শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

আমি তোষামদ করতে পারি না, এটা আমার ব্যর্থতা: মেজর (অব.) হাফিজ

  |   শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ | প্রিন্ট  

আমি তোষামদ করতে পারি না, এটা আমার ব্যর্থতা: মেজর (অব.) হাফিজ

দলের কারণ দর্শাও নোটিশের কারণে সাম্প্রতিককালে আলোচিত হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। নোটিশের জবাবে তিনি যা বলেছেন তাতে তার দল সন্তুষ্ট হয়েছে। ফলে আপাতত তার বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিএনপি। আলাপকালে এসব বিষয়ের পাশাপাশি সমকালীন রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
প্রশ্ন : দেশে তৃতীয় শক্তির গুজব হলেই আপনার নাম আসে কেন?
হাফিজ : বাংলাদেশের লোক গুজব পছন্দ করেন। তাছাড়া সামরিক বাহিনীর কেউ না থাকলে এই গুজব ঠিক জমে না। তাই আমাকে জড়িয়ে কেউ কেউ মজা পায়। আবার ইউটিউবের বদৌলতে কিছু কিছু ঘটনা বেশ ছড়িয়েছে। কিছু লোক তৃতীয় শক্তির জন্য চেষ্টাও করে থাকতে পারে। শওকত মাহমুদ আছে কি না জানি না। কারণ সেও আমার ফোন ধরে না। তবে বিএনপির অন্য কেউ নেই। গণঅভ্যুত্থান ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে সরকার পতনে আমি বিশ্বাসী নই।
প্রশ্ন : তাহলে আপনাকে কারণ দর্শানোর কারণ কী?
হাফিজ : আমি সেদিন মুক্তাঙ্গনে ছিলাম না। হয়তো কেউ বড় নেতাদের কান ভারী করেছে। আমি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। বাসা থেকেই বের হই না বহুদিন। ১০০, ২০০, ৫০০ লোক জড়ো হয়ে কিছু করল, আর ওখানে গিয়ে আমি যোগদান করলাম; আমি তো সেরকম নই। গোপনে নয়, যা কিছু করি প্রকাশ্যে। আমি মনে করি, দুই লাখ লোক নিয়ে বিএনপি মাঠে নামলে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে। কারণ দুই লাখ নামলে এর সঙ্গে আরো মানুষ আসবে। এরকম কোনো ঘটনা হলে আমি আছি। কিন্তু ওইদিন তো সেরকম লোকসমাগম হয়নি।
প্রশ্ন: ওরকম পরিস্থিতি কি সম্ভব বাংলাদেশে?
হাফিজ : সম্ভব। আর এটা না পারলে বিএনপির এত বড় দল হয়ে লাভ কি! তবে এ ধরনের ঘটনা সংগঠিত করার জন্য বড় ধরনের একজন নেতার দরকার। যার কথায় লোকজন ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার এই যোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু এখন অসুস্থ হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন : তাহলে বিএনপিতে ওই ধরনের নেতৃত্বের এখন অভাব?
হাফিজ : তার পরও আমি বলব, কোনোক্রমে ঘর থেকে সবাই বের হতে পারলে এটা সম্ভব। তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি লাগবে। যারা নামবেন তাদের বিশ্বাস থাকতে হবে যে, বিজয় অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু যদি মনে করে যে, শুধু পুলিশের গুলি খেয়ে ফিরতে হবে তাহলে কেউ নামবে না।
প্রশ্ন: কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলন তো গত এক যুগে সফলতা পায়নি…
হাফিজ : সরকার প্রচণ্ড অজনপ্রিয়। কিন্তু অনুপ্রাণিত করার অভাবের কারণে মানুষ রাজপথে নামছে না। তাছাড়া কর্মীরা মনে করে, বিএনপির কিছু নেতা অনেক টাকা-পয়সা বানিয়ে ফেলেছে। ছাত্র নেতাদেরও বড় বড় গাড়ি। ফলে আন্দোলনে যার জীবন দেওয়ার কথা সে মনে করে আমার জীবন দিয়ে লাভ কি! তাছাড়া আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি ভালো কিছু দিতে পারবে বলে সমাজের অনেকে এখনো কনভিন্স নয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো ডেডিকেশন জাগিয়ে তুলতে পারিনি। এই না পারাটা আমিসহ সবার নেতৃত্বের ব্যর্থতা।
প্রশ্ন : এক যুগেরও বেশি সময় বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। এই পরিস্থিতির জন্য কারা দায়ী?
