• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আমার রাজনৈতিক হাতেখড়ি আবুল হাশেম রানার হাতে, সংগীতে মিল্টন খন্দকার- মনির খান

    হাবিব মোস্তফা | ০২ জুলাই ২০১৮ | ৪:০০ অপরাহ্ণ

    আমার রাজনৈতিক হাতেখড়ি আবুল হাশেম রানার হাতে, সংগীতে মিল্টন খন্দকার- মনির খান

    মনির খান বাংলা সংগীতাঙ্গনে কোটি শ্রোতার হৃদয় জয় করা-সর্বজন শ্রদ্ধেয় একটি কণ্ঠস্বরের নাম।তার প্রতিটি গান এদেশের মানুষের মন জয় করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পৌঁছে গেছে।ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত অনারম্ভর সহজ সরল-সাদা সিধে জীবন যাপন করেন।সংগীতে শতভাগ সফল মনির খান ইতিমধ্যে সাংস্কৃতিক নেতা হিসেবেও বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন।একজন দিলদরদী মানুষ হিসেবে মানুষের দু:খ কষ্টে তিনি অবুঝ শিশুর মত কেঁদে উঠেন।তাইতো তার জন্মস্থান ঝিনাইদহ’র আপামর জনগনের দাবী মনিরখানকে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে পেতে চায়।
    অত্যন্ত বিনয়-কুসুম কোমল হৃদয়ের অধিকারী মনির খানের জীবনের এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে দুটি ব্যক্তির কথা শ্রদ্ধার সাথে তিনি সব সময় অকপটে স্বীকার করেন।তারা হলেন: বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক আবুল হাশেম রানা এবং প্রখ্যাত গীতিকার-সুরকার মিল্টন খন্দকার।সম্প্রতী জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংস্কৃতিকর্মীদের একটি সংহতি সমাবেশে বিশেষ অতিথীর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মনির খান বলেন, আমি শুরুতেই আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাই।আমার সংগীত ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে শ্রদ্ধেয় সংগীত ব্যক্তিত্ব মিল্টন খন্দকারের হাত ধরে।আমার অনেক জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।এদেশের গানপাগল কোটি কোটি মানুষের মনে আমার স্থান এই মিল্টন খন্দকারের কারনেই হয়েছে।আর আমার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গুরু হিসেবে সারাটি জীবন যার কাছে আমি ঋণী থাকবো তিনি হলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক আবুল হাশেম রানা।একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তার হাত ধরেই আমার রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করা-বেড়ে উঠা এবং আজকের এই অবস্থানে আসা।আমার ক্যারিয়ারে রানা ভাইয়ের অবদান কোন দিনও শোধ করার মত নয়।তিনি নিজের পরিবারের সদস্যের মত আমাকে সব সময় আগলে রেখে, দিক নির্দেশনা দিয়ে আমার সুদৃঢ় রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে দিয়ে মানুষের সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছেন।রানা ভাইয়ের কাছে আমার আজন্ম ঋণ”।


    আগ্রহী পাঠকদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি,বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে আবুল হাশেম রানা অতি পরিচিত এক নাম।সংস্কৃতিবান্ধব সংগঠকের প্রতিচ্ছবি তিনি।১৯৯২ সালে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি দেশের সকল গুনী শিল্পীদের সংস্কৃতির বিকাশ এবং পাশাপাশি কোমলমতি শিশু কিশোরদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির বীজ বপনে কাজ করে যাচ্ছেন।
    জিসাস প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্য:
    ১. স্বদেশ সংস্কৃতির বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ ও অনুসরণ করা।
    ২. অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে দেশীয় নিজস্ব সংস্কৃতিকে রক্ষা করে বিশ্ব দরবারে তা পৌছে দেয়া।
    ৩. হারিয়ে যাওয়া বিলুপ্ত প্রায় লোক ঐতিহ্যের অনুসন্ধান, তার পরিচর্যা ও নিরাপদ রক্ষনাবেক্ষন।
    ৪. দুস্থ অসহায় শিল্পীদেরকে যথাযথ সাহায্যের মাধ্যমে বাঁচিয়ে তোলা।
    ৫. গুনী শিল্পীদেরকে জীবদ্দশাতেই তাদের প্রাপ্য যোগ্য মর্যাদা প্রদান করা।
    ৬. প্রয়াত শিল্পীদের জন্ম মৃত্যু দিবসে স্মরণ সভা করে নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের সৃষ্টিকর্ম পৌছে দেয়া।
    ৭. শিশু কিশোর কোমলমতি শিল্পীদের মনের সুপ্ত কুড়ি জাগিয়ে তুলে আত্ম পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করা।


    জিসাস প্রতিষ্ঠাকালীন যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে শতভাগ। আবুল হাশেম রানা আব্দুর রহমান বয়াতি, আব্দুল জাব্বার সহ দুস্থ শিল্পীদেরকে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা সেবার আয়তায় এনেছেন।

