• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আস্থা এবং ধৈর্য্যের সংকট- প্রয়োজন নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করা : কর্নেল অলি

    নিজস্ব প্রতিবেদক: | ২৬ আগস্ট ২০১৭ | ১২:২১ অপরাহ্ণ

    আস্থা এবং ধৈর্য্যের সংকট- প্রয়োজন নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করা : কর্নেল অলি

    ডক্টর কর্নেল অলি আহমদ, বীর বিক্রম (অবঃ), সভাপতি, এল.ডি.পি. আজ সকাল ১০:০০ টায় একটি যোগদান অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, বিগত কয়েকদিন যাবৎ আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সহিত লক্ষ্য করছি যে, মাননীয় প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রীম কোর্টকে নিয়ে অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে। যা অনভিপ্রেত, দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্খিত। বিগত বৎসরগুলিতে সংসদীয় গণতন্ত্রসহ, আমরা একে একে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছি। সমগ্র জাতি আজ অধৈর্য্য, অস্থিরতা এবং আস্থাহীনতায় ভুগছে। কারো প্রতি কেউ সামান্যতম শ্রদ্ধা ও সৌজন্যবোধ দেখাতে চায় না। ক্ষমতার মোহ এবং লোভের কারণে আমরা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছি। সবাই মনে করে নিজ নিজ জায়গায় কেউ নিরাপদ নয়। রাজনীতিবিদদের কর্মকাণ্ড দেখলে মনে হয়, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণ তাদের নিজস্ব সম্পত্তি এবং সেবাদাস। হাব-ভাব দেখলে মনে হয়, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল মনে করে, হাইকোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্ট তাদের দলের অঙ্গ সংগঠন। হুকুম মেনেই কাজ করতে হবে। তাই আজ আমাদের মধ্যে অনেকেই হাইকোর্ট/সুপ্রীম কোর্টের রায় নিয়ে মিছিল, মিটিং এবং অহেতুক সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছি। তদুপরি মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করার জন্য আলটিমেটামও দেওয়া হয়েছে। আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া হচ্ছে না। কোর্টের যে কোন রায়ে কেউ সন্তুষ্ঠ হবে বা কেউ অসন্তুষ্ঠ হবে, এটাই স্বাভাবিক। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সবসময় আইন অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। আইনে তার বিধান রয়েছে।
    জনগণের ধারণা হাইকোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্টই হচ্ছে দেশের এবং জনগণের শেষ ভরসাস্থল। এখনও পর্যন্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি জনাব খায়রুল হক ছাড়া অন্য কোন মাননীয় বিচারপতিকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সেবাদাস বলে মনে করে না। আমাদের প্রত্যাশা, সাংবিধানিক পদগুলিকে বিতর্কের উর্ধ্বে রাখতে হবে। আশাকরি মাননীয় প্রধান বিচারপতি স্ব-পদে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় নি¤œ আদালতগুলিকে ক্ষমতাসীন দল এবং সরকারের জাঁতাকল থেকে মুক্ত রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এতে করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঠিক বাস্তবায়ন হবে।
    এছাড়াও বিগত কয়েকমাস যাবৎ বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্থাগুলির পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে, জনমনে তাদের ব্যাপারে আরো সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করছে। তাদের উচিৎ এ ধরণের ভুমিকা থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখা। পত্র পত্রিকায় বক্তব্য না দিয়ে, নিজ নিজ কর্মকাÐের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
    জনগণ মনে করে, বিগত দিনগুলিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। তাদের উপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব তারা সঠিকভাবে পালন করে নাই। ক্ষমতাসীন সরকারের সেবাদাস হিসেবে কাজ করেছে এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। সর্বোপরি দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমরা আশা করব, তারা মেরুদণ্ড সোজা করে জাতির প্রত্যাশা পূরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্থাগুলির পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গের উচিত প্রতিনিয়ত বক্তব্য না রেখে, টেলিভিশনের পর্দায় চেহারা না দেখিয়ে বরং কর্মকাÐের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান এবং তাদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।
    আমাদের সকলের উচিত দালালের ভুমিকায় অবতীর্ণ না হয়ে, লোভ-লালসা ও মোহের উর্ধ্বে উঠে দেশের এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নিজকে আত্মনিয়োগ করা। অন্যথায় গণতন্ত্র, সুশাসন, সকলের জন্য সমান অধিকার এবং ন্যায় বিচার পুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। দেশ আরো কঠিন সংকটের দিকে এগিয়ে যাবে।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755