• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কমিটিতে সন্ত্রাসী, অছাত্র ও খান পরিবারের সদস্যরা

    অনলাইন ডেস্ক | ২৩ মে ২০১৭ | ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

    কমিটিতে সন্ত্রাসী, অছাত্র ও খান পরিবারের সদস্যরা

    টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের ‘খান পরিবারের পকেট কমিটি’ ভেঙে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটিতে খান পরিবার-বিরোধীদের প্রাধান্য থাকলেও এই পরিবারের অনুসারী বেশ কয়েকজনকে রাখা হয়েছে।


    ৫১ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটিতে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা, অস্ত্র এবং অপহরণ মামলার আসামি, বেশ কয়েকজন বিবাহিত এবং উপজেলা ছাত্রদলের পদ থেকে কিছুদিন আগে অব্যাহতিপ্রাপ্ত এক নেতাও স্থান পেয়েছেন। এই কমিটির বেশির ভাগই নিয়মিত ছাত্র নন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।
    গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের ডিবি পুলিশ সাংসদ আমানুর রহমান ও তাঁর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান খান মুক্তি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাঁকনসহ ১৪ জনকে আসামি করে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২২ মাস পলাতক থাকার পর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আমানুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। অন্য তিন ভাই এখনো পলাতক। ‘খান পরিবার’ নামে পরিচিত এ পরিবারের চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৫০টি মামলা হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় পুরো টাঙ্গাইল। গ্রেপ্তার বা পালিয়ে থাকলেও এ পরিবারের সদস্যদের প্রভাব জেলার রাজনীতিতে অটুট।

    ajkerograbani.com

    গত শুক্রবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত কমিটির তালিকাটি টাঙ্গাইলে প্রকাশ হয় গত শনিবার।

    পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা জানান, নবগঠিত এই কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে আতিকুর রহমান রনি ও শাকিল কবির সোহেলকে। এই দুজনই পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাঁরা খান পরিবারের অনুসারী। তাঁরা সাংসদ আমানুরের ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খানের (বাপ্পা) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বাপ্পার হয়ে তাঁরা শহরের উত্তর অংশের বেশ কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। আতিকুর রহমান রনি সন্ত্রাস জগতে কোয়াটার রনি নামে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ফটকে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর আগে রনির বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গুদামরক্ষককে অপহরণের মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ ওঠে। তখন পুলিশ রনিকে পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করে।

    শাকিল কবির সোহেল সন্ত্রাস জগতে ডন সোহেল নামে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল গোলাম আযম নামের এক টেম্পো শ্রমিকনেতাকে শহরের রেলস্টেশন রোডে গুলি করে হত্যার অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। ওই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে পটুয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটিও তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। শাকিল কবির বিবাহিত বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি। এ ছাড়া কমিটিতে স্থান পাওয়া সাজীদ খান, সজীব খানশুর, রিয়াদ হাসান, ইয়ারুফ হোসেন বিবাহিত। কমিটির পাঁচ নম্বর সদস্য এস এম জুয়েল রানা টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। পৌরসভায় মাস্টাররোলে একটি চাকরি নেওয়ায় গত ২২ আগস্ট তাঁকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, বিবাহিত, সন্ত্রাসী, অছাত্র একজনও কমিটিতে নেই। কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে তিনি জানতে চান। সুনির্দিষ্ট কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরার পর তিনি বলেন, এই আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ তিন মাস। এর মধ্যেই সম্মেলন করে এ কমিটি বিদায় নেবে।

    জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১০ সালে। ওই সম্মেলনে নাজমুল হুদা সভাপতি এবং ইসতিয়াক আহমেদ সাধারণ সম্পাদক হন। তখন জেলা ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করতেন সাংসদ আমানুরের ছোট ভাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান।

    ২০১৫ সালের ২৪ জুন সম্মেলন ছাড়াই সানিয়াতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইসতিয়াক আহমেদকে সভাপতি এবং শামীম আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিকে ‘খান পরিবারের পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে খান পরিবার-বিরোধীরা আন্দোলন শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সানিয়াত আত্মগোপনে থেকেও ছাত্রলীগে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রভাবিত করে তাঁর অনুসারীদের দিয়ে কমিটি করিয়েছিলেন। বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে ইসতিয়াক ও শামীমের নেতৃত্বাধীন কমিটির নেতারা দুই বছরের মধ্যে এক দিনও দলীয় কার্যালয়ে আসতে পারেননি। শহরে কোনো কর্মসূচিও তাঁরা পালন করতে পারেননি। ‘আন্দোলনরত ছাত্রলীগ’ ব্যানারে খান পরিবারের বিরোধীরা ছাত্রলীগের কর্মসূচি পালন করতেন।

    ২ মে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান ঢাকায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাকের ন্যাম ফ্ল্যাটের বাসায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকেই জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির তালিকা ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে জমা দেন তাঁরা। পরে জেলার কয়েকজন সাংসদ কিছু নাম দেন ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে।

    ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতারা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দু-একজন নেতা এবং জেলার বিভিন্ন আসনের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে এই কমিটি দিয়েছেন। এসব নেতা ও সাংসদ একনিষ্ঠ কর্মীদের বাদ দিয়ে তাঁদের আত্মীয়স্বজন এবং অনুগতদের নাম দিয়েছেন। এ সুযোগে খান পরিবারের অনুসারী দু-একজন সাংসদ কিছু লোককে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন।

    পদবঞ্চিত নেতা মনির সিকদার বলেন, ঘোষিত কমিটিতে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এখানে অন্য দলের লোক এবং অছাত্র ঢুকে পড়েছে।

    টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, তাঁরা যে খসড়া কমিটি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জমা দিয়েছিলেন, সেখানে কোনো সন্ত্রাসী বা অছাত্রের নাম দেওয়া হয়নি। অন্য কোনোভাবে হয়তো এরা ঢুকে পড়েছেন। এঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757