বুধবার ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল রোমাঞ্চের অপেক্ষা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ০৮ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল রোমাঞ্চের অপেক্ষা

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা; দুটি শব্দের মাঝে লুকিয়ে শত আবেগ, আনন্দ রোমাঞ্চ আর ভালোলাগা। সেই ভালোলাগা আরও বেড়ে যায়, যখন দুই শব্দ পাশাপাশি বসে!

কাউকে যদি স্বপ্নের ফাইনালের দুটি দল বেছে নিতে বলা হয়, চোখ বন্ধ করে সিংহভাগ লিখবেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। অন্তত এ দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনের বড় অংশজুড়ে দুই দেশের নাম। যার শুরু আশি-নব্বইয়ের দশকে। স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ছিলেন পেলে। সেই যে ব্রাজিলের ‘কালো মানিকের’ প্রেমেপড়া। এরপর ৮৬’র বিশ্বকাপ। আরেক ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনায় বুঁদ হওয়া। এরপর ধুম পড়ে লাতিন ফুটবল দেখার; একটা সময় আটকেও যায় এর মায়াজালে। আজ যখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়, তখন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে ফুটবলের রং। শুরু হয় ক্ষণগণনা, অপেক্ষা। আর ম্যাচটা যদি কোনো কারণে ফাইনাল হয়ে থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। এই যেমন কোপা আমেরিকায় আবার দেখা হচ্ছে দু’দলের। ১১ জুলাই রিও ডি জেনেরিওর মারাকানা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ফুটবলের দুই দর্শকনন্দিত দেশ।


তিন দিন বাকি, তবু উত্তাপের পারদ আকাশসম। পাড়া-মহল্লায় শুরু জল্পনা-কল্পনা। হবে না কেন? এমন ফাইনাল কয়েক বছরেও আসে না। যেখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার প্রীতিম্যাচগুলো একেকটি ক্ল্যাসিকো, সেখানে ফাইনালের রোমাঞ্চ কতখানি হতে পারে, তার অনুমান করাও কঠিন।

২০০৭ সালে সর্বশেষ কোপা আমেরিকার ফাইনালে একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। এরপর আরও ১৫ বার দেখা হয় তাদের। কোনোবারই লড়াই কম হয়নি। তবে ফাইনাল যে ফাইনালই। সেবার আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করে ব্রাজিল। ১৪ বছর পর একই প্রতিযোগিতায় আবারও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। শুধু কোপা আমেরিকা নয়, ২০০৭ সালের পর বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে এটাই তাদের প্রথম সাক্ষাৎ। ফাইনালের হিসাবের খাতায় ১৪টি বছর পার করে আসা দু’দল এক বিন্দুতে মিললেও নেই আগের মতো। বদলেছে দল, এসেছে পরিবর্তন।


এখনকার ব্রাজিল দারুণ ছন্দময়, আক্রমণাত্মক। পেরুকে সেমিতে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে এবার। আর্জেন্টিনারও অনেকখানি পরিবর্তন। তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে উজ্জীবিত লিওনেল স্কালোনির ছাত্ররা। শুরুতে কিছু ভুল, এরপর গোছানো আক্রমণ, সময় যত যায় তত বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠা। বর্তমান দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের মধ্যে এমন ডিএনএর দেখাই বেশি মিলছে। বুধবার কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে তারা। এ নিয়ে ২৯ বারের মতো কোপার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। আগের ২৮ বারে ১৪ বার জেতে শিরোপা। ব্রাজিলের ট্রফির পাল্লাটা আর্জেন্টিনার চেয়ে একটু হালকা। এবারের আগে কুড়িবার ফাইনালে উঠেছিল সেলেকাওরা। যার মধ্যে ৯ বার হয় চ্যাম্পিয়ন। কোপা আমেরিকায় এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ৩৩ বার। যেখানে আর্জেন্টিনার জয় ১০ ম্যাচে, ব্রাজিলের ১৫। সব প্রতিযোগিতা মেলালে আর্জেন্টিনার জয়ের সংখ্যাটা হবে ৪০, ব্রাজিলের ৪৬।

পরিসংখ্যান কিন্তু ব্রাজিলের পক্ষে। শুধু তাই নয়, আরেকটা ইতিহাসও ব্রাজিলকে দিতে পারে বাড়তি তৃপ্তি। এবারের আগে মোট পাঁচবার কোপার আয়োজক হয়েছিল ব্রাজিল, পাঁচবারই শিরোপা থাকে তাদের কাছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ের ম্যাচগুলোর ময়নাতদন্ত বলছে, আর্জেন্টিনাও কম যাবে না। দু-একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিস্কার হয়ে যাবে। গ্রুপ পর্বে ইকুয়েডর কঠিন পরীক্ষা নেয় ব্রাজিলের। যেখানে টেনেটুনে পাস মার্কস তোলেন নেইমাররা। সেই ইকুয়েডর ৩-০ গোলে উড়ে যায় আর্জেন্টিনার কাছে। এ ছাড়া কলম্বিয়ার সঙ্গে জিততে অনেক বেগ পেতে হয় ব্রাজিলের। অবশ্য আর্জেন্টিনাও সেমিতে ঘাম ঝরিয়েছে। সুযোগ নষ্ট আর মিসের মহড়ায় ১-১ গোলে করেছে ড্র। এরপর টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার গোলকিপার ইমিলিয়ানো মার্টিনেজের বীরত্বে কাঙ্ক্ষিত ফাইনালের দেখা পায় দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ফুটবলের দুই ‘দৈত্যে’র যুদ্ধে তাই কাউকে ফেভারিটও বলা যায় না। অতীত ইতিহাস হয়তো কোথাও ব্রাজিলকে এগিয়ে রেখেছে, কোথাও একটুখানি আর্জেন্টিনাকে। তফাৎ আবার উনিশ-বিশ। সে জন্য ‘অনির্দেশ্য’ এই ফাইনাল নিয়ে এতটা আগ্রহ, উত্তেজনা। তার ওপর যখন দুই দলে থাকেন লিওনেল মেসি-নেইমারের মতো মহাতারকা, তখন এমনিতেই জাগে শিহরণ। ক্লাব ফুটবলে যারা কিনা লম্বা সময় ছিলেন বার্সেলোনায়। খেলেছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। দুই বন্ধুর এবার দেখা হবে ভিন্ন আঙিনায়, ভিন্ন মঞ্চে। তবে এবার একসঙ্গে উদযাপন নয়। যদিও মারাকানার শিহরণে আর্জেন্টিনার কিন্তু ভয় পাওয়ার কথা। কারণ, যে মাঠে সোনালি ট্রফির অনেক কাছে গিয়েও ছোঁয়া হয়নি তাদের। হ্যাঁ, ২০১৪ বিশ্বকাপের কথাই বলছি। তুমুল ফেভারিট আর্জেন্টিনা সেবার মারাকানার গ্র্যান্ড ফিনালেতে লিখেছিল দুঃখের কাব্য। এবার অন্তত তেমনটার পুনরাবৃত্তি চাইবে না তারা। ব্রাজিলও ইতিহাস বদলানোর কথা চিন্তা করবে না। ১৪ বছর আগে যে প্রতিযোগিতায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হৃদয় ভেঙে উৎসবে মেতেছিল; ৭২ ঘণ্টা পর নিজেদের উঠোনে সাম্বার তালে আরেকটা উচ্ছ্বাস হোক- সেটার অপেক্ষায় এখন তিতের শিষ্যরা।

Facebook Comments Box

Posted ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১