হাফিজ : এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া কঠিন। গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সরকার ধ্বংস করেছে এটাও যেমন ঠিক। পাশাপাশি ক্ষমতায় থাকার সময় আমাদের সরকারেরও কিছু ঘাটতি ও ব্যর্থতা ছিল।
প্রশ্ন : দলের ওপরে আপনার ক্ষোভ আছে বলে মনে হয়…
হাফিজ : কিছুটা থাকতেই পারে। ২২ বছর ধরে একই পদে আছি। আমি ভাইস চেয়ারম্যান থাকার সময় মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ অনেকেই যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এখনকার স্থায়ী কমিটির দুই-একজন তখন দলেই আসেনি। তখনকার ১৫ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম ও কামাল ইবনে ইউসুফসহ ১৩ জনই মারা গেছেন। জীবিতদের মধ্যে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা দলের বাইরে আছেন। প্রমোশন ছাড়া একমাত্র আমিসহ দুই-একজন দলে পড়ে আছি।
প্রশ্ন : আপনার প্রতি এই অবিচারের কারণ কী?
হাফিজ : কারণ আমি তোষামদ করতে পারি না। এটা আমার ব্যর্থতা। তা ছাড়া দুই-এক সময় সত্য কথা মুখ থেকে বেরিয়ে যায়।
প্রশ্ন: কিন্তু বিএনপি নেতারা মনে করেন, এক-এগারোর সঙ্গে না থাকলে আপনিও স্থায়ী কমিটিতে থাকতেন…
হাফিজ : এটা তারা ঠিক বলেন। তবে স্বীকার করতেই হয়, সেনাবাহিনীর প্রতি আমার একটা দুর্বলতা রয়েছে। কারণ এই সেনাবাহিনী আমরাই তৈরি করেছি। ফলে এক-এগারোর সময় সেনাবাহিনীর অফিসাররা যখন বাসায় এসেছেন সেটাকে এড়িয়ে যেতে পারিনি। তার আগ পর্যন্ত আমি কখনো মান্নান ভূইঁয়ার বাসায়ও যাইনি। সংস্কারের পক্ষে স্বাক্ষর করা ১০৫ জন এমপির মধ্যেও আমি ছিলাম না। তবে সংস্কার প্রস্তাব ঘোষণার সময় আমিসহ দুই-একজন মান্নান ভূইয়ার বাসার ওপরে ছিলাম।
জড়িত হওয়ার কাহিনী বলি। মান্নান ভূঁইয়ার সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপনের আগে ব্রিগেডিয়ার বারী ও আমিনসহ কয়েক জেনারেল আমার বাসায় এসে বলেন, স্যার আপনারা এই সেনাবাহিনী তৈরির সঙ্গে জড়িত। আমরা একটা ভালো কাজে নেমেছি। দুর্নীতি রোধ করে দেশটাকে ঠিক করতে চাই। আপনি আমাদের সঙ্গে থাকেন। এরপর তারাই ফোন করে মান্নান ভূঁইয়াকে আমার বাসায় নিয়ে আসেন। আমিও এম কে আনোয়ার, কামাল ইবনে ইউসুফ এবং ওসমান ফারুককে ফোন করে ডেকে নিয়ে আসি। সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে