• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আলেম সমাজের করণীয়

    মুহিউসসুন্নাহ আল্লাম মাহমূদুল হাসান | ৩০ মে ২০১৭ | ৫:৫২ অপরাহ্ণ

    আলেম সমাজের করণীয়

    এ কথা সবারই জানা যে, দেশের সাধারণ আলেম সমাজ কোন দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত নন। ইসলাম ও মুসলমানের স্বার্থে তারা ধৈর্য্য-সবর ও সাধারণ জীবনযাপন করে থাকেন। আল্লাহ, রাসূল, কোরআন, সুন্নাহ তথা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির বিরুদ্ধে জঘন্যতম কটূক্তি ও অবমাননার প্রতিবাদে সোচ্ছার হওয়া আলেম সমাজের ধর্মীয় কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকা তাদের পক্ষে সমীচীন নয়। এ ধরনের মারাত্মক অন্যায়ের নিন্দা ও প্রতিবাদ করা প্রতিটি মুসলমানেরও ঈমানি দায়িত্ব। এ বিষয়ে সরকার, বিরোধীদল ও আপামর সকল মুসলমানই সমান দায়িত্বশীল। স্বভাবতই আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার নিয়মতান্ত্রিক নিন্দা ও প্রতিবাদ দেশ ও জাতির জন্য রহমত ও ক্ষমা প্রাপ্তির কারণ এবং আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা পাওয়ার উসিলাস্বরূপ। এ ধরনের মারাত্মক অন্যায় রোধ করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে প্রতিহত করা সরকারের কাজ। সরকার এ কাজ সঠিকভাবে করলে আল্লাহর রহমত ও দয়া লাভ করবে। বিশেষ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা সমুন্নত করা যে কোন দেশের সরকারের জন্যেই সৌভাগ্যের বিষয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে বেয়াদবি বা কটূক্তিকে সমর্থন ও প্রশ্রয় দেয়া মানে নিজেকে চিরস্থায়ী ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া। আল্লাহ প্রতিটি মুসলমানকে এধরনের মহাঅন্যায় থেকে হেফাজত করুন। কেননা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে শত্রুতাপোষণের অবধারিত পরিণাম হচ্ছে দুনিয়ায় করুণ পরিণতি আর আখেরাতে দুঃখময় জাহান্নাম।


    সরকারি ও বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দকে একটি কথা সবসময় মাথায় রেখে চলতে হবে যে, ধর্মপ্রাণ জনসাধারণের আস্তা ও ভালবাসায় চলা মসজিদ, মাদ্রাসা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানসমূহকে যেন তারা দলীয় রাজনীতির কাজে জড়িত করার চেষ্টা না করেন। আলেম-উলামা, ইমাম-খতীব, মুয়াজ্জিন ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা যেন দলীয় চাপ থেকে মুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে দীনের খেদমত করে যেতে পারেন। দীনি ও ঈমানি আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তারা যেন মুক্তমনে নিজেদের নীতি-আদর্শ মোতাবেক অংশ নিতে পারেন। সরকারি চাপ, মিডিয়ার অপপ্রচার, রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ও বিরোধী কোন পক্ষের হীন কৌশলের শিকার না হন। অতীতে অরাজনৈতিক ঈমানি আন্দোলনে স্বার্থের রাজনীতি ঢুকে যাওয়ার ফলে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেসব থেকে যেন প্রত্যেকেই শিক্ষা গ্রহণ করেন। উলামায়ে কেরামেরও কর্তব্য অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো, আকাবিরের প্রজ্ঞা ও হিকমত ব্যবহার এবং এক গর্ত থেকে দুইবার দংশিত না হওয়া।

    ajkerograbani.com

    মুসলিম জনসাধারণের উচিত সব সময়ের মতোই মসজিদ-মাদ্রাসার সাথে সুসম্পর্ক বৃদ্ধি করা। ইসলাম ও মুসলমানের কল্যাণচিন্তায় নিজেকে নিবেদিত রাখা। দোয়া, মুনাজাত, সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শকে সমুন্নত রাখা। হাফেজ, আলেম ও মাদ্রাসার ছাত্রদের নিজের পিতা, ভাই ও সন্তানের মতো সম্মান ও স্নেহ করা। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের দীনি শিক্ষায় উৎসর্গ করা। আল্লাহর পথে যে কোন ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকারের জন্য তৈরি থাকা। কিছু বালা-মুছিবত বিষাদ ও শঙ্কা ছাড়া আল্লাহর নিকট বড় কোন মর্যাদা এবং পরকালে উচ্চাসন লাভ সহজ নয়। যুগে যুগে নবী-রাসূল, পীর-মাশায়েখ ও হক্কানী আলেমগণের জীবন থেকে এ কথারই প্রমাণ পাওয়া যায়।

    সরকার আলেম সমাজ ও মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতি অতীতের মতোই সদয় এবং সহানুভূতিশীল থাকবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা। নিরপরাধ আলেম, হাফেজ ও দীনদার নাগরিকের বিপক্ষে সরকারের কোন ভূমিকা মানুষ আশা করে না। সরকারও ধর্মীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমর্থন ও সহায়তা কামনা করেন। এ ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টির বিকল্প নেই। আলেম সমাজ ও সরকারের মধ্যকার সুসম্পর্ক এবং সহমর্মিতার পথ তৈরি করার কাজে সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। আলেম সমাজকে আশ্বস্ত করতে হবে। দমন, পীড়ন, অপপ্রচার, সন্দেহ ও শঙ্কার পথ পরিহার করে প্রজ্ঞার পথে অগ্রসর হতে হবে।

    উলামায়ে কেরামকে নিজেদের মান-মর্যাদা অনুযায়ী নীতি-আদর্শ নিষ্ঠা ও সততার উপর দৃঢ় থাকতে হবে। কোন প্ররোচনা বা ক্ষুদ্র চিন্তার বশবর্তী হয়ে দীনের ক্ষতি করা যাবে না। মসজিদ-মাদ্রাসা ও খানকার পরিবেশে আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস, আস্তা ও ভরসা নিয়ে হিম্মতের সাথে কাজে লেগে থাকতে হবে। তওবা, ইস্তেগফার, তিলাওয়াত, দোয়া-মুনাজাত অধিক বিনয় ও নম্রতার সাথে তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজ সর্বক্ষেত্রে সুন্নতের উপর নিখুঁতভাবে আমলের চেষ্টা ইত্যাদি অধিক হারে চালু করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য বর্ণিত মাসনূন আমল ও দোয়াগুলোর চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে। সর্বোপরি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বহাল রেখে প্রকৃত কল্যাণকামী ও পরীক্ষিত মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে চলতে হবে।

    সাময়িক ভুল বা বাড়াবাড়ির ফলে নিজেদের মূল সাধনা, দাওয়াত, তালীম, তারবিয়্যত ও ইসলাহে মুআশারাতের কাজ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখা চাই। উলামায়ে কেরাম ও তাদের বহুমুখী দীনি কর্মতৎপরতা অব্যাহত থাকলেই ইসলাম ও মুসলমানের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হবে। আল্লাহ ও রাসূল নির্দেশিত পস্থায় দীনের কাজ অব্যাহত রাখাই আমাদের মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের ভয় ও বিপদমুক্ত পরিবেশে কোরআন ও সুন্নাহর খেদমত অব্যাহত রাখার তাওফিক দান করুন। আমীন।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757