• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আম কিনতে যা জানা জরুরি

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ০৯ জুন ২০১৭ | ১:১১ অপরাহ্ণ

    আম কিনতে যা জানা জরুরি

    ফল কিনতে গিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। অপরিপক্ক ফল পাকানো হচ্ছে কেমিকেল দিয়ে। ফলে তাতে থাকছে না প্রয়োজনীয় পুষ্টি। থাকছে না স্বাদ। উপরন্তু কেমিকেল শরীরে ঢুকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করছে। কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে? এক্ষেত্রে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিমুনাফা প্রবণতা যেমন দায়ী, তেমনি দায়ী ক্রেতাদের লাগামহীন চাহিদা। একইসঙ্গে সচেতনতার অভাব। যে ফলটি শ্রাবন মাসে পাকবে সেটি আষাঢ় মাসে কেনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে রাজি অনেক ক্রেতা। সুযোগটা নিয়ে নেন মুনাফালোভী ফড়িয়া, ব্যবসায়ীরা। ফলে বাজারে চলে আসে কেমিকেল দিয়ে পাকানো অপরিপক্ক ফল।


    বাজারে ইতিমধ্যে আম-রাজত্ব শুরু হয়ে গেছে। আপেল, কমলা, আনার, নাশপাতিরা এখন পাত্তা কিংবা পাত পাচ্ছে কম। হুড়মুড় করে সব আম বাজারে ঢুকে পড়লেও অভিজ্ঞতা বলছে একটা আমসূচি থাকা দরকার। সেই কাজটি করেছেন আম গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী। ‘কোন আমটি কখন খাবেন’—শিরোনামে তিনি একটি বই-ই লিখে ফেলেছেন। উদ্দেশ্য, রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম থেকে ভোক্তাকুলকে রক্ষা করা।

    ajkerograbani.com

    বইয়ের ভূমিকায় মাহবুব সিদ্দিকী লিখেছেন, ফলমূল কিনতে গিয়ে ভোক্তারা বেশ কয়েক বছর ধরে বিষ-আতঙ্কে ভুগছেন। এমনকি চাল, ডিমের মতো পণ্য কিনতে গিয়েও সন্দেহে ভোগেন। প্রতি মুহূর্তে প্রতারিত হওয়ার আতঙ্ক মানসিক চাপ তৈরি করছে। লেখক বলছেন, ‘বাঙালি হয়ে জন্মেছি। ফল তো আমাদের খেতেই হবে। শুধু স্বাস্থ্যের দিক ভেবে নয়, মৌসুম ফল খাওয়া আমাদের জনঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশও বটে।’

    মাহবুব সিদ্দিকীর ‘কোন আমটি কখন খাবেন’ বইটি এ বছর (২০১৭) বইমেলায় প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। এতে দেশের জনপ্রিয় ও ব্যবসায়িকভাবে সফল কয়েকটি জাতের আম সম্পর্কে দেওয়া বর্ণনা বেশ আগ্রহ উদ্দীপক। লেখক ২০১৫ সালের ২৭ মে ভোক্তাদের জন্য আম খাওয়ার দিনক্ষণ জানিয়ে একটি নিবদ্ধ লিখেছিলেন প্রথম আলোয়। ওই নিবদ্ধটিই এই বইয়ের উৎস।

    আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল হলেও উৎপাদন ও বাণিজ্যের দিক থেকে আম এগিয়ে আছে। এই আমের মৌসুম থাকে পাঁচ মাস। এর মধ্যে জুন ও জুলাই মাস থাকে রমরমা। এখন বাণিজ্যক ভিত্তিতে ২৫ জাতের আম উৎপাদন হয়, বাজারে আসে। তবে অতি উন্নত জাতের আম আছে মাত্র দশটি। আম ভোক্তা হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের প্রথম কাতারের, সন্দেহ নেই। কিন্তু সঠিক আমটি সঠিক সময়ে খাওয়ার বিষয়ে তাদের সচেতনতা যথেষ্ট নয়। নিজের স্বাস্থ্যের জন্য তো বটেই, পরিবারের অপর সদস্যদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নির্ভর করছে ক্রয়সংক্রান্ত সতর্কতা ও সচেতনতার ওপর।

    আগাম জাত, মধ্য মৌসুমি জাত এবং নাবি জাত—মোটা দাগে এই তিন ভাগে বিভক্ত বাংলাদেশের আম। মধ্য মে থেকে জুনের মাঝামাঝি সময়ে পাকে আগাম জাতের আম। এর মধ্য উল্লেখযোগ্য হলো গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, রানীপছন্দ, বৃন্দাবনি, গুলাবখাশ ও বারি-১। মধ্য জুন থেকে পাকতে শুরু করে মধ্যমৌসুমি আম। এগুলোর মধ্যে প্রধান হলো ল্যাংড়া। পাশাপাশি আসে লক্ষণভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাত, খুদিক্ষীরশা, হাঁড়িভাঙ্গা, বোম্বাই, সূর্যপুরি, বারি-২ ইত্যাদি। আর জুলাইয়ের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাকে এবং পাওয়া যায় নাবি জাতের আম যেমন—ফজলি, আম্রপালি, মোহনভোগ, গৌড়মতি, বারি-৪, আশ্বিনাসহ কয়েক জাতের আম।

    মোদ্দা কথা, যে আমগুলো বাজারে দেখা যাচ্ছে সেগুলো প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা মেনে নির্দিষ্ট সময়ে পুষ্ট হচ্ছে, পাকছে। আমাদের বাগানিরা যদি এটা জেনে এবং মেনে গাছ থেকে আম পাড়েন তাহলে ভোক্তারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারতেন। বাণিজ্যিক মনস্তত্ত্বের কারণে সেটা যেহেতু হচ্ছে না ফলে এগিয়ে আসতে হবে ভোক্তাদের। তাঁরা যদি সময়টা জেনে-বুঝে আম কেনেন, তাহলে বদলে যেতে পারে বর্তমান বাজারচিত্র। তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757