মান্নান ভূঁইয়া দেখান। আমরা চারজন তখন মতামত দেই যে, ‘একই ব্যক্তি দুই টার্মের পরে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেবেন না’ এই জায়গাটা পরিবর্তন করতে হবে। এখানে বলতে হবে যে দুই টার্মের পরে বিষয়টা কাউন্সিল ঠিক করবে। অর্থাৎ যাতে বেগম জিয়াকে মাইনাস না করা হয় এবং তিনি নেতৃত্বে থাকতে পারেন এমন ব্যবস্থার প্রতি জোর দিই আমরা।
আমাদের চাপে মান্নান ভূঁইয়া রাজি হলেন। কিন্তু প্রস্তাবের ড্রাফটতো সেনাবাহিনী করে দিয়েছিল। ওসমান ফারুককে ওই ড্রাফট সংশোধন করার দায়িত্ব দেওয়া হলো। কিন্তু ঘুম থেকে দেরি করে ওঠায় তিনি মান্নান ভূঁয়ার বাসায় গেলেন ১টার পরে। ততক্ষণে ওই ড্রাফট চূড়ান্ত হয়ে গেছে। মান্নান ভূঁইয়া তখন বললেন, দুই টার্মের ওই জায়গাটা তিনি মুখে বলার সময় সংশোধন করে দেবেন। সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপনের দিন এম কে আনোয়ার আমার বাসায় এসে জানতে চাইলেন প্রস্তাবে দুই টার্মের জায়গাটা সংশোধন হয়েছে কি না। আমি বললাম যে, ওসমান ফারুক যেতে দেরি করেছে। তবে মান্নান ভূঁইয়া বলেছেন, প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় তিনি মুখে ওটি ঠিক করে দেবেন। ঝানু রাজনীতিক এম কে আনোয়ার এই ঘটনার পরে আর মান্নান ভূঁইয়ার বাসায় গেলেন না। তবে সেনাবাহিনীকে কথা দেওয়ার কারণে আমাকে যেতে হলো।
গুলশানের বাসার নিচে মান্নান ভূঁইয়া সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করলেন। আমি সেখানে না গিয়ে বাসার ওপরে ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মান্নান ভূঁইয়া সেটি সংশোধন ছাড়াই উপস্থাপন করলেন। ওই দিনই একটি টকশোতে আমি এর প্রতিবাদ জানিয়ে বললাম, দুই টার্মের বিষয়ের সঙ্গে আমি একমত নই। খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার পক্ষে আমি নই। যাই হোক, সেনাবাহনীর চাপে ওই ঘটনায় জড়াতে হয়েছিল।
প্রশ্ন : তাহলে ওই ঘটনায় জড়িত হওয়া রাজনৈতিক ভুল ছিল?
হাফিজ : এটাকে কেউ ভুল মনে করলে ভুল, শুদ্ধ মনে করলে শুদ্ধ। তবে আমি গেছি বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য। কিন্তু এক-এগারোওয়ালারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। বিএনপির ১০০ জন এমপির কপাল পুড়েছে এটি সত্যি।
প্রশ্ন: একই ধরনের ঘটনা ঘটলে এখনো কি আপনি যাবেন?
