• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আমার দ্বিতীয় সংসারের গল্প

    রণক ইকরাম | ১৫ মার্চ ২০১৭ | ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ

    আমার দ্বিতীয় সংসারের গল্প

    লেখালেখির শুরুটা হলুদ খামে করে।৯৭/৯৮ হবে। দৈনিক ইনকিলাবের শিশুতোষ পাতা সোনালী আসরে ছাপা হয় প্রথম লেখা। এরপর আস্তে আস্তে আরো নানান জায়গায়। চিঠিপত্র কলাম থেকে শুরু করে মহিলা পাতা পর্যন্ত সব খানে লিখেছি। এরপর যখন নটরডেমে ভর্তি হলাম তখনও এই ধারা অব্যাহত ছিল। তখন বেশি লিখতাম ফান সাপ্লিমেন্টে। বিশেষত যুগান্তরের বিচ্ছুতে। একদিন সেখান থেকেই ডাক এলো। কন্ট্রিবিউটিং এর সুযোগ। তখনো জানতাম না চাকুরী না করেও বাইরে থেকে পত্রিকায় লেখা যায়। আবার তার জন্য নাকি সম্মাণীও মেলে। আমাকে সেখানে ডেকে এনে লেখার সুযোগ করে দিলেন ইশতিয়াক আহমেদ। Isteaque Ahmed তার কাছে তাই অনেক ঋণ। এরপর শুরু হলো নতুন যাত্রা। আলপিন ছাড়া সব ফান সাপ্লিমেন্টে দুহাত ভরে লিখেছি। বিচ্ছু, ভিমরুল, দূরবীন, ফাটাফাটি, থেরাপি সবখানেই। বাচ্চাদের পাতায় টুকটাক লিখেছি। ফিচার লেখাটাও তখনই রপ্ত করি। এর মধ্যেই সুযোগ আসে চাকুরির। সাড়ে তিন হাজার টাকা বেতনে চাকুরি নেই দেশের প্রথম রঙিণ বিনোদন পাক্ষিক তারকালোক এ। কৃতজ্ঞতা বন্ধু শাকিল ফারুকের Shakil Faruq কাছে। ঐতিহ্যবাহী এই ম্যাগাজিনে কাজ করতে গিয়ে এবার চিনলাম শোবিজ অঙ্গন। প্রথম দিকে একাজে দারুন সাহায্য করেছে বন্ধু রাশেদ নিজাম। Rashed Nizam তখন ঢাকা ভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারে।
    এরপর নানা দৈনিক ঘুরে প্রথম চাকুরির সুযোগ পেলাম বাংলাদেশ প্রতিদিন এ। পত্রিকা তখনো বাজারে আসেনি। মার্চের ৩ কিম্বা ৪ তারিখ হবে। ১৫ মার্চ ২০১০ সালে পত্রিকাটি বাজারে আসে। পরেরটুকু ইতিহাস। অনেকদিন পর পুরনো কথাগুলো মনে করার উপলক্ষ্য বাংলাদেশ প্রতিদিন এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আজ অষ্টম বছরে পা রাখলো দেশের সর্বাধিক প্রচারিত এই দৈনিকটি। আমার কর্মজীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় কাটছে এখানেই।
    অনেক কিছু শিখেছি এখান থেকে। পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা আর প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও সহজভাবে সবকিছু সম্পন্ন করতে পারার অদ্ভুত বিদ্যা রপ্ত করেছি। রকমারি পাতার দায়িত্ব নিয়ে একাই একটানা প্রায় সাড়ে তিন বছর কাজ করেছি। দৈনিক একটা পাতা একাই করেছি। প্রচুর লিখেছি। লিখতে লিখতে শিখেছি।এখনো শিখছি। ভাবতে ভালো লাগে এই কাগজের অনেকগুলো প্রথমের সঙ্গে আমার জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে। সম্পাদক আর কর্তৃপক্ষের অসীম ভালো লাগায় আমি অনেক কিছুই শেখার সুযোগ পেয়েছি।
    আড়াই বছর আগে ১২ পৃষ্ঠার ছোটো দৈনিকের বলয় ভেঙ্গে প্রথম একটি সাপ্লিমেন্ট নিয়ে হাজির হয় বাংলাদেশ প্রতিদিন। আমার সৌভাগ্য এই লাইফস্টাইল সাপ্লিমেন্টের দায়িত্ব পালনের সুযোগ আমি পেয়েছি। এরপর এলো পাক্ষিক শনিবারের সকাল। পজিটিভ ভাবনা, অণুপ্রেরণীয় আদর্শ, স্রোতের প্রতিকূলে থেকে সবকিছু আমূল পাল্টে দেয়ার গল্পে ভরা এই পাক্ষিক আমার নিজেরই ভালো লাগে। সর্বশেষ বিনোদনের সঙ্গে সংযুক্তি। আরো বাড়লো দায়িত্ব। ততদিনে অবশ্য আমি অনেক সহকর্মী বেছে নিতে পেরেছি। প্রথমে তানভীর আহমেদ Tanvir Ahmed Hamlet। এরপর শাকীর এহসানুল্লাহ Shakir Ahsanullah। তারও বেশ কিছুদিন পর আবদুল কাদের Johan Kader, তানিয়া তুষ্টি Tusti Ali আর সাইফ ইমন Saif Emon। এখন আর আমি একা নই। এরা প্রত্যেকেই প্রতিটি কাজের সমান অংশীদার। বিনোদন টীমের আলী আফতাব Ali Aftab Bhuyan, আলাউদ্দিন মাজিদ Aladin Mazid, পান্থ আফজালও Pantho Afzal বাদ পড়বে না। কৃতজ্ঞতা ফ্রিল্যান্স টিমের প্রতিও। একে রাসেল AK Rasel, সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি Sadia Islam, নেওয়াজ রাহুল Ahmed Newaz, শিশির জাহাঙ্গীর@Shishir Jahangir, সামির খান বিল্লাল Samir Khan Billal, রাফিয়া আহমেদসহ Rafia Ahmed আরো অনেকের সহযোগিতা না থাকলে এভাবে কাজ করতে পারতাম না।
    আমার সম্পাদকের কাছে আমার দায় আর কৃতজ্ঞতা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। তাকে আমি সবচেয়ে বেশি জালিয়েছি। তিনিও ভালোবাসা বিলিয়েছেন দু’হাত ভরে। তার প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা।
    ফিচার বিভাগের অন্য সহকর্মীদের প্রতিও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শেখ মেহেদী হাসান Sk. Mehedi Hasan আছেন, আছেন অনলাইন ইনচার্জ শামছুল হক রাসেল Shamsul Huq Rasel। আর বাকীদের কথা নাইবা বললাম।
    নিজের ঘর মূল সংসার হলে, আমার দ্বিতীয় সংসার বাংলাদেশ প্রতিদিন। প্রিয় কাগজ ভালো থাকুক। আরো সফল হোক আগামীর দিনগুলো।

    লেখক: সিনিয়র সাব এডিটর বাংলাদেশ প্রতিদিন


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669