• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আলফাডাঙ্গার আদর্শ কাঞ্চন মুন্সী

    | ০৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

    আলফাডাঙ্গার আদর্শ কাঞ্চন মুন্সী

    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রাম একটি আদর্শ গ্রামের নাম। একটি ফুল যেমন রুপ রং আর গন্ধে প্রকাশিত করে তার সৌন্দর্য। তেমনি কামারগ্রাম পরিপূর্ণ তার গুণে।


    আজকের এই কামারগ্রাম কিন্তু একদিনে এই স্থানে আসেনি। যে মানুষটির হাত ধরে আজকের কামারগ্রাম গৌরবের সাথে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে সেই মানুষটির নাম কাঞ্চন মুন্সী।

    ajkerograbani.com

    এই মানুষটি শুধু স্বপ্ন দেখাননি স্বপ্নকে বাস্তব রুপ দিতে যা যা করণীয় তিনি তা করেছেন। মানুষের পাশে থেকে তাদের দুঃখ কষ্টকে নিজের করে নিয়ে প্রমাণ করেছেন মানুষ মানুষের জন্য।

    এই মানব দরদী মহান পুরুষ ১৮৮০ সালের ৫ই মে আলফাডাঙ্গার কামারগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০ বছর বয়সে কাঞ্চন মুন্সী কাজের সন্ধানে পাড়ি জমান কলকাতায়। কলকাতার পোর্ট শিপিং কোম্পানিতে প্রথমত তিনি খালাসীর চাকুরী নেন। পরবর্তীতে তিনি এই পোর্ট শিপিং কোম্পানির ম্যানেজার হন। এই কোম্পানির আরো একটি শাখা এন্ডরোল কোম্পানি। এই এন্ডরোল কোম্পানিরও ম্যানেজার ছিলেন কাঞ্চন মুন্সী।

    কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি বেতন পেতেন মাসিক ৫০০ টাকা। এন্ডরোল কোম্পানির ৯০০ ফ্লাট বোট ছিল ও ৪২ খানা তিনতলা জাহাজ ছিল। এই জাহাজগুলির মালিক ছিলেন চার্লি কিংহাম এবং তার পুত্র কিংহাম এবং প্রধান ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মিঃ হ্যাজমল। এই জাহাজ গুলি তখন বাংলা আসাম চলাচল করত। এসব জাহাজে কর্মরত ছিল ৩৫ হাজার শ্রমিক। এই ৩৫ হাজার শ্রমিকের বেতন নিতে হত কাঞ্চন মুন্সীর হাত থেকে। এখান থেকে বোঝা কতটা সৎ এবং নিষ্ঠাবান হলে এত বড় দায়িত্ব পাওয়া যায়।
    ইংরেজ সাহেবদের সাথে যোগাযোগ ঠিকমতো করার জন্য ইংরেজি ভাষা জানাটা খুব দরকার ছিল কাঞ্চন মুন্সীর নিজের ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমে শিখে নেন ইংরেজি ভাষা।

    কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টার ফলেই তিনি হতে পেরেছিলেন ধনসম্পদের মালিক। এই ধন সম্পদের মালিক হয়ে মুন্সী সাহেব হয়ত নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারতেন কিন্তু সেটা করেন নি তিনি। সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করেছেন গ্রামের মেহনতি খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে। যে অবদান আজও লক্ষ করা যায় কামারগ্রামে গেলে।

    কামারগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী, ফজলার রহমান দাতব্য চিকিৎসালয়, মুন্সী বাড়ি মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ময়দান, খেলার মাঠ, গোরস্থান, জলদীঘিসহ অনেক কৃতি এই মহান মানুষের সৃষ্টি।

    এখন কামারগ্রামকে উন্নয়নের আমরা মডেল বলছি এই মডেলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন কাঞ্চন মুন্সী। তৎকালীন সময়ে তার জাহাজ কোম্পানিতে নিজ এলাকার প্রায় ১ হাজার মানুষকে কে চাকুরী দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে। আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে তিনি যদি এই অবদান না রাখতেন তাহলে কামারগ্রাম হয়তবা বাংলাদেশের আর দশটা অবহেলিত গ্রামের মতই থেকে যেত।

    কলকাতায় কাঞ্চন মুন্সী
    কাজের সুবাদেই কাঞ্চন মুন্সীকে কোলকাতা থাকতে হতো।কলকাতার মিশন রোডে মুন হাউস নামে পরিচিত ৭ তলা ভবন রয়েছে এছাড়াও কলকাতাতে আরও অনেক বাড়ি ছিল তাঁর ।কলকাতার দম দম রোডের বাড়িতে তিনি স্থায়ী ভাবে বসবাস করতেন। এই বাড়িতে তৎকালীন সময়ের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আসতেন তাঁর সাথে দেখা করতে।

    বাংলাদেশের খুলনা ও ঢাকাতে কাঞ্চন মুন্সীর বাড়ি রয়েছে। ঢাকার শ্রেষ্ঠ বাড়ি “রুপলাল হাউস” তিনি কিনেছিলেন।পরবর্তীতে বাড়িটি তাঁর মেয়েকে দান করে দেন।

    এই মহান মানুষটি ১৯৪৮ সালে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করেন। কাঞ্চন মুন্সীর শেষ ইচ্ছা ছিল কামারগ্রামে একটি থানা প্রতিষ্ঠা করবেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি ঢাকা যান কিন্তু লক্ষ্য বাস্তবায়নের আগেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঢাকার রুপলাল হাউসে অবস্থানরত অবস্থায় ১৯৫০ সালের ৪ঠা জানুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    মৃত্যুর পর তাঁকে বিমান যোগে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতায় শত শত মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কলকাতার গোবরডাঙ্গা গোরস্থানে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

    কাঞ্চন মুন্সীর মতো সৎ ধর্মপ্রাণ মানুষ হয়ত আর ফিরে আসবেন না কামারগ্রামের মাটিতে। কিন্তু তাঁর সৃষ্ট অবদানের মাঝে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

    বর্তমানে কাঞ্চন মুন্সীর নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন”। কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন সারা বছরই মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে। ইতোমধ্যে আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালীর প্রায় ১০ হাজার মানুষের চোখের চিকিৎসা, সহস্রাধিক মানুষের ছানি অপারেশন, সহস্রাধিক বেকার তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের উপযোগী করে তোলাসহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা বঞ্চিতদের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

    কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের সাথে জড়িত সবাইকে আমাদের পক্ষ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন এজন্য যে কাঞ্চন মুন্সী কে স্মরণীয় করে রাখতে আপনারা এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছেন।

    পরিশেষে বলতে চাই কাঞ্চন মুন্সীর আদর্শকে আমরা যদি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে কাঞ্চন মুন্সীর স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখতে পারি তাহলেই তাঁর প্রতি হবে আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757