হাফিজ : এখনো তো আমি বিএনপির নেতা। বিএনপিতেই আছি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না। এমনকি বিএনপি আমাকে বিদায় না করলে বিএনপিও ছাড়ব না। কারণ দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাকে ভালো জানেন। তা না হলে এক-এগারোর পরে তিনি আমাকে দলে রাখতেন না। মনোনয়নও পেতাম না।
প্রশ্ন : কিন্তু এটাতো ঠিক যে, ওই ঘটনার পর দলের বিভাজন আজও দূর হয়নি…
হাফিজ : বিভাজন দূর না হওয়ার জন্য মূলত তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দায়ী। আমার ও খোন্দকার দেলোয়ারের একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে সব বিভাজন দূর করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে আমাদের বলার কথা ছিল যে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং খোন্দকার দেলোয়ার আমাদের মহাসচিব। কিন্তু প্রথমবার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের বাসায় সে উদ্যোগে কথা দিয়েও আসেননি খোন্দকার দেলোয়ার। বেগম জিয়ার নির্দেশে এর পরের বার ড. ওসমান ফারুকের বাসায় এক বৈঠক হয়। সেখানে ওসমান ফারুক ছাড়াও আমি ও সাদেক হোসেন খোকা যাই। বিগেডিয়ার হান্নান শাহ, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ওই পক্ষ থেকে যোগ দেন। ছয়জনের বৈঠকে পরের দিন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান করার সিদ্ধান্ত হয়। শেরাটনে রুমও ভাড়া করা হয়। দেলোয়ারকে ফোন করে হান্নান শাহ সব জানান। খালেদা জিয়ার নির্দেশনার কথাও তিনি বলেন। কিন্তু একগুঁয়ে মহাসচিব জানালেন তিনি যাবেন না। এরপর ফোন আমি হাতে নিয়ে বললাম, দেলোয়ার ভাই আপনি আমার নেতা। আপনিই মহাসচিব এটাও আমি সংবাদ সম্মেলনে বলব। কিন্তু তিনি আসেননি। সেদিন দেলোয়ার ভাই এলে আজকের এই বিভাজন থাকত না। এ ঘটনার সাক্ষি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এখনো জীবিত আছেন।
প্রশ্ন: সংস্কারপন্থী অংশের মহাসচিব হতে স্বেচ্ছায় রাজি হয়েছিলেন?
হাফিজ : ওই সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনী নিয়েছিল। বিদ্রোহ করলে আমাকে কারাগারে যেতে হতো। সবাই প্রেসারে ছিলাম। যেখানে জিয়াউর রহমানের ছেলেকে হেনস্থা করা হয়েছে এবং খালেদা জিয়াকে জেলে ঢুকানো হয়েছে সেখানে অন্য কিছু করা কঠিন ছিল। তাই চুপ করে ছিলাম। সাইফুর রহমানকেও জোর করা হয়েছিল। তবে সংসদের উপনেতা হতে না পারায় তিনি মান্নান ভূঁইয়া বিরোধী ছিলেন। তিনিই তখন আমাকে মহাসচিব করার শর্তে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হতে রাজি হয়েছিলেন। মহাসচিব করার ঘটনা আমার জানা ছিল না। ২৯ অক্টোবর আমার জন্মদিন ছিল। ওই বৈঠকের কথা আমি জানতামও না।
প্রশ্ন : কারণ দর্শানোর নোটিশের পর বিএনপির কেউ সহানুভূতি দেখিয়েছে?
হাফিজ : জবাবের পর স্থায়ী কমিটির একজন নেতা ফোন করে বলেছেন, আপনি তো হিরো হয়ে গেছেন। মধ্যম পর্যায়ের দুজন নেতা সংবাদ সম্মেলন না করার অনুরোধ করেছিলেন। আমি তাদের বলেছি, শোকজ প্রকাশিত না হলে সংবাদ সম্মেলনেরও প্রয়োজন হতো না। এই ঘটনা কেউ জানতোই না।
প্রশ্ন: পরবর্তী আর কোনো ব্যবস্থা?
হাফিজ : না। আমার জবাবের পর দল আর কিছু জানায়নি। বল এখন তাদের কোটে। অবশ্য কারণ দর্শানোর জবাবের পর স্থায়ী কমিটিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের চারদিক থেকে যে রিঅ্যাকশন পেয়েছি তাতে আমি অভিভূত। তারা সবাই আমার প্রশংসা করেছেন বলে শুনেছি। এ ঘটনায় দলের প্রতি আস্থা ও নেতাদের প্রতি সম্মান আরো বেড়ে গেছে। যথেষ্ট বয়স হয়ে গেছে। কারো বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে চাই না।
প্রশ্ন : তার অর্থ বিএনপি দলীয় নেতাদের সম্মান দিতে জানে?