    গুণী শিল্পীদের সম্মান প্রদর্শনে জিসাস সর্বদা অগ্রনী ভূমিকা পালন করে। জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) কর্তৃক প্রদত্ত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্মাননা ‘জিয়া স্বর্ণপদক’ ১৯৯২-২০১৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত দেশ বরণ্য চলচ্চিত্র শিল্পীরা হলেন:
    অভিনেতা: আনোয়ার হোসেন,খলিলুল্লাহ খান, আরিফুল হক, রাজীব, এটিএম শামসুজ্জামান, আনিস, দিলদার,টেলি সামাদ, মিশা সওদারগর, নাদের খান, ইলিয়াস কোবরা,সুরুজ বাঙ্গালী, হারুন কিসিঞ্জার, ডিপজল, জ্যাকি আলমগীর।
    অভিনেত্রী: আনোয়ারা, সুজাতা, শর্মিলী আহমেদ, খালেদা আক্তার কল্পনা, রিনা খান, নাসিমা খান, শারমিন, রেবেকা সুলতানা কেয়া, শর্বরী দাশ গুপ্তা, নাসরিন, শবনম পারভীন।
    চিত্র নায়িকা: ববিতা, দিতি, অঞ্জনা, নতুন, শাহনাজ, মুক্তি, পপি, শাবনুর, মৌসুমী, শিমলা, শিল্পী, তামান্না, ঝুমকা, কাঞ্চি, সোহানা, রঞ্জিতা, ময়ূরী, অপু বিশ্বাস।
    চিত্র নায়ক: জাবেদ, ইলিয়াস কাঞ্জন, মান্না, শালমান শাহ, ওমর সানী, রিয়াজ, অমিন হাসান, আমিন খান, ইমরান, শাকিব খান, মাসুদ শেখ প্রমুখ।
    জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) কর্তৃক প্রদত্ত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্মাননা ‘জিয়া স্বর্ণপদক’ ১৯৯২-২০১৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত দেশ বরণ্য সংগীত শিল্পীরা হলেন:
    রুনা লায়লা, আঞ্জুমান আরা বেগম, আ: জব্বার, আপেল মাহমুদ, বশির আহমেদ,শাহনাজ রহমতুল্লাহ, শবনম মুস্তারী,দিলরুবা খান, ফেরদৌস ওয়াহিদ, খুরশীদ আলম, ফাতেমা তুজ জোহরা,কনক চাপা, বেবী নাজনীন, আসিফ, মনির খান, আখি আলমগীর, রক্সি, রিজিয়া পারভীন, ফরিদা পারভীন, মমতাজ, মেহেরীন, জহির আলীম, পলাশ, আব্দুর রহমান বয়াতী,কুদ্দুস বয়াতি, সোনা মিয়া বয়াতি, কল্যানী ঘোষ, নাসিমা দেওয়ান প্রমুখ।
    •লালন, হাছন, আব্দুল আলীম, আব্বাস উদ্দিন, শাহ আব্দুল করিমের মত সাধক শিল্পীদের জীবনী ও কর্মের উপর আলোচনা অনুষ্ঠান করে নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের কর্মকে পৌছে দিচ্ছেন।
    •কাজী নজরুল ইসলাম, আল মাহমুদ, ফররুখ আহমদ, কাজী মোতাহের হোসেন প্রমুখ সাহিত্যিকদের জীবন দর্শন ও কর্মের উপর গবেষণা মূলক বই, ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছেন।
    •তারকা শিল্পীদের সম্পৃক্ততা করে বৃক্ষরোপন কর্মসূচিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
    •স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহন করে আর্ত মানবতার সেবায় এগিয়ে আসছেন।
    •বন্যা, ঘূর্নিঝড়ের মত প্রাকৃতিক দূর্যোগে পর্যান্ত সহায়তা নিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাড়াচ্ছেন।
    •বিজাতীয় সংস্কৃতির হাত থেকে নিজেদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে বাচানোর জন্য জনসমর্থন আদায়ে মানব বন্ধন করছেন।
    •সর্বোপরি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শকে বাংলার ঘরে ঘরে আনাচে কানাচে পৌছে দেয়ার জন্য তিনি নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।
    এই কর্মকান্ড চালাতে গিয়ে তিনি কোন অপশক্তির কাছে মাথা নত করেননি কখনো, কারো হুমকি ধমকিতে ভীত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেননি।আবুল হাশেম রানা ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন সফলতার সাথে, বিএনপির পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাংস্কৃতিক উপকমিটির অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
    তিনি বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন ‘সাপ্তাহিক ধানের ছড়া’ পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে স্বদেশ সংস্কৃতির বিকাশ ও দলীয় কর্মকান্ডের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন নিয়মিত।তিনি লাভ করেছেন দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের ভালোবাসা।বিশেষ করে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিল্পী, লেখক তথা সংস্কৃতী সেবীদের তিনি জাতীয়তাবাদী চেতনার ছাতাতলে একত্রিত করেছেন অত্যন্ত সফলতার সাথে।
    সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অবদানের জন্য বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন পদকে ভূষিত হয়েছেন। তার মধ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে ‘শ্রেষ্ঠ সংগঠক পদক’, ‘বাবিসাস এ্যায়ার্ড’, ‘টেলিভেশন দর্শক ফোরাম এ্যাওয়ার্ড’, ‘ভাষাণী স্মৃতি পদক’, ‘ডা. মিলন সংসদ পদক’, ‘চিরন্তন বাংলাদেশ স্বর্ণপদক’, ‘ফ্রেন্ডস একাডেমী পদক’ সহ বিভিন্ন পদকে ভূষিত হোন।
    দেশে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটানোর স্বপ্নে বিভোড় শিল্পী তৈরীর কারিগর আবুল হাশেম রানা ও কণ্ঠশিল্পী মনির খানের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673