• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    সরকারের নজর নেই

    আল-কায়েদার তৎপরতা বাড়ছে

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক | ১২ আগস্ট ২০১৭ | ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ

    আল-কায়েদার তৎপরতা বাড়ছে

    আল-কায়েদার অনুসারী দেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠী আনসার আল ইসলাম অনলাইনে তাদের মতাদর্শ ব্যাপকভাবে প্রচার করছে। ব্লগার হত্যার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা এই গোষ্ঠীটির অনলাইন প্রচার মাধ্যমগুলোতে এখন আল-কায়েদা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি ঘোষিত ‘জিহাদের সাধারণ দিকনির্দেশনা’ও বাংলায় অনুবাদ করে প্রচার করা হচ্ছে। এই দিকনির্দেশনাকে আল-কায়েদার রাজনৈতিক অভিলাষের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞরা।


    কিন্তু আল-কায়েদাপন্থীদের এসব তৎপরতাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছে না সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা মূলত আইএস মতাদর্শ অনুসারী নব্য জেএমবিকে ঘিরে। আনসার আল ইসলামের (আগে নাম ছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) কথিত সামরিক শাখার প্রধান চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক। তাঁকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ জঙ্গিনেতা বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর বর্তমান অবস্থানের বিষয়েও পরিষ্কার কোনো তথ্য নেই কারও কাছে। জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আনসার আল ইসলাম এখন সংগঠন গোছাতে ব্যস্ত।

    ajkerograbani.com

    প্রচারণা যেমন

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যোগাযোগ অ্যাপ এবং ব্লগ সাইটগুলোতে নানা নামে পেজ খুলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে আনসার আল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টেলিগ্রামে পেজ বা চ্যানেল খুলে এসব প্রচারণা এবং নিজেদের মধ্যেও পাঠচক্র চালাচ্ছে এই গোষ্ঠী। আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতাদের দেওয়া আরবি বা ইংরেজি বক্তব্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলায় অনুবাদ হয়ে চলে আসছে এসব মাধ্যমে। আপলোড হচ্ছে ছবি এবং ভিডিওচিত্র। এর মধ্যে রয়েছে রক্তাক্ত শিশু, লাশের ছবি, পোড়া ও বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, বন্দুক হাতে কিশোর ইত্যাদি ছবি এবং বলা হচ্ছে, এগুলো সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরে মুসলমান নির্যাতনের ছবি। মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধে সবাইকে আহ্বান করা হচ্ছে জিহাদে যোগ দেওয়ার জন্য। একই সঙ্গে সোমালিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী আল শাবাব, নাইজেরিয়ার বোকো হারামের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রচুর লেখা থাকে। এ ছাড়া আল-কায়েদা নেতাদের আরবিতে দেওয়া বক্তব্য বাংলায় লিখিত ও অডিও আকারেও প্রকাশ করা হয়। এসব প্রচারণা চলছে ‘হিন্দুস্তান থেকে জেরুজালেম’, ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ ইত্যাদি নানা নামে।

    দিকনির্দেশনা

    সম্প্রতি আল-কায়েদা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি ঘোষিত জিহাদের সাধারণ দিকনির্দেশনা বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আল-কায়েদা এই অঞ্চলে যে শক্ত অবস্থান গড়তে চায়, এই দিকনির্দেশনা তারই ইঙ্গিত দেয়। তাদের এই দিকনির্দেশনা রাজনৈতিক অভিলাষের নিদর্শন।

    এই নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। আর যদি সংঘাত অবধারিত হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে যখনই সুযোগ মিলবে, তখনই তা মিটিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গেও প্রায় একই রকম আচরণ করতে বলা হয়েছে। ইসলামি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি বা আলেমদের তাত্ত্বিকভাবে মোকাবিলা করতে বলা হয়েছে, যাতে কোনোভাবে তাঁদের সম্মানহানি না হয়। অন্যান্য ইসলামি দলের সঙ্গেও মিলিয়ে চলার নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, যাতে ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য প্রতিবন্ধকতা না হয়ে দাঁড়ায়। প্রকাশ্য স্থান যেমন: বাজার, মসজিদ, সমাবেশ যেখানে মুসলমানদের জানমালের ক্ষতি হতে পারে, এমন জায়গায় বিস্ফোরণ বা হত্যা না ঘটাতে বলা হয়েছে। অন্য মুসলমানদের ক্ষতি না করতে বলা হয়েছে।