হাফিজ : সম্মান নেই একথা বলব না, তবে এক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি আছে। যেমন গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজমের মতো মানুষ ২০০১ সালে পাবনা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ইসরাইলে চারটি প্লেন ধ্বংস করেছিলেন এবং আমেরিকানদের র‍্যাকিংয়ে বিশ্বের ২০ জন পাইলটের মধ্যে একজন ছিলেন। তার নামে জর্ডানে ও ইরাকে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এরকম মানুষকে বিএনপি কাজে লাগায়নি।
প্রশ্ন : শোকজ নিয়ে রিজভী আহমেদের সঙ্গে আপনার কোনো আলাপ হয়েছে?
হাফিজ : না। তবে রিজভী তো ভালো লেখেন। কিন্তু শোকজটা ওভাবে কেন দিলেন জানি না। হয়তো ওপরের কোনো চাপ ছিল। অথবা তোষামোদকারীদের কেউ খসড়া চাপিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন : কোনো পরিস্থিতিতে বিএনপি ছাড়ার সম্ভাবনা আছে?
হাফিজ : বিএনপি আমাকে অসম্মান না করলে দল ছাড়ব না। সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দল ছাড়ার প্রস্তাব অনেক আগেই ছিল। বেগম জিয়াকেও এ ঘটনা আমি জানিয়েছি। তাছাড়া মন্ত্রী তো বেগম জিয়াই আমাকে করেছেন।
প্রশ্ন : মুক্তিযোদ্ধাদের কোণঠাসা করার জন্য একটি মহল সক্রিয় বলতে বিএনপির কাদের বুঝিয়েছেন?
হাফিজ : এটা সার্বিক অর্থে বুঝিয়েছি। আমি এখনো ওই বক্তব্যে অটল আছি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সম্মুখযোদ্ধার সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তবে বিএনপিতে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এখনো বেশি।
প্রশ্ন : তাহলে জামায়াতের এখনো জোটে থাকার ঘটনাকে কীভাবে দেখেন?
হাফিজ : ভোট এবং রাজপথে শক্তির জন্য জামায়াতের হয়তো প্রয়োজন আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে আমরা আবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকা তো স্বাভাবিক।
প্রশ্ন : আপনার দৃষ্টিতে বিএনপির ভবিষ্যৎ কী?
হাফিজ : জনগণের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন থাকার কারণে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিশ্চয়ই আছে। তবে এই দলের ছাত্র ও যুব ফ্রন্টকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত থেকে তাদের পরিবর্তিত হতে হবে। দলের নেতৃত্বকেও জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিবর্তিত হতে হবে। আমাদেরকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে সেট হয়ে অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে হবে। দুর্নীতিবাজদের দল থেকে বাদ দিতে হবে।
প্রশ্ন : কারামুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া বাসায় এবং তারেক রহমান লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে। এ অবস্থায় আপনার কাউন্সিল করার দাবি কতটুকু সঙ্গত?
হাফিজ : বিএনপির যেহেতু জেলা কমিটিসহ সব কমিটি রয়েছে। রমনা পার্ক বা যেকোনো খোলা ময়দানে কাউন্সিল করা সম্ভব। এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো। কাউন্সিল যেভাবেই হোক না কেন; বিএনপির নেতৃত্ব জিয়া পরিবারের হাতেই থাকবে। অন্য কারো হাতে নেতৃত্বে গেলে এই দল রক্ষা করা কঠিন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এই দলে অপরিহার্য। কাউন্সিলে ভোটে গেলে খালেদা জিয়া অথবা তার অবর্তমানে তারেক রহমানই চেয়ারম্যান হবেন। তবে দুর্নীতিগ্রস্ত ও দুই নম্বর কিছু লোক দল থেকে বাদ যাবেন।

Facebook Comments Box


Posted ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০