মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আরেক মহামারি মোকাবিলা করতে যাচ্ছে বিশ্ব

  |   রবিবার, ২০ জুন ২০২১ | প্রিন্ট  

আরেক মহামারি মোকাবিলা করতে যাচ্ছে বিশ্ব

জলবায়ু সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে পানি ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় জরুরি ব্যবস্থা না নিলে শিগগিরই ‘খরা’ নামে আর একটি মহামারির কবলে পড়বে বিশ্ব। জাতিসংঘের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
‘স্পেশাল রিপোর্ট অন ড্রট ২০২১’ শীর্ষক জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শতাব্দীতে বিশ্বের অন্তত ১৫০ কোটি লোক খরার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সময়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি ধরা হয়েছে ১২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী এ ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি হতে পারে ।
জাতিসংঘ মহাসচিবের দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলা বিষয়ক প্রতিনিধি মামি মিজুতোরি জানিয়েছেন, খরা এমন এক সম্ভাব্য মহামারি হিসাবে ধেয়ে আসছে, যার কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার সম্ভব হবে না। কিন্তু ততদিনে ভূমি অবক্ষয় এবং ফলন হ্রাসের কারণে ধুঁকবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ।
তিনি জানান, আফ্রিকার মরু অঞ্চলগুলোতে এ ধরনের জলবায়ুর প্রবণতা বেশি। রিপোর্ট বলছে, খরা এমনভাবে বাড়ছে যে, শতাব্দীর শেষ দিকে মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশ ছাড়া বাকি দেশগুলো ভয়াবহ খরায় কবলিত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খরা, দারিদ্র্য, খাদ্য ও পানির সংকটে বিশ্বের প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের জীবন প্রভাবিত করছে। আর এ মরুকরণের ফলেই দিনে দিনে বেড়ে চলেছে পরিবেশগত অভিবাসীর সংখ্যা। এমনটাই মনে করছেন পরিবেশবিষয়ক অলাভজনক সংস্থার কর্ণধার ডেনিজ অ্যাটাক।
বিশ্ব খরা ও মরুকরণ প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার্কিশ ফাউন্ডেশন ফর কমব্যাটিং সয়েল ইরোশন-এর প্রধান নির্বাহী এই কর্মকর্তা জানান, ভূমিক্ষয়ের ফলে খাদ্য উৎপাদন কমেছে ১১ শতাংশ। বনায়ন ও প্রাকৃতিক বাসস্থান সংরক্ষণের জন্য কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠান।
তিনি বলেন, ভূমিক্ষয় জমির উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। এটি জীববৈচিত্র্য হ্রাস করে, কার্বন নিঃসরণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। জলাভূমিসহ প্রকৃতির যাবতীয় বাস্তুতন্ত্র পরিষেবায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শুষ্ক অঞ্চলগুলোতে ভঙ্গুর বাস্তুসংস্থান রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব অঞ্চলই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খরা বাড়বে এবং তা আরো তীব্র রূপ নেবে।
গত বুধবার জেনেভায় প্রকাশিত জাতিসংঘের শরণার্থী এজেন্সি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী সংঘাত, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে বাধ্য হয়ে শরণার্থীর সংখ্যা গত দশকের চেয়ে এ বছরের শেষের দিকে তা বেড়ে দ্বিগুণ হবে। তবে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানায় এ সংখ্যা হতে পারে ৮ কোটি ২৪ লাখের বেশি।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, করোনা মহামারির কারণে এ বছরেও আরো তিন লাখ মানুষ বাধ্য হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হওয়া মোট সংখ্যার ৭০ শতাংশ শুধুমাত্র ৫টি দেশ থেকে। সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমার।

Facebook Comments Box


Posted ৪:২৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২০ জুন ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০