তার সর্বোচ্চ অগ্রণী ভূমিকা। তিনি প্রয়াত সাংসদ আছাদুজ্জামানের পুত্র ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত এ্যাড.সাইফুজ্জামান শিখর।

    আমি মাগুরার একজন সাধারণ ভোটার হিসাবে একজন সাধারণ জনগন হিসাবে এটাই দেখতে চাই, আমাদের আসন থেকে জাতীয় সংসদে শুধুমাত্র অংশগ্রহণ করার জন্য বা করানোর জন্য কোন প্রতিনিধি নির্বাচন করতে ভোট প্রদান করতে চাইনা, আর করবো না। আমি চাই আমরা চাই গণতন্ত্রের ঐ সূতিকাগারে আমাদের কথা বলা হোক, আমাদের দাবী উপস্থাপন করা হোক, আমাদের প্রাপ্য ও আবদারগুলি চাওয়া ও পূরণ করা হোক। এক্ষেত্রে মাগুরার যে মানুষটির উপর সবচেয়ে বেশী আস্থা,ভরসা করা যায়,
    যে ব্যক্তিটির মেধা,দক্ষতা,রাজনৈতিক দৃঢ়তা বলে তিনি সুযোগ্য ও সর্বোত্তম তিনিই এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখর।

    আমার ছোট্ট জ্ঞানে,ছোট্ট চিন্তায় একমাত্র মাগুরা এক আসন বা দুই নং আসন বুঝি না, আমি,আমরা আমাদের প্রতিনিধি হিসাবে তাকেই চাই, তাকেই প্রার্থী হিসাবে চাই, তাকেই সাধারণ জনগণ ভোটদান করতে চান যার রাজনৈতিক নীতি, আদর্শ, ব্যক্তি যোগ্যতা আছে , সৎ সাহস থাকবে তার এলাকার জনগণের সাপেক্ষে কথা বলার জন্য। যিনি আমার জেলার জন্য আমাদের মাগুরার জন্য নতুন কিছু ভাবতে পারেন , উচ্চমহলে তার মানুষের প্রয়োজনে কিছু চাইতে পারেন, দাবী আদায় করতে জানেন , যিনি স্বপ্ন দেখেন ও বাস্তবায়ন করে দেখাবেন। থাকবেন মাগুরাবাসীর মনে ও মাগুরার আগামীর উন্নয়নে।

    একটি গোপন সূত্রথেকে আমি জানতে পেরেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার একান্ত ব্যক্তিগত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর কে ডেকে বললেন, শিখর মাগুরা আসনে আ’লীগ মনোনয়ন প্রার্থনা ও সংসদ সদস্য হবার তোমার কি এত দরকার? তুমি তো ৩০০ আসনেরই সাংসদ আমার ব্যক্তিগত সহকারী তুমি।
    জানিনা সাইফুজ্জামান শিখর এর কি উত্তর দিয়েছিলেন! না কোন উত্তর তার দেওয়ার ছিলনা!

    লেখাটি শেষ করার আগে মনেপড়ে গেল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর হৃদয় জুড়ে থাকা সেই ৭ এ মার্চ এর মহাকাব্যিক ভাষনের একটি শব্দমালা ” আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাইনা, আমি এদেশের মানুষের মুক্তি চাই”

    এই নাহলে একজন নেতা, একজন বিশ্ব নেতা হওয়া যায়? আসলে রাজনৈতিক জীবনে নেতা সৃষ্টির অন্তরালে থাকে সহস্র কোটি ত্যাগ আর সেই মহিমায় তিনি হয়ে উঠেন, ভিন্নমতাবলম্বী, ভিন্নধর্মী, আপমর জনগণের সার্বজনীন এক পছন্দের মানুষ। একটি মূর্তি,একজন জননেতা।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669