    ওই দিকনির্দেশনা পড়ে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আইএসের নীতি ছিল যতখানি শক্তি আছে, তার সবটা নিয়েই আক্রমণে নামা। তাদের শত্রু-মিত্রের ধারণাটাও অনেক সাধারণীকরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আল-কায়েদার নির্দেশনায় বলা হচ্ছে, তাদের প্রধান শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, আনসার আল ইসলাম এখন নিষ্ক্রিয় থেকে দল গোছাচ্ছে। এমনকি হোলি আর্টিজান বেকারিতে নব্য জেএমবির হামলা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনায়ও আনসার আল ইসলামের বিশ্লেষণ ছিল নেতিবাচক। তারা মনে করে, হোলি আর্টিজানে ঢালাওভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে কাজটা ঠিক করেনি। জিহাদের প্রতি এ দেশের মানুষের যে আকর্ষণ, সহমর্মিতা ছিল, সেটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে ওই ঘটনার মাধ্যমে।

    জাওয়াহিরি ঘোষিত নির্দেশনা পড়ার পর জঙ্গিবাদবিষয়ক বিশ্লেষক মো. নূর খান প্রথম আলোকে বলেন, জাওয়াহিরির বক্তব্যে একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেটি হচ্ছে, তাঁরা এখন ধর্মকে ছাপিয়ে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নতুন ধারণা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আত্মপ্রকাশের প্রচেষ্টা করছেন। আগে আল-কায়েদার বক্তব্যে ধর্মীয় দিকগুলো প্রাধান্য পেত। কিন্তু এখন যে দিকনির্দেশনা প্রচার করছে, তা সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রস্তাবের মতো। সেখানে তারা শত্রু-মিত্র খুব স্পষ্ট করে দিয়েছে।

    গায়ে লাগাচ্ছে না সরকার

    আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হচ্ছে, বাংলাদেশেও তাদের তৎপরতা বাড়ছে বলে গত ১৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের হোমল্যান্ড সিকিউরিটিসংক্রান্ত উপকমিটির শুনানিতে তথ্য দিয়েছে মার্কিন গবেষণা সংস্থা র‍্যান্ড করপোরেশন। শুনানিতে বলা হয়েছে, উপমহাদেশে চলতি বছর তারা কয়েক শ সদস্য নিয়োগ করেছে। তাদের প্রচারণা কার্যক্রম চলছে জোরেশোরে।

    অবশ্য তখন মার্কিন গবেষণা সংস্থার এই তথ্যকে উড়িয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি এ বিষয়ে ১৪ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব কিছু নয়। এগুলো তারাই বানায়। এ দেশে কোনো আল-কায়েদা নেই। ফেসবুক ও সোশ্যাল ওয়েবে কিছু পথভ্রষ্ট লোকজন লেখে। আর এগুলো দেখে তারা এসব বলে। এদের নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই।’

    গত বছর হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হয় আইএস মতাদর্শী নব্য জেএমবির বিরুদ্ধে। বিভিন্ন অভিযানে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর ৬৪ জনের মতো নিহত হন। আরও অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে গত এক বছরে আনসার আল ইসলামের তেমন কেউ গ্রেপ্তার হননি।

    ব্লগার হত্যার মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালে প্রথম আলোচনায় আসে আনসার আল ইসলাম। তখন এর নাম ছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। এই গোষ্ঠীটির সর্বশেষ হত্যাযজ্ঞ ছিল গত বছরের ২৫ এপ্রিল। ওই দিন রাজধানীর কলাবাগানে বাসায় ঢুকে সমকামী অধিকারকর্মী ও ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু মাহবুব রাব্বীকে হত্যা করে। আনসার আল ইসলাম চার বছরে এমন ১৩টি হামলা চালিয়ে ১১ জনকে হত্যা করে। আর এসব হত্যার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ (একিউআইএস) শাখা। আনসার আল ইসলাম নিজেদের একিউআইএসের বাংলাদেশ শাখা দাবি করে।

    এই গোষ্ঠীটি গত বছরের এপ্রিলের পর আর কোনো ঘটনা ঘটনায়নি। তবে হঠাৎ অনলাইনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কথা হয় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আনসার আল ইসলাম বিপর্যস্ত। তারা সংগঠন ঠিক করার চেষ্টা করছে। এর সামরিক প্রধান মেজর (চাকরিচ্যুত) জিয়া যেখানেই থাকুন না কেন, এখন সক্রিয় নেই।

    ইরাক-সিরিয়ায় আইএসের বিপর্যস্ত দশা এবং বিভিন্ন দেশে আল-কায়েদার উত্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এর কিছু প্রভাব এ দেশে পড়বে কি না? জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু না কিছু প্রভাব তো পড়বেই। যারা ঝিমিয়ে রয়েছে বা নিষ্ক্রিয়, তারা গা ঝাড়া দিয়ে উঠবে। আমরা যতই কাজ করি না কেন, বিভিন্ন ধরনের এক্সটারনাল ফ্যাক্টর, পুশ ফ্যাক্টর-পুল ফ্যাক্টরে এরা আবার সক্রিয় হতে পারে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755